গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলায় মারিয়া আক্তার নামে এক নারী সাবেক স্বামীর নির্যাতনে দিশেহারা হয়ে আত্মহত্যার হুমকি দিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন।
বৃহস্পতিবার (২৭ মার্চ) দুপুরে কাপাসিয়া বাজারে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
মারিয়া আক্তার উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের পলাশপুর গ্রামের দেলোয়ার হোসেনের মেয়ে।
সংবাদ সম্মেলনে মারিয়া আক্তার লিখিত বক্তব্যে জানান, উপজেলার সদর ইউনিয়নের ভুবনেরচালা গ্রামের মৃত জসিমউদ্দীনের ছেলে মো. আতিক ২০২০ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি তাকে বাড়ি থেকে জোরপূর্বক চোখ-মুখ বেঁধে অপহরণ করে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যায়। আতিক ওই দিন তাকে একাধিকবার ধর্ষণ করে ও পরদিন নিজ বাড়িতে নিয়ে যায়। খবর পেয়ে মারিয়ার পিতা তার স্বজনদের নিয়ে আতিকের বাড়িতে যান। তিনি সবকিছু শুনে স্থানীয় লোকজনের মধ্যস্থতায় তাদের বিয়ে দিতে বাধ্য হন। কিন্তু তখন মারিয়ার বয়স ১৫ বছর হওয়ায় সরকারিভাবে কাবিন রেজিস্ট্রি করা সম্ভব হয়নি।
তিনি আরও জানান, বিয়ের এক বছর পর তাদের সংসারে একটি ছেলে সন্তান জন্মগ্রহণ করে। এর কিছুদিন পর থেকেই আতিক নানা অজুহাতে রাতের বেলা বাড়ির বাইরে সময় কাটিয়ে সকালবেলা বাড়ি ফিরত। খবর নিয়ে মারিয়া জানতে পারেন, আতিক রাতের বেলা মাদক সেবন করে ও অন্য নারীদের নিয়ে রাত কাটায়। এ নিয়ে আপত্তি জানালে সে মারিয়াকে মারধর করত। ভালো না লাগলে তাকে ছেড়ে বাবার বাড়ি চলে যাওয়ার পরামর্শ দিত।
এভাবে আতিকের বেপরোয়া আচরণ ও নির্যাতন সইতে না পেরে মারিয়া ২০২৪ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি তাকে ডিভোর্স দিয়ে শিশুসন্তানকে নিয়ে পিতার বাড়িতে চলে আসেন। সেখানে আসার পর থেকে আতিক প্রায় সময়ই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে লাইভে এসে মারিয়া, তার পিতা-মাতাসহ আত্মীয়-স্বজন ও পরিচিতজনদের নিয়ে নানা অশালীন ও কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য প্রচার করে আসছে। এছাড়া আতিক তাদের বিরুদ্ধে এ পর্যন্ত ৯টি মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করছে।
মারিয়া জানান, তিনি নিজের ও সন্তানের খরচ মেটানোর জন্য বিউটি পার্লারের কাজ শিখে কাপাসিয়া বাজারে একটি বিউটি পার্লার স্থাপন করলে আতিকের নানা হুমকি ও ভয়ভীতিতে প্রায় তিন মাস আগে সেটিও বন্ধ করে দিতে বাধ্য হন। বর্তমানে তিনি অভাব-অনটন, নিরাপত্তাহীনতা ও তাকে নিয়ে ফেসবুকে আতিকের অশালীন প্রচারণায় অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন।
এমতাবস্থায় সংশ্লিষ্ট সকলের সহযোগিতা না পেলে আত্মহত্যা করা ছাড়া বর্তমানে কোনো উপায় নেই বলে দাবি করেন মারিয়া।
সংবাদ সম্মেলনে তার সাথে উপস্থিত ছিলেন তার শিশুসন্তান, বাবা-মা, দাদিসহ স্বজনরা।
কেকে/এসএ