মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬,
৯ আষাঢ় ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬
শিরোনাম: একযোগে ১৭ ডেপুটি-সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেলের পদত্যাগ      বিকল লঞ্চ থেকে ৯৯৯-এ ফোন, ৮০ যাত্রী উদ্ধার      সেপ্টেম্বর থেকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু হতে পারে: ডা. জাহেদ      সালমান শাহর লাশ উত্তোলনের আদেশ বাতিল      সুশাসন ও সংস্কার ছাড়া বাজেট বাস্তবায়ন কঠিন      দেশজুড়ে কঠোর সতর্কতা      চীনের দালিয়ানে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী      
খোলাকাগজ স্পেশাল
রংপুরে পুলিশ প্রশাসনের বিতর্কিত ভূমিকা, জনমনে চাপা ক্ষোভ
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশ: সোমবার, ১৬ মার্চ, ২০২৬, ১০:১৩ এএম আপডেট: ১৬.০৩.২০২৬ ১০:২৬ এএম
ছবি: খোলা কাগজ

ছবি: খোলা কাগজ

সদ্য সমাপ্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসনে জয়লাভ করে সরকার গঠন করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি। নানা প্রতিকূলতা, জুলুম-নির্যাতন পেরিয়ে এ জয়ের মাধ্যমে দীর্ঘ ১৯ বছর পর ক্ষমতার স্বাদ পেয়েছে দেশের অন্যতম এই প্রধান দলটি। বিষয়টি নিয়ে আনন্দের কমতি নেই নেতাকর্মীদের মাঝে। তবে এ আনন্দের মাঝে দগদগে ক্ষত হয়ে রয়েছে বৃহত্তর রংপুর অঞ্চল।
 
এ অঞ্চলের কুড়িগ্রাম, রংপুর, গাইবান্ধা এবং নীলফামারী জেলার একটি আসনেও পাস করতে পারেনি বিএনপি। কারণ হিসেবে পুলিশ প্রশাসনের নিরপেক্ষতার অন্তরালে সুকৌশলে একটি রাজনৈতিক দলকে সহযোগিতা করার বিষয়কে সামনে আনছেন স্থানীয়রা। ফলে সাধারণের ভেতর পুলিশ প্রশাসনের বিরুদ্ধে চাপা ক্ষোভ দানা বাঁধছে, যা যে কোনো সময় বিস্ফোরিত হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

স্থানীয়রা বলছেন, এ অঞ্চলে বিএনপি, আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির প্রত্যেকের প্রায় ৩০ শতাংশ করে ভোট রয়েছে। আর জামায়াতে ইসলামীর রয়েছে মাত্র ১০ শতাংশ ভোট। সেই হিসাবে বৃহত্তর রংপুর অঞ্চলে এ ধরনের ভোট বিপর্যয় হওয়ার কথা নয়। এটা শুধু সম্ভব হয়েছে পুলিশ এবং প্রশাসনের একপেশে ভূমিকার কারণে। যার ফলে নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী প্রার্থীদের মধ্যে নানা সংশয় সৃষ্টি হয়েছে। ইতোমধ্যে কয়েকটি আসনে ভোট পুনঃগণনার দাবি উঠেছে এবং কেউ কেউ হাইকোর্টে রিট পিটিশনও দাখিল করেছেন।

জানা যায়, রংপুর বিভাগের শুধু দিনাজপুর জেলা ছাড়া অন্য সাতটি জেলার পুলিশ সুপার জামায়াত ও এনসিপির সুপারিশে নিয়োগপ্রাপ্ত হয়েছিলেন এবং অদ্যবধি কর্মরত আছেন। এ ছাড়া মাঠ প্রশাসনেও অগ্রাধিকার পেয়েছেন জামায়াত-এনসিপি সমর্থিতরা। শুরু থেকেই বিএনপি এ বিষয়ে অনেকটা উদাসীন থাকায় কর্মকর্তাদের রদবদল বা পদায়নে একতরফা প্রভাব বিস্তার করেছে দল দুটি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় একাধিক রাজনৈতিক কর্মী বলেন, পুলিশ এবং প্রশাসনের এ কর্মকর্তারা ভোটের মাঠে তাদের প্রভাব বিস্তার করে এই বিশেষ পক্ষকে জিততে প্রত্যক্ষভাবে সহায়তা করেছেন। পুরো নির্বাচন প্রক্রিয়াজুড়ে বিভিন্নভাবে ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের’ সঙ্গে এসব কর্মকর্তা জড়িত ছিলেন।

তাদের ভাষ্য, ভোটের গোল সিলযুক্ত ব্যালট বাতিল করা, থানা থেকে ফলাফল প্রেরণে অনিয়ম, সিল দেওয়া ব্যালট ফেলে দেওয়া এবং প্রিসাইডিং অফিসারদের মাধ্যমে ভোটারদের একটি নির্দিষ্ট দলের পক্ষে ভোট দিতে প্রভাবিত করার মতো ঘটনা ঘটেছে। এমনকি নির্বাচনের আগে আওয়ামী লীগের কিছু নেতাকে একটি বিশেষ দলের পক্ষে কাজ করার শর্তে তাদের বিরুদ্ধে থাকা মামলা থেকে নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। প্রস্তাবে রাজি না হলে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী, সাধারণ ভোটার ও সংখ্যালঘু নেতাদের গ্রেপ্তারের ভয় দেখানো হয়েছে। এতে করে বিরোধী মতের অনেক নেতাকর্মী বাধ্য হয়ে জামায়াত-এনসিপির পক্ষে মাঠে কাজ করেছেন।

এ ছাড়া ধর্মীয় অনুভূতি ব্যবহার করে ভোটারদের প্রভাবিত করা, অর্থের বিনিময়ে ভোট কেনা, নারী ভোটারদের আবেগকে কাজে লাগিয়ে ব্ল্যাকমেইল এবং নির্দিষ্ট মতাদর্শের কর্মকর্তাদের প্রিসাইডিং, সহকারী প্রিসাইডিং ও পোলিং অফিসার হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগও করেছেন কেউ কেউ।

স্থানীয়দের রাজনীতিকদের অভিযোগ, বড় অঙ্কের টাকার বিনিময়ে পুলিশ-প্রশাসনের কিছু কর্মকর্তা একটি নির্দিষ্ট দলকে আসন জয়ে সহায়তা করেছেন। স্থানীয় ভোটারদের দাবি, রংপুর-৪ ও রংপুর-৬ আসনে পুলিশ-প্রশাসনের প্রত্যক্ষ হস্তক্ষেপে বিএনপি প্রার্থীকে জোরপূর্বক হারানো হয়েছে। নীলফামারী, কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধা জেলাতেও একই ধরনের গুঞ্জন রয়েছে। 

তবে অভিযোগকারীরা জানিয়েছেন, এসব আসনে হিন্দু কর্মকর্তাদের কোনো পক্ষকে সুবিধা দিতে দেখা যায়নি। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, রংপুর বিভাগে মাঠপর্যায়ে নির্বাচনে নিয়োজিত ৯৭ জন পুলিশ কমান্ডারের মধ্যে ৭ জন হিন্দু কর্মকর্তা রয়েছেন। এর মধ্যে ৩ জন অতিরিক্ত এসপি, ২ জন এএসপি এবং ২ জন অফিসার ইনচার্জ। উল্লেখ্য, ৬১ জন অফিসার ইনচার্জের মধ্যে মাত্র ২ জন হিন্দু।

উল্লেখ্য, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রংপুর বিভাগের ৬১টি থানায় ৩৩ জন ইন্সপেক্টর (যারা আওয়ামী লীগ আমলে এসআই হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত), ২১ জন ইন্সপেক্টর (বিএনপি আমলে এসআই হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত) এবং ৭ জন ইন্সপেক্টর (কনস্টেবল থেকে পদোন্নতি পাওয়া) অফিসার ইনচার্জ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এ ছাড়া ২৮টি সার্কেলে ২৬ জন এএসপি/অতিরিক্ত এসপি (২০১৬-২০২২ সালে আওয়ামী লীগ আমলে নিয়োগপ্রাপ্ত) এবং ২ জন এএসপি (বিএনপি আমলে এসআই হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত ও আওয়ামী লীগ আমলে এএসপি পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত) দায়িত্বে ছিলেন।

কেকে/ এমএস


আরও সংবাদ   বিষয়:  পুলিশ প্রশাসন   বিতর্কিত ভূমিকা   রংপুর  
মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

খোলাকাগজ স্পেশাল- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: kholakagojnews@gmail.com, kholakagojadvt@gmail.com

© 2025 Kholakagoj
🔝
close