রংপুরের পীরগাছা উপজেলার অন্নদানগর ইউনিয়নের প্রশাসক বিজয় কুমার রায় নিজের নামে ঈদের বিশেষ ভিজিএফের ৩৭৭টি কার্ড রেখে বণ্টন না করায় ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছেন বঞ্চিত লোকজন।
রোববার (১৫ মার্চ) সকাল ১০টার দিকে কার্ডের দাবিতে ইউনিয়ন পরিষদ ঘেরাও করে কয়েক শত হতদরিদ্র বঞ্চিত পরিবার।
শনিবার (১৪ মার্চ) সন্ধ্যায় বিজয় কুমার রায়ের গত ৫ মার্চের স্বাক্ষরিত একটি রেজুলেশনের কপি পাওয়া যায়।
রেজুলেশনটির ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় স্থানীয় সচেতন মহলে নানা প্রশ্ন ওঠে।
রেজুলেশনে দেখা যায়, ইউনিয়নের জন্য বরাদ্দকৃত মোট ৪ হাজার ৭৯৭টি ভিজিএফ কার্ড বিভিন্ন খাতে বণ্টনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ইউনিয়ন প্রশাসকের জন্য ৩৭৭টি কার্ড ও ‘দলীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের’ জন্য ১ হাজার ২০০টি কার্ড বরাদ্দের উল্লেখ রয়েছে। এছাড়া ওয়ার্ডভিত্তিক বণ্টনের ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট সংখ্যা নির্ধারণ করা হয়েছে।
প্রশাসক নিজের নামে কার্ড বরাদ্দ নিয়ে বিক্রির চেষ্টা করলেও স্থানীয় শল্লার বিল আশ্রয়ণকেন্দ্রে বসবাসকারী হতদরিদ্র পরিবারগুলোর জন্য কোনো বরাদ্দ রাখা হয়নি।
বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়েছে।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, উপজেলায় ভিজিএফ কর্মসূচির আওতায় মোট ৪৮ হাজার ৩৯৭টি কার্ডের বিপরীতে ৪৮৩ দশমিক ৯৭০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে কল্যাণী ইউনিয়নে ৪ হাজার ৩৬টি, পারুল ইউনিয়নে ৫ হাজার ৯৮৬টি, ইটাকুমারী ইউনিয়নে ৪ হাজার ৮৬টি, অন্নদানগর ইউনিয়নে ৪ হাজার ৭৯৭টি, ছাওলা ইউনিয়নে ৬ হাজার ৩৮৬টি, তাম্বুলপুর ইউনিয়নে ৬ হাজার ৩৮৬টি, পীরগাছা ইউনিয়নে ৭ হাজার ৯৮টি, কৈকুড়ী ইউনিয়নে ৫ হাজার ২৮৬টি ও কান্দি ইউনিয়নে ৪ হাজার ৩৬টি কার্ড বরাদ্দ করা হয়েছে।
বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে, ভিজিএফের মতো দরিদ্র মানুষের জন্য বরাদ্দকৃত সহায়তা কর্মসূচির কার্ড বণ্টনে এ ধরনের সিদ্ধান্ত কীভাবে নেওয়া হলো। প্রকৃত উপকারভোগীরা আদৌ সেই সুবিধা পাচ্ছেন কি না।
স্থানীয়রা জানান, বিষয়টি প্রকাশ না পেলে তিনি ওই কার্ডগুলো বিক্রি করে দিতেন। তিনি একজন সরকারি কর্মকর্তা হয়ে এ ধরনের কাজ করা মোটেও ঠিক হয়নি।
কার্ড ভাগ-বণ্টনের বিষয়টি প্রকাশ হলে রোববার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে কার্ডের দাবিতে ইউনিয়ন পরিষদ ঘেরাও করে বঞ্চিত হতদরিদ্র পরিবারগুলো। পরে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আলতাফ হোসেনের আশ্বাসের প্রেক্ষিতে তারা চলে যান।
স্থানীয় সাংবাদিকরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন অন্নদানগর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি জিল্লুর রহমান।
এ সময় তিনি দৈনিক আমার দেশের পীরগাছা প্রতিনিধি হারুন অর রশিদ বাবুর সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণসহ হুমকি দেন।
ভিজিএফ কার্ড বণ্টন না করার বিষয়ে জানতে চাইলে বিজয় কুমার রায় বলেন, ‘কার মাধ্যমে বিতরণ হলো, সেটা বিষয় নয়। তবে সকলে যাতে সঠিকভাবে কার্ড পায়, সে লক্ষ্যে কাজ করছি। আমার ভুল হয়েছে। আমি বুঝতে পারিনি। আবার মিটিং করে সব সমাধান করা হয়েছে।’
আলতাফ হোসেন বলেন, ‘আমরা ইউনিয়নভিত্তিক বরাদ্দ দিয়ে থাকি। পরে ইউনিয়ন কমিটির মাধ্যমে উপকারভোগীর তালিকা তৈরি করে বিতরণ করা হয়। এ ধরনের কোনো বিষয় আমার জানা নেই।’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দেবাশীষ বসাক বলেন, ‘ভিজিএফ কর্মসূচির চাল অবশ্যই দুস্থ ও দরিদ্র মানুষের মাঝে বিতরণ করতে হবে। এভাবে কোনো ব্যক্তিগত বা অন্য কোনো খাতে ভাগ করার সুযোগ নেই। বিষয়টি জানার পর প্রশাসককে পুনরায় সভা আহ্বান করে নীতিমালা অনুযায়ী উপকারভোগী নির্ধারণ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’
কেকে/এসএ