গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলায় হাট ইজারাকে কেন্দ্র করে চাঁদা দাবি ও মোটরসাইকেল আটকে রাখার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।
জানা গেছে, উপজেলার দুই নম্বর কাটাবাড়ী ইউনিয়নের বোগদহ গ্রামের মো. আসাদুজ্জামান আসাদ সম্প্রতি খোলা ডাকের মাধ্যমে বাগদা হাটের ইজারা লাভ করেন। গত ১ মার্চ হাট-বাজার ইজারা টেন্ডারে তিনি সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে বাগদা হাটটি ইজারা পান। তবে এখনও তিনি সরকারিভাবে হাটটির দায়িত্ব বুঝে পাননি।
আসাদুজ্জামান আসাদের অভিযোগ,
হাটের ইজারা পাওয়ার বিষয়টি জানার পর থেকেই স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি তার কাছে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিল। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে ও তার লোকজনকে মারধর, খুন-জখম ও হাট পরিচালনায় বাধা দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়।
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) বরাবর দেওয়া অভিযোগে পত্রে আসাদুজ্জামান আসাদ উল্লেখ করেন, গত ১৪ মার্চ বিকাল চারটার দিকে বাগদা বাজারের ফিরোজ মার্কেটের সামনে তিনি তার সঙ্গীয় সাক্ষী ছোট সাতাইল বাতাইল গ্রামের মো. জাফুরুল ইসলামের সাথে মোটরসাইকেল নিয়ে অবস্থান করছিলেন। এ সময় ফিরোজ, সজিব তালুকদার, রাসেল মিয়া ও আব্দুস সালামসহ অজ্ঞাতনামা আরও ১০-১২ জন সেখানে এসে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেন।
চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তার মোটরসাইকেল টানাহেঁচড়া করে ফিরোজ মার্কেটের একটি কক্ষে আটকে রাখে। একই সঙ্গে দাবিকৃত টাকা না দিলে তাকে হাট পরিচালনা করতে দেওয়া হবে না এবং তাকে উচ্ছেদ করা হবে বলেও হুমকি দেওয়া হয়।
অভিযোগ পত্রে বলা হয়, অভিযুক্তরা প্রকাশ্যে বলেছেন, তারা সরকারি টেন্ডার, বিজ্ঞপ্তি বা ইজারা মানেন না। ঘটনাটি বাগদা বাজারের বহু লোক প্রত্যক্ষ করেছেন এবং তদন্ত হলে সাক্ষ্য দিয়ে সত্যতা প্রমাণ করা সম্ভব হবে।
এদিকে, ঘটনাটি কেন্দ্র করে উভয় পক্ষের মধ্যে এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনাও ঘটছে বলে জানা গেছে।
গোবিন্দগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোজাম্মেল হক বলেন, ‘অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
কেকে/এমএ