বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬,
১০ আষাঢ় ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬
শিরোনাম: বিশ্বনেতাদের জলবায়ু সংক্রান্ত প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর       কোনো রোগী যেন চিকিৎসার অভাবে দুর্ভোগে না পড়ে : সমাজকল্যাণমন্ত্রী      রাজধানীর টেকনিক্যাল মোড়ে ককটেল বিস্ফোরণ      হামে প্রাণ গেল আরও তিন শিশুর, মোট মৃত্যু ৬৮৬      একযোগে ১৭ ডেপুটি-সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেলের পদত্যাগ      বিকল লঞ্চ থেকে ৯৯৯-এ ফোন, ৮০ যাত্রী উদ্ধার      সেপ্টেম্বর থেকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু হতে পারে: ডা. জাহেদ      
দেশজুড়ে
পর্যটক বরণে প্রস্তুত মৌলভীবাজার
মো. এহসানুল হক, মৌলভীবাজার
প্রকাশ: বুধবার, ১৮ মার্চ, ২০২৬, ১০:২৬ এএম
ছবি : খোলা কাগজ

ছবি : খোলা কাগজ

পবিত্র ঈদ-উল ফিতরের টানা সাত দিনের ছুটিতে পর্যটকদের স্বাগত জানাতে প্রস্তুত মৌলভীবাজারের পর্যটন স্পট ও আবাসন ব্যবসায়ীরা। এ জেলার সাত উপজেলায় রয়েছে প্রায় শতাধিক ছোট-বড় পর্যটন স্পট। প্রতিবছর ঈদেই বিপুলসংখ্যক ভ্রমণপিপাসু পর্যটকদের সমাগম হয় মৌলভীবাজারে। 

পুরো জেলায় শতাধিক পর্যটন স্পট থাকলেও দেশ-বিদেশের ভ্রমণপিপাসুদের প্রথম পছন্দ হলো শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জ উপজেলা। এই দুই উপজেলাসহ জেলার পর্যটন স্পটগুলোকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে পাঁচ তারকা মানের রিসোর্টসহ দেড় শতাধিক রিসোর্ট, ইকো কটেজ, হোটেল, মোটেল। যার মধ্যে প্রায় ৮০ শতাংশ আগাম বুকিং সম্পন্ন হয়েছে।  

সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, ঈদকে ঘিরে বাকি দিনগুলোতেও ধীরে ধীরে বুকিং বাড়বে এবং শেষ পর্যন্ত শতভাগ রুম বুকড হয়ে যাবে। এ ছাড়া এক সপ্তাহের ছুটিতে জেলার পর্যটন স্পটগুলোতে পর্যটকদের উপস্থিতি বাড়বে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। 

পর্যটন ব্যবসায়ীরা জানান, রমজান মাসজুড়ে প্রায় পর্যটকশূন্য ছিল মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গলে। পর্যটকের অভাবে স্থবির হয়ে পড়ে স্থানীয় পরিবহন ও পর্যটন সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ব্যবসা। তবে আসন্ন ঈদ উপলক্ষে আবারও আশায় বুক বাঁধছেন চাঁদের গাড়ির চালক ও ব্যবসায়ীরা। পর্যটন শিল্প সংশ্লিষ্টরা বলেন, পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে নতুন করে সাজানো হয়েছে প্রতিটি পর্যটন কেন্দ্র এবং হোটেল-রিসোর্ট। 

আগত পর্যটকদের জন্য জেলার পাঁচতারকা হোটেল-রিসোর্ট ও গেস্টহাউসগুলোতে ঘোষণা করা হয়েছে নানা আকর্ষণীয় সুযোগ-সুবিধা। পাশাপাশি পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ট্যুরিস্ট পুলিশ,  জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও নেওয়া হয়েছে বিশেষ প্রস্তুতি। পর্যটন নগরী শ্রীমঙ্গল উপজেলার বিভিন্ন রিসোর্ট ও কটেজে ইতোমধ্যে আগাম বুকিংয়ের চাপ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। 

পর্যটন সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, উপজেলার রাধানগর এলাকায় অবস্থিত প্রায় অর্ধশত রিসোর্ট ও কটেজে ২২ থেকে ২৪ মার্চ পর্যন্ত এই তিন দিনের জন্য প্রায় ৮০ শতাংশ বুকিং ইতোমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে। অন্যদিকে শহর ও শহরতলীর হোটেলগুলোতে এখনো তেমন চাপ তৈরি হয়নি। অধিকাংশ হোটেলেই এখনো প্রায় ৫০-৮০ শতাংশ রুম বুকিং হয়েছে বলে জানা গেছে। 

পর্যটন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বর্তমানে পর্যটকদের বড় একটি অংশ শহরের কোলাহল থেকে দূরে প্রকৃতির কাছাকাছি সময় কাটাতে চান। এ কারণে তারা শহরের হোটেলের পরিবর্তে শহরের বাইরে অবস্থিত রিসোর্ট ও কটেজে থাকতে বেশি আগ্রহী। এছাড়া এসব রিসোর্ট ও কটেজে কক্ষসংখ্যা তুলনামূলক কম থাকায় আগাম বুকিং দ্রুত পূর্ণ হয়ে যায়। তবে ঈদ যত ঘনিয়ে আসবে, ততই শহরের হোটেলগুলোতেও বুকিং বাড়বে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা। 

মৌলভীবাজার জেলাটি প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, পাহাড়ি ছড়া, চা-বাগান ও সমৃদ্ধ সংস্কৃতির এক অপূর্ব মিলনস্থল। এ জেলার প্রতিটি কোণেই রয়েছে চোখ জুড়ানো সব দর্শনীয় স্থান, যা দেশি-বিদেশি পর্যটকদের আকৃষ্ট করে। 

জেলার ৯২টি চা-বাগানের সবুজের সমারোহ, লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের জীববৈচিত্র্য, মাধবকুণ্ড জলপ্রপাতের গর্জন, অপরূপ মাধবপুর লেকের নয়নাভিরাম দৃশ্য আর ঐতিহাসিক স্থানসমূহ মিলে মৌলভীবাজার প্রকৃতিপ্রেমীদের জন্য এক আকর্ষণীয় গন্তব্য। পাহাড়ি পথ আর ঘন সবুজ অরণ্যের অপরূপ সৌন্দর্য যে কাউকে আকৃষ্ট করে। 

নৈসর্গিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি চায়ের রাজ্য মৌলভীবাজারে একবার আসলে মন চায় আবার আসতে। যেখানে সবুজ প্রকৃতি উজাড়ভাবে সৌন্দর্য বিলিয়ে দেয়। আর পর্যটকেরা হারিয়ে যান চিরসবুজের মাঝে। চা বাগানের সতেজ সবুজ পাতার মায়া যে কোনো ভ্রমণপিপাসু মনকে টানতে সক্ষম। চারদিকে প্রকৃতির নজরকাড়া সৌন্দর্য, হাজার প্রজাতির গাছ-গাছালি, দিগন্তজোড়া হাওর আর নীল জলরাশিতে ঢেউয়ের ছন্দে প্রাণ জুড়িয়ে যায় দর্শনার্থীদের। 

জেলার মনোমুগ্ধকর পর্যটন স্পটগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো শ্রীমঙ্গলের বাংলাদেশ চা গবেষণা কেন্দ্র (বিটিআরআই), হাইল হাওর, বাইক্কা বিল, চা জাদুঘর, চা কন্যার ভাস্কর্য, রমেশ রাম গৌড়ের আবিষ্কৃত সাত রঙের চা, বধ্যভূমি ‘৭১, বাংলদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশন, রাবার বাগান, গোলটিলা, হাজমটিলা, সীতেশ বাবুর বন্যপ্রাণী সেবাকেন্দ্র, খাসিয়া পুঞ্জি, মনিপুরী সম্প্রদায়ের তাঁতশিল্প, গারোপল্লী, ভাড়াউড়া লেক, শংকর টিলা, কমলগঞ্জের লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান, সীমান্তবর্তী ধলই চা বাগানে বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান স্মৃতিসৌধ, মাধবপুর লেক, হামহাম জলপ্রপাত, মাধবকুণ্ড জলপ্রপাত, পদ্মছড়া লেক, বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান স্মৃতিসৌধ, আদমপুর সংরক্ষিত বন, মণিপুরী পল্লী, শমসেরনগর বিমানবন্দর, ক্যামেলিয়া লেক, মণিপুরী ললিতকলা একাডেমি, শমসেরনগর গলফ মাট, কুলাউড়া উপজেলায় হাকালুকি হাওর, পৃথিমপাশা নবাব বাড়ি, কালাপাহাড়,  রাজনগর উপজেলায় কমলা রাণীর দীঘি, পাখিবাড়ি, রাজা সুবিদ নারায়ণের রাজবাড়ি, জনার্দন কর্মকারের বাড়ি, জমিদার বাড়ি, লীলা নাগের পৈতৃক বাড়ি, পাঁচগাঁও লাল দুর্গামন্দির জুড়ী উপজেলায় কমলা বাগান, লাটিঠিলা বনাঞ্চল এবং মৌলভীবাজার সদর উপজেলায় বর্ষিজোড়া ইকোপার্ক, হয়রত শাহ মোস্তফা (রহ.) মাজার শরীফ, মনু ব্যারেজ, কাসিমপুর পাম্প হাউস, ঐতিহাসিক  খোজার মসজিদ, শেরপুর মুক্তিযোদ্ধা গোল চত্বর, বড়লেখা উপজেলায় মাধককুণ্ড জলপ্রপাত, কমলা রানীর দিঘি, সুজানগর আগর কারখানা, মুরইছড়া বনাঞ্চল, আগর বাগান, পাথারিয়া বনাঞ্চলসহ শতাধিক মনোমুগ্ধকর পর্যটন স্পট। 

জেলার কয়েকটি হোটেল ও রিসোর্টের পরিচালকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রতিবছর ঈদুল ফিতর উপলক্ষে এবার এখন পর্যন্ত কোথাও ৪০ শতাংশ, আবার কোথাও ৫০-৮০ শতাংশ আগাম বুকিং হয়েছে। 

গ্র্যান্ড সুলতান টি রিসোর্ট অ্যান্ড গলফের জেনারেল ম্যানেজার আরমান খান বলেন, ‘ঈদের সময়ে সাধারণত বিদেশি পর্যটক খুব একটা আসেন না, তবে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে পর্যটকদের আগমন বেশি থাকে। বরাবরের মতো এবারও ঈদকে ঘিরে রিসোর্টটিতে বেশ ভালো বুকিং হয়েছে। সব মিলিয়ে আমাদের বুকিং প্রায় শতভাগ পূর্ণ হয়ে গেছে।’ 

বালিশিরা রিসোর্টের পরিচালক (পরিচালনা ও প্রশাসন) জাহানারা আক্তার বলেন, ‘আগামী ২১ থেকে ২৭ মার্চ পর্যন্ত প্রায় ৮০ শতাংশ বুকিং সম্পন্ন হয়েছে। আশা করছি, গতবারের তুলনায় এবার আরো বেশি পর্যটক আসবেন এবং ব্যবসাও ভালো হবে।’

 শ্রীমঙ্গল পর্যটন সেবা সংস্থার সাবেক সভাপতি ও গ্র্যান্ড সেলিম রিসোর্টের মালিক সেলিম আহমেদ জানান, ‘জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তিন দিন বন্ধের পর থেকে একেবারে পর্যটক নেই। সাধারণত ঈদের দিন পর্যটকরা খুব বেশি আসেন না, তবে ঈদের একদিন পর থেকেই পর্যটকদের আগমন বাড়তে শুরু করে। তবে মোটামুটি ভালো পর্যটক সমাগমের আশা করা যাচ্ছে।’ 

শ্রীমঙ্গলের চামুং রেস্টুরেন্ট অ্যান্ড ইকো ক্যাফের স্বত্বাধিকারী তাপস দাশ বলেন, ‘ঈদকে সামনে আমরা বিশেষ প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছি। যারা শ্রীমঙ্গল ভ্রমণে আসবেন তাদের জন্য স্থানীয় ও আদিবাসী খাবারের বিশেষ আয়োজন রাখা হয়েছে, যাতে তারা এ অঞ্চলের স্বাদ ও সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচিত হতে পারেন। এছাড়া পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা এবং রেস্টুরেন্টের সাজসজ্জার বিষয়েও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।’ 

ট্যুরিস্ট পুলিশ শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জ জোনের ওসি  মো. কামরুল হোসেন  চৌধুরী বলেন, ‘ঈদ উপলক্ষে পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমরা সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়েছি। বিভিন্ন পর্যটন স্পটে আমাদের টহল ব্যবস্থা সার্বক্ষণিকভাবে চালু থাকবে। জেলা পুলিশের সমন্বয়ে উপজেলা প্রশাসন, ট্যুরিস্ট পুলিশ, র‌্যাব ও বিজিবি যৌথভাবে নিরাপত্তা কার্যক্রম পরিচালনা করবে। যাতে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা পর্যটকেরা নির্বিঘ্নে ঈদের আনন্দ উপভোগ করতে পারেন, সে বিষয়ে আমাদের সর্বোচ্চ নজর রয়েছে।’ 

জেলা প্রশাসন জানায়, পর্যটকদের নিরাপত্তার জন্য কয়েক স্তরের নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। অপ্রীতিকর কোনো ঘটনা যাতে না ঘটে সে লক্ষ্যে জেলা প্রশাসন, জেলা পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসনের সমন্বয়ে ট্যুরিস্ট পুলিশ দিায়িত্ব পালন করবে।

মৌলভীবাজারের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ বিল্লাল হোসেন বলেন, ‘ঈদের ছুটিতে আগত পর্যটকদের নিরাপত্তার জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। জেলা পুলিশ, থানা-পুলিশ ও ট্যুরিস্ট পুলিশ কাজ করবে। গুরুত্বপূর্ণ প্রতিটি পর্যটনকেন্দ্রে পুলিশ থাকবে, যাতে কোনো ধরণের অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে। পর্যটকেরা যাতে নিরাপদে ও স্বাচ্ছন্দ্যে ঘুরতে পারে, এ জন্য সে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।’

কেকে/ এমএস


আরও সংবাদ   বিষয়:  পর্যটক   বরণ   মৌলভীবাজার  
মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

দেশজুড়ে- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: kholakagojnews@gmail.com, kholakagojadvt@gmail.com

© 2025 Kholakagoj
🔝
close