পবিত্র ঈদুল ফিতরের ছুটি কাটিয়ে মানুষ যখন কর্মস্থলে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছেন, ঠিক তখনই জ্বালানি তেলের তীব্র সংকটে স্থবির হয়ে পড়েছে মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলা। উপজেলার আটটি ইউনিয়নের একমাত্র জ্বালানি সরবরাহ কেন্দ্র ‘এসকে ফিলিং স্টেশন’ গত ২০ মার্চ থেকে সম্পূর্ণ তেলশূন্য হয়ে পড়ায় বিপাকে পড়েছেন কয়েক হাজার মানুষ।
সোমবার (২৩ মার্চ) উপজেলা সদরের একমাত্র পাম্পটিতে গিয়ে দেখা যায় সুনসান নীরবতা। পাম্পের প্রবেশপথে বাঁশ দিয়ে ঘেরা, সামনে ‘তেল নেই’ লেখা বোর্ড টাঙানো।
পাম্পের সামনে এসে ফিরে যাচ্ছে ব্যক্তিগত গাড়ি, মাইক্রোবাস ও শত শত মোটরসাইকেল। বিশেষ করে ব্যক্তিগত গাড়ি ও মোটরসাইকেল নিয়ে ঢাকা অভিমুখে রওনা হতে চাওয়া চাকরিজীবীদের জন্য এই সংকট এখন ‘গলার কাঁটা’ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত ২০ মার্চ থেকে মহম্মদপুর উপজেলার এই একমাত্র ফিলিং স্টেশনে পেট্রোল ও অকটেনের সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। ফলে পুরো উপজেলা জুড়ে জ্বালানির তীব্র হাহাকার তৈরি হয়েছে।
পাম্প কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সরবরাহ স্বাভাবিক হতে অন্তত মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) নাগাদ সময় লাগতে পারে।
ঈদের আনন্দ শেষে যারা নিজস্ব গাড়িতে ঢাকা ফেরার প্রস্তুতি নিয়েছিলেন, তারা পড়েছেন চরম বিপত্তিতে। মহম্মদপুর থেকে ঢাকা যাওয়ার মতো পর্যাপ্ত তেল গাড়িতে না থাকায় অনেকেই আটকা পড়েছেন।
ঢাকায় কর্মরত এক ব্যাংক কর্মকর্তা বলেন, ‘পরিবার নিয়ে ঈদ করতে নিজের গাড়ি নিয়ে বাড়ি এসেছিলাম। এখন পাম্পে তেল নেই। হাতে সময় নেই, কালই অফিসে যোগ দিতে হবে। গাড়ি এখানে রেখে যাওয়া সম্ভব না, আবার তেল ছাড়া ঢাকা পৌঁছানোও অসম্ভব। চাকরি বাঁচানোই এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।’
মোটরসাইকেল নিয়ে ঢাকা ফিরতে চাওয়া আরেক চাকরিজীবী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘৪-৫ দিন ধরে পাম্প বন্ধ, অথচ এটিই এই অঞ্চলের একমাত্র ভরসা। আমরা যারা প্রাইভেট সার্ভিস করি, আমাদের তো নির্দিষ্ট সময়ে পৌঁছাতে হবে। তেলের অভাবে এভাবে আটকা পড়া মেনে নেওয়া যায় না।’
উল্লেখ্য, জ্বালানি সাশ্রয়ে গত ৬ মার্চ থেকে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) তেল সরবরাহে সীমা বেঁধে দিয়েছে। নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যক্তিগত গাড়িতে সর্বোচ্চ ১০ লিটার ও মোটরসাইকেলে ২ লিটার তেল দেওয়ার কথা থাকলেও মহম্মদপুরের চিত্র ভিন্ন। এখানে সীমা মেনে তেল পাওয়া তো দূরের কথা, পাম্পটিই এখন সম্পূর্ণ অচল।
স্থানীয় পরিবহন শ্রমিক ও সাধারণ চালকরা বলছেন, দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই সংকট সমাধান না হলে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি চরমে পৌঁছাবে এবং কর্মমুখী মানুষেরা বড় ধরনের আর্থিক ও পেশাগত ক্ষতির সম্মুখীন হবেন।
এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী ও ঢাকা ফেরত যাত্রীরা।
কেকে/এসএ