চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলায় দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় ৯ জনকে আটক করা হয়েছে। উদ্ধার করা হয়েছে সিটি গোল্ডের গহনা।
সোমবার (১৬ মার্চ) দিবাগত রাত দেড়টার দিকে উপজেলার পাহাড়তলী ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের চট্টগ্রাম-কাপ্তাই সংলগ্ন বদুপাড়া ইউসুফ মঞ্জিলে এই ঘটনা ঘটে।
জানা গেছে, মুহাম্মদ ইউসুফের ৬ ছেলে প্রবাসী বাবুল, মৃত মঞ্জুরুল কাদের, আনছারুল ইসলাম, সাইফুল ইসলাম, নজরুল ইসলাম, মুহাম্মদ হানিফের পরিবার বাড়িটিতে থাকেন। শবে কদরের নামাজ আদায় শেষে রাতে সকলে ঘুমিয়ে পড়েন। বাড়ির ৩ তলার সিঁড়ি রুমে একটি ছোট ফটক রয়েছে। ডাকাতরা ঢুকে নিচে নেমে মূল দরজা খুলে দেয়। মুহুর্তের মধ্যেই ঘরে ৩০-৪০ ডাকাত ঢুকে দেশীয় অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে মোবাইল কেড়ে নিয়ে পরিবারের সদস্যদের মারধর করে একটি কক্ষে নিয়ে আটক করে আলমিরাসহ আসবাবপত্র ভেঙে নগদ আড়াই লাখ টাকা, প্রায় ২৩ ভরি স্বর্ণের গহনা, ঈদের কাপড় নিয়ে যায়।
এলাকার মোহাম্মদ হানিফ বলেন, ‘শবে কদরের নামাজ শেষে আমরা পাশের মসজিদে ছিলাম। মুহাম্মদ ইউসুফের নাতি জোবায়েদ আজম মসজিদ থেকে বাড়ি ফিরে দেখতে পায় অপরিচিত কিছু লোক বাড়ির সামনে। সে দৌড়ে মসজিদের মানুষকে ডাকতে আসার চেষ্টা করলে ডাকাতরা তাকে ধরে ব্যাপক মারধর করে।’
তিনি আরও বলেন,
‘একপর্যায়ে সে কোনরকমে পালিয়ে মসজিদের মুসল্লিদের ডাকে। এতে সবাই ছুটে এলে ডাকাতরা পালিয়ে যায়। তৎক্ষণাৎ এলাকার বিভিন্ন মসজিদে ঘোষণা এবং গ্রুপে মেসেজ দেওয়ার ব্যবস্থা করি। এতে এলাকার ছেলেরা গহনাসহ একজনকে আটক করে। এ সময় টহল পুলিশ এসে জনতার সহযোগিতায় সকাল পর্যন্ত খৈয়াখালী এলাকাসহ বিভিন্ন জায়গা থেকে সাতজনকে আটক করে। পরে মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) দুপুরে ওই এলাকা থেকে আরো ২জনকে আটক করা হয়। আটককৃতরা বেশিরভাগই সিলেটের হবিগঞ্জ ও গোলাপগঞ্জের বাসিন্দা।’
প্রবাসী নজরুল ইসলামের স্ত্রী সাবিনা আকতার বলেন, ‘শবে কদরের নামাজ আদায় করে রাত ১টা ২০মিনিটের দিকে শুয়ে পড়ি। দেড়টার দিকে হঠাৎ শব্দ শুনি দরজায় কেউ আঘাত করছে। বিছানা থেকে উঠে গলিতে আসতেই ডাকাতরা ছুরি আর বটি দিয়ে গলায় ধরে। চুপ থাকতে বলে যা আছে দিয়ে দিতে বলে। নাকফুল খুলে নিয়ে আমাদের সবাইকে এক রুমের ভিতর বেঁধে আটকে রাখে। আমার জাঁর ছেলেকে মারধর করে৷ আমি বলি আমাদের মেয়েদের, বাচ্চাদের আঘাত করবেন না। তারপরও আঘাত করে। আমার দেড় ভরি স্বর্ণ ও নগদ ৭০ হাজারসহ পুরো পরিবারের অন্তত ২৩ ভরি সোনা এবং নগদ আড়াই লাখ টাকা নিয়ে যায়।’
এ বিষয়ে রাউজান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাজেদুল ইসলাম বলেন, ‘এ ঘটনায় মোট ৯জনকে আটক করা হয়েছে। ভুক্তভোগীরা সোনা লুটের কথা বললেও আমরা পাঁচ হাজার টাকাসহ সিটি গোল্ডের ৩ জোড়া চুড়ি, ১টি নেকলেস, জোড়া কানের দোল উদ্ধার করেছি।’
আটককৃত প্রত্যেক আসামির বিরুদ্ধে ডাকাতি, ডাকাতির প্রস্তুতি, চুরিসহ সর্বোচ্চ ১২টিসহ ৪-৫টি করে মামলা রয়েছে। ধৃতদের বাড়ি হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজার জেলাসহ বিভিন্ন এলাকায়। এ ঘটনায় জড়িতদের ধরতে অভিযান চলছে।
কেকে/এমএ