পাকুন্দিয়া উপজেলায় পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে অতিদরিদ্রদের জন্য বরাদ্দকৃত ভিজিএফ কার্ড নিয়ে বিরোধের জেরে এক ইউপি সদস্যের বাড়িতে হামলার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় বিএনপির এক নেতার বিরুদ্ধে। শুধু তাই নয়, ওই ইউপি সদস্যকে ধরে এনে দিতে পারলে ২০ হাজার টাকা পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণাও দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
গত শনিবার (১৪ মার্চ) রাতে ঘটনাটি ঘটেছে পাকুন্দিয়া উপজেলার চন্ডিপাশা ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ঘাগড়া গ্রামে। এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর সাধারণ মানুষ ও প্রকৃত দুস্থদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
ভুক্তভোগী আব্দুল হাই ওই ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ও ওয়ার্ড বিএনপির সহ-সভাপতি। অভিযুক্ত কাইয়ুম একই ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ৬ নম্বর ওয়ার্ডে ৩৬৫টি ভিজিএফ কার্ড বরাদ্দ দেওয়া হয়। এর মধ্যে ১৯০টি কার্ড দাবি করে আব্দুল হাই মেম্বারের ওপর চাপ প্রয়োগ করেন কাইয়ুম। এ নিয়ে উভয়ের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়। এক পর্যায়ে কাইয়ুম মোবাইল ফোনে মেম্বারকে প্রাণনাশের হুমকি দেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
পরবর্তীতে ২০-৩০ জনকে সঙ্গে নিয়ে অস্ত্রসহ আব্দুল হাইয়ের বাড়িতে হামলা চালানো হয় বলে জানা গেছে। স্থানীয়রা দ্রুত এগিয়ে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, ভিজিএফ কার্ড বণ্টনে আগে গোপনে অনিয়ম হলেও এখন তা প্রকাশ্যেই হচ্ছে। ফলে প্রকৃত দরিদ্ররা বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কা বাড়ছে। সরকারি নীতিমালায় স্বচ্ছতার নির্দেশনা থাকলেও বাস্তবে এখনও ‘ভাগ-বাটোয়ারা’ প্রথা চালু রয়েছে বলে তারা দাবি করেন।
স্থানীয় বাসিন্দা মোহাম্মদ খোকা মিয়া বলেন, “কাইয়ুম আমাকে ফোন করে আব্দুল হাইকে ধরে এনে দিলে ২০ হাজার টাকা দেওয়ার প্রস্তাব দেন। কারণ হিসেবে তিনি বলেন, চাওয়া ১৯০টি কার্ড না পাওয়াতেই এই বিরোধ।”
ভুক্তভোগী আব্দুল হাই মেম্বার জানান, “আমি ৩৬৫টি কার্ডের বরাদ্দ পেয়েছি। এর মধ্যে ১৯০টি দিলে সাধারণ মানুষকে কী দেব—এই প্রশ্ন করায় আমাকে হুমকি দেওয়া হয়। পরে আমার বাড়িতে হামলা চালানো হয়েছে। এখনো আমাকে ফোনে হুমকি দেওয়া হচ্ছে।” তিনি এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত ঘাগড়া ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি কাইয়ুমের সঙ্গে কথা হলে তিনি ‘খোলা কাগজকে’ বলেন, “যদি এলাকার মানুষ এসব বলে থাকে, তাহলে তাই। আর কোন কোন মানুষ বলছে, তাদের নাম উল্লেখ করেন। এলাকাটা তো অনেক বড়।”
এ বিষয়ে জানতে চাইলে চন্ডিপাশা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. শামছু উদ্দিন বলেন, “বিষয়টি আমি শুনেছি। মেম্বার আব্দুল হাইয়ের বাড়িতে গিয়ে ধাওয়া দেওয়া হয়েছে। তবে মেম্বার আমার কাছে কিছু বলেননি। চাল বিতরণ প্রায় শেষের দিকে। দলের প্রতিনিধিরা বলেছিলেন, সভাপতি, সম্পাদক ও মেম্বার—তিনজন মিলে প্রতিটি ওয়ার্ডে বণ্টন করলে কেউ বাদ পড়বে না। না হলে একজন একাধিকবার পেয়ে যায়। সেই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বণ্টন করা হয়েছে। তবে পরে দেখা গেছে, এই বণ্টন পদ্ধতি ঠিক হয়নি। ভবিষ্যতে আমার মতো করে বণ্টন করতে হবে।”
উপজেলার চন্ডিপাশা ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক বদরুল বলেন, “বিষয়টি দেখা হচ্ছে। যতটুকু ব্যবস্থা নেওয়া দরকার, ততটুকুই নেওয়া হবে।”
এ বিষয়ে কিশোরগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য ও পাকুন্দিয়া উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট মো. জালাল উদ্দিনের সঙ্গে ফোনে কথা হলে তিনি ‘খোলা কাগজকে’ বলেন, “বিষয়টি সম্পর্কে আমি অবগত নই। ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
উল্লেখ্য, আসন্ন ঈদ উপলক্ষে চন্ডিপাশা ইউনিয়নে মোট ৩ হাজার ৭৮২ জন কার্ডধারীর মাঝে ভিজিএফ চাল বিতরণ করা হচ্ছে। তবে এ ধরনের ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে। সচেতন মহলের মতে, প্রশাসনের কঠোর নজরদারি না থাকলে সরকারের এই সহায়তা প্রকৃত উপকারভোগীদের কাছে পৌঁছাবে না।
কেকে/এলএ