মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬,
৯ আষাঢ় ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬
শিরোনাম: সালমান শাহর লাশ উত্তোলনের আদেশ বাতিল      সুশাসন ও সংস্কার ছাড়া বাজেট বাস্তবায়ন কঠিন      দেশজুড়ে কঠোর সতর্কতা      চীনের দালিয়ানে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী      চীন পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী      ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, তেল রপ্তানিতে সুখবর      এবার পাঁচ জেলায় বিজিবি মোতায়েন      
দেশজুড়ে
স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে দাওয়াত পেলেন না জীবিত বীর প্রতীক
লালমনিরহাট প্রতিনিধি
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ, ২০২৬, ৪:০৩ পিএম
ছবি: প্রতিনিধি

ছবি: প্রতিনিধি

লালমনিরহাটের একমাত্র জীবিত খেতাবপ্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধা অবসরপ্রাপ্ত ক্যাপ্টেন আজিজুল হক বীর প্রতীককে স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে দাওয়াত না দেওয়ায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) সকালে জেলা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে দাওয়াত না পাওয়ার কথা স্বীকার করে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তিনি।

জানা গেছে, মহান মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদান রাখায় সরকার ৪২৬ জন বীর সন্তানকে বীর প্রতীক উপাধিতে ভূষিত করে।

এর মধ্যে লালমনিরহাটের বাসিন্দা অবসরপ্রাপ্ত ক্যাপ্টেন আজিজুল হক একজন। স্বাধীনতা দিবসসহ সব জাতীয় দিবসে সরকারি ভাবে মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের পরিবারবর্গকে সম্মান জানাতে জাতীয় অনুষ্ঠানে দাওয়াত করা হয়। এ সময় তাদের সম্মান জানানো হয় এবং তাদের হাতে উপহার তুলে দিয়ে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান সরকারি কর্মকর্তারা। দেওয়া হয় উন্নতমানের খাবার। প্রতি বছরের মতো এ বছরও স্বাধীনতা দিবসে বীর মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের পরিবারবর্গকে সম্মান জানায় জেলা ও উপজেলা প্রশাসন। বিধিমতো কার্ড দিয়ে তাদেরকে দাওয়াত করা হয় অনুষ্ঠানে অংশ নিতে।

এ দাওয়াত থেকে বীর প্রতীক খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা অবসরপ্রাপ্ত ক্যাপ্টেন আজিজুল হক বীর প্রতীক বঞ্চিত হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। স্বাধীনতার পরবর্তী প্রতি বছর সব জাতীয় দিবসে দাওয়াত পেলেও এবার তাকে দাওয়াত করেনি জেলা বা উপজেলা প্রশাসন। প্রতি বছর জাতীয় দিবসে জেলা প্রশাসনের অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ও বিচারকের দায়িত্বসহ নানা গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন অবসরপ্রাপ্ত ক্যাপ্টেন আজিজুল হক বীর প্রতীক। এ বছর তাকে দাওয়াত না করায় জেলা জুড়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

শুধু তাই নয়, জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমান্ডের আহ্বায়ক গেরিলা লিডার বীর মুক্তিযোদ্ধা এসএম শফিকুল ইসলাম কানুকেও দাওয়াত করেনি জেলা প্রশাসন।

অবসরপ্রাপ্ত ক্যাপ্টেন আজিজুল হক বীর প্রতীক বলেন, “স্বাধীনতার পরবর্তী এই প্রথম সরকার আমাকে দাওয়াত করেনি। তবে কেন করেনি তা আমি জানি না। প্রতি বছর জাতীয় দিবসে সরকারি কর্মসূচিতে যাই, এবার না যাওয়ায় বিভিন্ন জনের নানা প্রশ্নের জবাব দিতে হচ্ছে। এটা অত্যন্ত লজ্জাজনক। বর্তমান ডিসি একজন রাজাকার, তাই বীর মুক্তিযোদ্ধাদের তিনি সম্মান জানাতে চান না।”

লালমনিরহাট জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমান্ডের আহ্বায়ক গেরিলা লিডার '৭১ বীর মুক্তিযোদ্ধা এসএম শফিকুল ইসলাম কানু বলেন, “জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমান্ডকেও দাওয়াত করেনি জেলা প্রশাসন। জেলায় একমাত্র জীবিত খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধাকে দাওয়াত না করা অত্যন্ত লজ্জাজনক। আমরা এর তীব্র প্রতিবাদ জানাই। বীর মুক্তিযোদ্ধা ও খেতাবপ্রাপ্তদের সম্মান না জানানো অপরাধ। এজন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে তলব করা দরকার।”

লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক এইচএম রকিব হায়দার বলেন, “আমরা মুক্তিযোদ্ধাদের মাধ্যমে সব বীর মুক্তিযোদ্ধাদের দাওয়াত করেছি। বীর প্রতীককে দাওয়াত না করার বিষয়টি তারাই ভালো বলতে পারবেন। আমরা তাদেরকে যথেষ্ট পরিমাণ কার্ড দিয়েছি। মুক্তিযোদ্ধারা আপনাকে রাজাকার বলেছেন—এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, “এখন কতজনই কত কিছু বলবেন।”

কেকে/এলএ


আরও সংবাদ   বিষয়:  স্বাধীনতা দিবস   দাওয়াত   বীর প্রতীক  
মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

দেশজুড়ে- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: kholakagojnews@gmail.com, kholakagojadvt@gmail.com

© 2025 Kholakagoj
🔝
close