লালমনিরহাট-২ (আদিতমারী-কালীগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য রোকন উদ্দিন বাবুলের নামে ভিজিএফ চালের ৩০ শতাংশ কমিশন দাবি করার একটি অডিও রেকর্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
এ ঘটনায় এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। এদিকে, অডিও ফাঁসের ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই মদাতি ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. জাহাঙ্গীর আলমকে (বিপ্লব) একটি সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
ভাইরাল হওয়া কল রেকর্ডে শোনা যায়, কালীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক শামসুজ্জামান সবুজ মদাতি ইউপি চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলমের কাছে চালের ভাগ দাবি করছেন। সবুজকে বলতে শোনা যায়, এমপি সাহেবের থার্টি পার্সেন্ট (৩০%) আপনি বুঝিয়ে দিয়েছেন? বিনা ভোটের এমপি যখন ছিল, তাদেরকে তো সুন্দরভাবে বুঝিয়ে দিয়েছেন। আমরা কিন্তু বিনা ভোটে হই নাই। আমাদের বরাদ্দ নিয়ে আপনি কীভাবে মিটিং করেন? ১০০৩টি টোকেন বুঝিয়ে দেবেন। একই বিষয়ে উপজেলা বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক বিধান চন্দ্র রায়ের সঙ্গেও ইউপি চেয়ারম্যানের আরেকটি কথোপকথন ফাঁস হয়েছে।
গ্রেপ্তার ও পরিবারের দাবি, গত বুধবার (১১ মার্চ) রাতে ইউপি চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলমকে তার নিজ বাড়ি থেকে আটক করে পুলিশ। পরে তাকে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের একটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। তবে চেয়ারম্যানের স্ত্রীর অভিযোগ, ভিজিএফ কার্ডে এমপির ৩০ শতাংশ ভাগ নিয়ে বিএনপি নেতাদের সঙ্গে তর্কের জেরেই তার স্বামীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে কালীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক শামসুজ্জামান সবুজ অডিও রেকর্ডটি তার নয় বলে দাবি করেন। তিনি বলেন, এটি আমার কণ্ঠ নয়, ওই চেয়ারম্যানের সঙ্গে আমার কোনো কথাই হয়নি। একটি মহল ষড়যন্ত্র করছে। অন্যদিকে, অপর নেতা বিধান চন্দ্র রায় এই বিষয়ে কোনো মন্তব্য না করে ফোন কেটে দেন।
লালমনিরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য রোকন উদ্দিন বাবুলকে এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি ব্যস্ততা দেখিয়ে বলেন, আমি বাইরে আছি, আপনি ওনার (সবুজ) সঙ্গে কথা বলেন।
কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শামীমা আক্তার জাহান জানান, নিয়ম অনুযায়ী ভিজিএফ চাল বিতরণের বিষয়টি স্থানীয় সংসদ সদস্যকে অবহিত করতে হয়। তবে সেখানে কোনো ‘৩০ শতাংশ কোটা’ বা ভাগ দেওয়ার নিয়ম নেই। অডিও ভাইরালের ঘটনাটিকে তিনি ‘বিব্রতকর’ বলে উল্লেখ করেন।
আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষে কালীগঞ্জ উপজেলার ৮টি ইউনিয়নে মোট ২২ হাজার ৮৬৪টি ভিজিএফ কার্ড বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে মদাতি ইউনিয়নে বরাদ্দ ৩ হাজার ৩৪৫টি কার্ড, যার প্রতিটি কার্ডের বিপরীতে ১০ কেজি করে চাল পাওয়ার কথা।
কেকে/বি