কুমিল্লায় দেবিদ্বার উপজেলায় একটি ইটভাটার মালিকানা দখলের চেষ্টায় বাধা দেওয়ায় আলী আশরাফ ও তার পরিবারের ওপর হামলার অভিযোগ পাওয়া গেছে। গুরুতর আহত অবস্থায় আলী আশরাফকে উদ্ধার করে চান্দিনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) সন্ধ্যায় উপজেলার ভানী ইউনিয়নের এজিএস ইটভাটা সংলগ্ন আলী আশরাফের বসতবাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
আলী আশরাফ ভানী গ্রামের মৃত চান মিয়া বেপারীর ছেলে। তিনি এজিএস ইটভাটার মূল মালিক।
মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে আলী আশরাফের স্ত্রী সালমা আক্তার বাদী হয়ে দেবিদ্বার থানায় ১৩ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত আরও ২০-২৫ জনকে আসামি করে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযুক্তরা হলেন আ. জলিল, মো. হৃদয়, মো. মোর্শেদ, ইয়াছিন, ইসমাইল, মো. ছামিউল, মো. হাবিব, মো. অহিদ মিয়া, আবুল কালাম, মো. ইয়াছিন -২, সায়মন, খলিলুর রহমান ও হাবিবুল্লাহ।
লিখিত অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এজিএস ইটভাটার মালিকানা নিয়ে দুই অংশীদার আলী আশরাফ অপর অংশীদার খলিলুর রহমানের সঙ্গে দীর্ঘদিন বিরোধ চলছিল। আলী আশরাফ দীর্ঘদিন পরিবার নিয়ে ঢাকায় থাকায় খলিলুর রহমান ও তার ভাই আবদুল জলিল ইটভাটাটি এককভাবে দখলের চেষ্টা চালিয়ে আসছিলেন। সম্প্রতি আলী আশরাফ বাড়িতে এসে ইটভাটার হিসাব চাইলে উভয়ের মধ্যে দ্বন্ধ শুরু হয়।
এর জেরে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ইটভাটার অংশীদার খলিলুর রহমানের ভাই আ. জলিলকে ইটভাটায় খবর দিলে তিনি এসে হিসাব নিয়ে গরমিল হয়। এ নিয়ে কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে জলিল তার বাড়ির লোকজনকে ফোনে খবর দিলে প্রায় ৪০-৫০ জন নারী-পুরুষ দেশিয় অস্ত্র নিয়ে আশরাফের ইটভাটায় হামলা চালায়। এ সময় আশরাফ প্রাণভয়ে বাড়িতে আশ্রয় নিলে হামলাকারীরা সেখানেও গিয়ে ভাঙচুর চালায় এবং তাকে মারধর করে গুরুতর আহত করে।
এ সময় আশরাফের স্ত্রী সালমা আক্তার স্বামীকে রক্ষা করতে এগিয়ে এলে তাকেও বেদম মারধর করা হয়।
সালমা আক্তার অভিযোগ করে বলেন,
‘হামলাকারীরা ঘরে ঢুকে প্রথমে আমার স্বামীকে মারধর করে। তিনি স্ট্রোকের রোগী। আমি চিৎকার করে বারবার বলার পরও তারা তাকে ছাড়েনি। আমি বাধা দিতে এলে আমাকে মারধর করে। পরে আমার ঘরে রাখা ২ লাখ ৭০ হাজার টাকা, আমার গলায় থাকা এক ভরি ওজনের একটি চেইন লুট করে নিয়ে যায়। আমার ঘরের আসবাবপত্র ভাঙচুর করে চলে যায়।’
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আলী আশরাফ বলেন, ‘জলিল ও তার লোকজন দেশিয় অস্ত্র নিয়ে আমাদের বাড়িতে অতর্কিত হামলা চালায়। তারা আমার স্ত্রীকে মারধর ও লটুপাট করে সব নিয়ে যায়। আমি এর সুষ্ঠু বিচার চাই।
এ বিষয়ে দেবিদ্বার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, ‘ঘটনা শোনার পর পর ভানী ফাঁড়ি থেকে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে। পরে আলী আশরাফের স্ত্রী দেবিদ্বার থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছে, আমরা সেটি গ্রহণ করেছি। ঘটনার তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
কেকে/এমএ