কুমিল্লার লালমাই উপজেলায় সৎ মায়ের নির্যাতনের শিকার এক এতিম শিশু মায়ের কবরের পাশে বসে কান্নার ভিডিও ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। হৃদয়বিদারক ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপে অভিযুক্তকে মুচলেকায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) দুপুরে শিশুটি ও তার সৎমা আয়েশা আক্তারকে ইউএনও কার্যালয়ে হাজির করা হয়। সেখানে সৎ মা নিজের আচরণের জন্য দেশবাসীর কাছে ক্ষমা চান এবং ভবিষ্যতে এমন কিছু না করার অঙ্গীকার করে মুচলেকা দেন।
জানা গেছে, ১২ বছর বয়সী ছামিয়া আক্তার উপজেলার পোহনকুছা পশ্চিম পাড়া এলাকার বাসিন্দা। প্রায় চার বছর আগে তার মা মারা যান। এরপর তার বাবা দ্বিতীয় বিয়ে করে বর্তমানে সৌদি আরবে অবস্থান করছেন। বাবার অনুপস্থিতিতে সৎ মা আয়েশা আক্তারের সঙ্গে বসবাস করতে গিয়ে দীর্ঘদিন ধরে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে।
স্থানীয়রা জানান, সৎ মায়ের আচরণে অতিষ্ঠ হয়ে এমন অবস্থায় পড়ে শিশুটি। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি স্থানীয় প্রশাসনের নজরে আসে।
পরবর্তীতে লালমাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উম্মে তাহমিনা মিতু বিষয়টি তদন্তের নির্দেশ দেন। বাগমারা দক্ষিণ ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. লোকমান হোসেনকে প্রাথমিক অনুসন্ধানের দায়িত্ব দেওয়া হয়।
এ সময় লালমাই থানার ওসি, বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
ইউএনও বলেন, “আয়েশা আক্তারকে এক মাসের জন্য সতর্কতামূলক পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। এ সময়ের মধ্যে পুনরায় কোনো অভিযোগ উঠলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
কেকে/এজে