প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেছেন, “জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হবে না। ইতোমধ্যে এর জন্য প্রয়োজনীয় অর্থায়ন নিশ্চিত করা হয়েছে।”
মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) লালমনিরহাটের বিসিক শিল্পনগরীসহ বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শনকালে বেলা ১২ টার দিকে উত্তরাঞ্চলের দীর্ঘদিনের উন্নয়ন বৈষম্য ঘোচাতে এবং শিল্পায়নের মাধ্যমে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে লালমনিরহাটে বিশেষ সফরে সরকারের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দলের মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। এসময় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুল উপস্থিত ছিলেন।
পরিদর্শন শেষে স্থানীয় উদ্যোক্তা ও সরকারি কর্মকর্তাদের নিয়ে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এ মতবিনিময় সভায় উঠে আসে এই অঞ্চলের শিল্প বিকাশের নানা প্রতিবন্ধকতা ও নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির সম্ভাবনার কথা।
মতবিনিময় সভায় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা বলেন, “বর্তমানে যে জ্বালানি সংকট চলছে—তা কাটিয়ে উঠতে আমরা একটি বহুমুখী কর্মকৌশল গ্রহণ করেছি। এখন কেবল নির্দিষ্ট কোনো উৎসের ওপর নির্ভর না করে উত্তর আমেরিকা থেকে শুরু করে আফ্রিকা পর্যন্ত বিভিন্ন বিকল্প সূত্র থেকে জ্বালানি তেল ও গ্যাসের সরবরাহ নিশ্চিত করা হচ্ছে।”
সাধারণ মানুষকে আশ্বস্ত করে স্পষ্টভাবে তিনি ঘোষণা দেন, “আমরা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ যে—জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হবে না। ইতোমধ্যে এর জন্য প্রয়োজনীয় অর্থায়ন নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের চাপ থাকা সত্ত্বেও আমরা অত্যন্ত সতর্ক আছি যাতে শিল্প কারখানা এবং গৃহস্থালিতে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহ নিরবচ্ছিন্ন থাকে।”
উপদেষ্টা আরও বলেন, “অতীতের ফ্যাসিবাদী সরকারের আমলে ঋণের সংস্কৃতির কারণে বিনিয়োগ বাধাগ্রস্ত হয়েছে এবং প্রতিষ্ঠানগুলো ধসে পড়েছে। যার ফলে কর্মসংস্থান সৃষ্টি না হয়ে বেকারত্ব বেড়েছে। বর্তমান সরকার সেই অচলাবস্থা ভেঙে নতুন বিনিয়োগের পরিবেশ তৈরি করছে, যেখানে সুলভ মূল্যে জ্বালানি প্রাপ্তি হবে প্রধান চালিকাশক্তি।”
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু লালমনিরহাটের বিসিক শিল্পনগরী পরিদর্শন শেষে বলেন, “লালমনিরহাট ও কুড়িগ্রামের ভৌগোলিক অবস্থানকে কাজে লাগিয়ে ভারী ও ক্ষুদ্র শিল্পের প্রসারে বর্তমান সরকার বদ্ধপরিকর। জ্বালানি নিশ্চয়তা দিতে পারলে এই অঞ্চলে দ্রুত শিল্পায়ন সম্ভব হবে।”
সভায় জেলা প্রশাসক, ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ এবং স্থানীয় সরকারি কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
কেকে/এজে