বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম এমপি বলেছেন, “বাংলার ঐতিহ্য, ইতিহাসের সাক্ষী ২০০ বছরের পুরোনো মসলিন কাপড় পুনরুদ্ধারে কাজ করছে সরকার। আমরা জামদানি ভিলেজ প্রকল্প বাস্তবায়ন পরিদর্শনে এসেছি। জামদানি শিল্পের ঐতিহ্য অন্বেষণে আমরা সুদূর ইংল্যান্ড পর্যন্ত গিয়েছি। সেখান থেকে এই শিল্পের ঐতিহ্য সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করেছি। পাশাপাশি বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে খোঁজ নিয়ে যেসব বিশেষজ্ঞ আছেন, তাদের মাধ্যমে কাজ করানো হচ্ছে।”
তিনি আরও বলেন, “সরকারের পক্ষ থেকে এ ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে গবেষণা কার্যক্রম থেকে শুরু করে সব ধরনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।”
মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) বেলা ১১টার দিকে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার তারাবো পৌরসভার নোয়াপাড়ায় জামদানি ভিলেজ প্রকল্প এলাকা পরিদর্শনকালে এসব কথা বলেন তিনি।
শরীফুল আলম বলেন, “এ সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারেই রয়েছে, বন্ধ পাটকলগুলো পুনরায় চালু করা হবে। ইতোমধ্যে অনেক পাটকল চালু হয়েছে এবং আরও অনেকগুলো চালুর প্রক্রিয়ায় রয়েছে। এতে দেশে বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হবে। দেশি-বিদেশি ব্যবসায়ীদের সঙ্গে যোগাযোগ করে পাটশিল্পকে এগিয়ে নিতে আমরা বিভিন্ন কার্যক্রম চালাচ্ছি।”
এ সময় দেশের ঐতিহ্যবাহী জামদানি শিল্পের উন্নয়ন, সংরক্ষণ ও সম্প্রসারণের লক্ষ্যে বাস্তবায়নাধীন জামদানি ভিলেজ প্রকল্পের অগ্রগতি সরেজমিনে পর্যালোচনা করেন প্রতিমন্ত্রী। প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় এবং স্থানীয় তাঁতিদের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি আব-ই-রওয়ান প্রদর্শনী কেন্দ্র পরিদর্শন করেন।
প্রতিমন্ত্রী মসলিন কাপড় তৈরির বিভিন্ন ধাপ—চরকার মাধ্যমে কাপাস থেকে সুতা তৈরি এবং সেই সুতা দিয়ে কাপড় তৈরির প্রক্রিয়া পরিদর্শন করেন। এ সময় গ্যালারিতে রাখা মসলিন সুতার তৈরি কাপড়ের প্রদর্শনীও ঘুরে দেখেন।
পরিদর্শনকালে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সচিব বিলকিস জাহান রিমি, তাঁত বোর্ডের সদস্য মো. মিজানুর রহমান, সদস্য দেবাশীষ নাগ, যুগ্মসচিব মো. জাহিদ হাসান, প্রকল্প পরিচালক আইয়ুব আলী, জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবির, জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান মুন্সী, তুলা উন্নয়ন বোর্ডের উপপরিচালক মো. কুতুব উদ্দিন, রূপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলামসহ আরও অনেকে উপস্থিত ছিলেন।
কেকে/এলএ