জয়পুরহাটের কালাইয়ে বাঁশের গোড়ালির আঘাতে ছেলের হাতে বাবা খুন হয়েছেন। ওই ঘটনায় বাবাকে বাঁচাতে গিয়ে মা ও বোনও গুরুতর আহত হয়েছেন।
শনিবার (১৪ মার্চ) সন্ধ্যা ৬টায় উপজেলার পুনট ইউনিয়নের বফলগাড়ি গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। জনতা অভিযুক্ত ছেলেকে আটক করে পুলিশে দিয়েছে। খবর পেয়ে সহকারি পুলিশ সুপার (সার্কেল) মো. তুহিন রেজা রাতেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
নিহত আক্কাস আলী (৫৫) বফলগাড়ি গ্রামের বাসিন্দা। আহতরা হলেন মা আবেদা বিবি ও বোন সাবানা বেগম। অভিযুক্ত ছেলে গোলাপ হোসেন (৩২)। এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন কালাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত ছেলে গোলাপ হোসেন তার বাবা আক্কাস আলীর কাছে কয়েকদিন ধরে একটি মোটরসাইকেল কিনে দেওয়ার দাবি করে আসছিলেন। বাবা অস্বীকৃতি জানানোর পর গোলাপ হোসেন ক্ষিপ্ত হয়ে শনিবার ইফতারের পূর্ব মুহূর্তে নিজ বাড়িতে প্রথমে বাঁশের গোড়ালি দিয়ে মারপিট শুরু করেন। পরে দা ও চাকু দিয়ে আক্কাস আলীকে এলোপাতাড়ি আঘাত করতে থাকেন।
একপর্যায়ে বাবা মাটিতে পড়লে মা আবেদা বিবি ও বোন এগিয়ে আসেন। তখন গোলাপ হোসেন তাদের দু’জনকেও মারপিট করতে থাকেন। চিৎকারে প্রতিবেশীরা এগিয়ে এসে গোলাপকে আটক করে এবং তিনজনকে উদ্ধার করে প্রথমে কালাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। চিকিৎসকরা তাদের শারীরিক অবস্থার গুরুতরতার কারণে তড়িঘড়ি করে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করেন। পথে বগুড়ার মোকামতলা নামক স্থানে আক্কাস আলী মারা যান। মা ও বোনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
স্থানীয়দের ভাষ্য, গোলাপ হোসেন দীর্ঘদিন ধরে মানসিক ভারসাম্যহীনতায় ভুগছেন। তাকে পাবনা মানসিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। সেখান থেকে আসার পর কিছুটা সুস্থ ছিলেন, কিন্তু গত কয়েকদিন ধরে আবার অস্থিরতা শুরু হয়েছে। এলাকার লোকজন তাকে ‘পাগল গোলাপ’ হিসেবে জানেন।
প্রতিবেশী বাবলু হোসেন বলেন, “গোলাপ আসলেই পাগল। তার বাবা কয়েকদিন আগে কয়েক শতক জমি বিক্রি করেছে। সেই টাকা দেখে গোলাপ মোটরসাইকেল কিনতে চেয়েছে। বাবার অস্বীকৃতির কারণে এই ঘটনা ঘটেছে। আসলে তাকে চিকিৎসা দেওয়া প্রয়োজন।”
কালাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম নিশ্চিত করেছেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযুক্ত গোলাপ হোসেনকে জনতার হাত থেকে উদ্ধার করে থানায় গ্রেফতার করেছেন। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য আগামী রবিবার জয়পুরহাট জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হবে।
কেকে/এলএ