কুষ্টিয়া সদর উপজেলায় ফেসবুকে পরিচয়ের সূত্র ধরে গড়ে ওঠা প্রেমের সম্পর্কের জেরে কথিত প্রেমিকার সামনে বিষপান করে এক যুবক আত্মহত্যা করেছেন।
মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) বিকেল ৩টার দিকে উপজেলার পাটিকাবাড়ী ইউনিয়নের পাটিকাবাড়ী কালিতলা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত যুবকের নাম মারুফ হোসেন (২২)।
মারুফ লক্ষীপুরের কমলনগর থানার ডাকাতিয়াপোল ইউনিয়নের ৩ নম্বর চর লরেঞ্জ গ্রামের শাহাদাৎ হোসেনের ছেলে। তিনি পেশায় গার্মেন্টস শ্রমিক ছিলেন। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকের মাধ্যমে পাটিকাবাড়ী পচা মাগুড়া গ্রামের মৃত আলতাফ হোসেনের মেয়ে, দুই সন্তানের জননী স্বপ্না খাতুনের (২৭) সঙ্গে মারুফের পরিচয় হয়। পরিচয়ের পর তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা বাড়তে থাকে।
মারুফ পেশায় গার্মেন্টস শ্রমিক ছিলেন। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকের মাধ্যমে পাটিকাবাড়ী পচা মাগুড়া গ্রামের মৃত আলতাফ হোসেনের মেয়ে, দুই সন্তানের জননী স্বপ্না খাতুনের (২৭)-এর সঙ্গে মারুফের পরিচয় হয়। পরিচয়ের পর তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা বাড়তে থাকে।
একপর্যায়ে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। দীর্ঘদিন ধরে মোবাইল ফোন ও অনলাইনের মাধ্যমে তাদের যোগাযোগ চলছিল।
মঙ্গলবার বিকেলে ওই নারীর সঙ্গে দেখা করতে মারুফ পাটিকাবাড়ী গ্রামে আসেন। এ সময় দুজনের মধ্যে পারিবারিক বিষয় নিয়ে কথাকাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে স্থানীয় দোকান থেকে পোকা দমনের বিষ কিনে স্বপ্না খাতুনের সামনেই মারুফ বিষপান করেন।
পরে স্বপ্না খাতুন নিজেই গুরুতর অবস্থায় মারুফকে মিরপুর উপজেলার হালসা বাজারে অবস্থিত ইসলামিক ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
জানতে চাইলে কথিত প্রেমিকা স্বপ্না খাতুন বলেন, “মারুফের সঙ্গে আমার দেড় মাস আগে ফেসবুকে সম্পর্ক হয়। আমি তাকে অনেক বুঝিয়েছি। আমার সংসার আছে। স্বামী-সন্তান আছে। তোমার সঙ্গে যাওয়া আমার সম্ভব নয়। তুমি অন্য জায়গায় বিয়ে করে সংসারী হও। ওর মাকেও বলেছি। আজও খুঁজতে খুঁজতে আমার গ্রামে চলে এসেছে। পাটিকাবাড়ী কালিতলা এলাকায় ওর সঙ্গে আমার দেখা হয়। একপর্যায়ে আমার সামনেই বিষপান করে।”
ইসলামিক ডায়াগনস্টিক সেন্টারের চিকিৎসক ডা. সাজিদ হাসান বলেন, “এখানে নিয়ে আসার আগেই ওই যুবকের মৃত্যু হয়েছিল। তিনি বিষপান করেছিলেন—এমনটাই জানতে পেরেছি। তবে শরীরে কোথাও আঘাতের চিহ্ন নেই।”
তবে নিহতের মা জান্নাতুল ফেরদৌস মুঠোফোনে বলেন, “আমি কুষ্টিয়ায় পৌঁছে এ ব্যাপারে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করব।” এ সময় তিনি ছেলের হত্যার বিচার দাবি করেন।
ঘটনাস্থলে থাকা মিরপুর থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) রুবেল হোসেন বলেন, “ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ কুষ্টিয়া ২৫০ শয্যার জেনারেল হাসপাতালে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। এছাড়া ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষে বিস্তারিত জানা যাবে।”
কেকে/এলএ