চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদার একমাত্র ইতিহাসসমৃদ্ধ ঐতিহ্যবাহী জয়রামপুর রেলওয়ে স্টেশনের সার্বিক উন্নয়ন এবং কপোতাক্ষ ও সাগরদাঁড়ি আন্তঃনগর ট্রেনের আপ-ডাউন স্টপেজের দাবিতে মানববন্ধন করেছে এলাকাবাসী।
সোমবার (২৩ মার্চ) বিকেল ৪টার দিকে স্টেশন চত্বরে স্থানীয় বাসিন্দাদের পক্ষ থেকে গঠিত জয়রামপুর ট্রেন সুবিধা সংরক্ষণ কমিটি এই মানববন্ধনের আয়োজন করে।
১৮৬২ সালে ব্রিটিশ আমলে বাংলাদেশের প্রথম রেল যোগাযোগ স্থাপন হয় ভারতের গেদে হয়ে দর্শনা থেকে কুষ্টিয়ার জগতী পর্যন্ত। ১৮৬২ সাল থেকে দর্শনা থেকে জগতী পর্যন্ত রেল যোগাযোগ চালু হলেও এলাকার মানুষের দাবি, জয়রামপুর স্টেশন থেকেই রেল যোগাযোগ শুরু হয়।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, জয়রামপুর রেলওয়ে স্টেশনটি এলাকার মানুষের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হলেও দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত অবস্থায় রয়েছে। তারা দ্রুত আন্তঃনগর সাগরদাঁড়ি ও কপোতাক্ষ এক্সপ্রেস ট্রেনের আপ-ডাউন যাত্রাবিরতির ব্যবস্থা চালুর দাবি জানান।
এছাড়াও স্টেশনে প্রয়োজনীয় লোকবল নিয়োগ, আধুনিক টিকিটিং ব্যবস্থা চালু, লুপ লাইন নির্মাণ এবং অবকাঠামোগত সংস্কার ও উন্নয়নের জন্য জোর দাবি তোলা হয়।
মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা আরও বলেন, এসব দাবি বাস্তবায়ন হলে এলাকার প্রায় দুই লক্ষাধিক মানুষের যাতায়াত ব্যবস্থা সহজ হবে এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড আরও গতিশীল হবে।
তারা আরও বলেন, জয়রামপুর রেল স্টেশন জেলার একটি পুরোনো ও ঐতিহ্যবাহী রেল স্টেশন। রাজশাহী মেডিকেলসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে যাতায়াতের জন্য এই স্টেশনে যেন সাগরদাঁড়ি ও কপোতাক্ষ আপ-ডাউন ট্রেন থামানো হয়। এখানে স্টপেজের দাবিতে তারা মানববন্ধন ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন।
তারা বলেন, এই লাইনে প্রথম গেদে থেকে জগতী স্টেশন পর্যন্ত রেল যোগাযোগ চালু হয়। তখন থেকেই জয়রামপুর স্টেশন চালু ছিল। কিন্তু বর্তমানে স্টেশনটি প্রায় বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে; বলতে গেলে এখন এটি বন্ধই আছে। তাদের দাবি, স্টেশনটি অতি দ্রুত চালুর ব্যবস্থা করা হোক। দাবি না মানা হলে ট্রেনলাইন অবরোধসহ কঠোর আন্দোলনে যাওয়ার হুঁশিয়ারিও দেন তারা।
এদিকে জয়রামপুর ট্রেন সুবিধা সংরক্ষণ কমিটির আহ্বায়ক ও সাবেক সেনাসদস্য লাজিব আক্তার সিদ্দিকী বলেন, “ঐতিহ্যবাহী জয়রামপুর রেল স্টেশনে আগে স্টেশন মাস্টার ছিল, স্টাফদের থাকার জায়গা ছিল, গেটম্যান ছিল। এখন এখানে আর কিছুই নেই, স্টেশনটি বন্ধ হয়ে গেছে।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা চাই স্টেশনটি আবার চালু করা হোক এবং সাগরদাঁড়ি ও কপোতাক্ষ ট্রেনের আপ-ডাউন স্টপেজ দেওয়া হোক। এখানে যেন আগের মতো স্টেশন মাস্টারসহ প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হয়—এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ সুবিবেচনা করবেন বলে আশা করি।”
মানববন্ধন শেষে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়।
এদিকে মানববন্ধনে দামুড়হুদা মডেল থানার একটি টিম শেষ পর্যন্ত স্থানীয়দের সামাল দিতে এবং ট্রেনের কোনো ধরনের ক্ষয়ক্ষতি না হয়, সে বিষয়ে নজর রেখে অবস্থান নেয়। ঘটনাস্থলে প্রশাসন উপস্থিত থেকে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে মানববন্ধন কর্মসূচি শেষ করা হয়।
এ সময় উপস্থিত থেকে মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন জয়রামপুর ট্রেন সুবিধা সংরক্ষণ কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক আজহারুল ইসলাম, সদস্য সচিব হানিফ আলী, মুখপাত্র আমিনুল ইসলাম, প্রচার ও মিডিয়া সম্পাদক মনিরুল ইসলাম মিলন, জয়রামপুর ডিএস দাখিল মাদ্রাসার সুপার শহিদুল ইসলাম প্রমুখ।
কেকে/এলএ