কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলায় ঈদের কেনাকাটা করতে স্বামীর সাথে বাজারে এসে প্রাণ গেছে এক গৃহবধূর। হলুদ-মরিচ ভাঙানোর মেশিনের চেইনের সাথে বোরখা পেঁচিয়ে ও চাকার ভিতরে ঢুকে তার নির্মম মৃত্যু ঘটেছে।
রোববার (১৫ মার্চ) দুপুর ১২টা ১৫ মিনিটে উপজেলার দাউদকান্দি পৌরবাজারে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত শাহিনা আক্তার (৩৫) দাউদকান্দি সদর উত্তর ইউনিয়নের গোলাপেচর গ্রামের সাহাবুদ্দীনের স্ত্রী।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী জানায়, রোববার দুপুর ১২টা ১৫ মিনিটে দাউদকান্দি পৌরবাজারে ঈদের কেনাকাটা শেষে হলুদ-মরিচ ভাঙাতে বাজারের মনির হোসেনের দোকানে যান সাহাবুদ্দীন ও তার স্ত্রী শাহিনা আক্তার। হলুদ-মরিচ ভাঙানোর সময় একপর্যায়ে শাহিনা আক্তারের বোরখা পেঁচিয়ে যায় মেশিনের চেইনের সাথে ও চাকার ভিতরে ঢুকে শরীর থেকে মুণ্ডু বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
সাহাবুদ্দীন বলেন, ‘আমরা হলুদ ভাঙাতে দোকানে যাই। পাশেই দাঁড়িয়েছিলো আমার স্ত্রী। এমন সময় স্ত্রীর উফ, একটি শব্দ শুনতে পাই। চোখের পলকেই এক সেকেন্ডের মধ্যে চেয়ে দেখি, আমার স্ত্রীর মাথা দেহ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে আছে। আমি তখন বাকরুদ্ধ হয়ে যাই।’
প্রত্যক্ষদর্শী ব্যবসায়ী তৌফিক রুবেল বলেন, ‘আমি দোকানের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলাম। হঠাৎ একজন মহিলা পড়ে আছে দেখে সাথে সাথে বিদ্যুতের লাইন বন্ধ করি। তখন বুঝতে পারিনি, মহিলার দেহ থেকে মাথাটা বিচ্ছিন্ন। বিষয়টি দেখে আমি হতবাক।’
নিহতের দেবর আতাউর রহমান বলেন, ‘বাজারে এসে হলুদ ভাঙার মেশিনে পেঁচিয়ে ভাবি মারা যান। তার এক ছেলে ও দুই মেয়ে রয়েছে। এই ঘটনায় আমাদের পরিবারে শোকের মাতম চলছে।’
দাউদকান্দি মডেল থানার ওসি (তদন্ত) মো. সামছুল আলম প্রধান বলেন, ‘ঘটনাটি আমাদের থানা থেকে ৩০০ গজ দূরে ঘটে। খবর পেয়ে সাথে সাথে আমরা ঘটনাস্থল থেকে মৃতদেহটি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসি ও সুরতহাল সম্পন্ন করি।’
দাউদকান্দি মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এম আব্দুল হালিম বলেন, ‘ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ মৃতদেহটি উদ্ধার করেছে। আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।’
কেকে/এসএ