কুমিল্লার লাকসাম পৌরসভায় জমিজমা সংক্রান্ত পারিবারিক বিরোধের জেরে জাতীয়তাবাদী তাঁতীদলের পৌর সভাপতি মো. শুকুর মিয়াকে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে।
নিহতের স্বজনদের দাবি, এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। সমঝোতার কথা বলে ডেকে নিয়ে তাকে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে।
স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, শুকুর মিয়ার শ্বশুরের পরিবারের সঙ্গে তার ভাইদের জমিজমা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এই বিরোধ মেটানোর উদ্দেশ্যে একটি ঘরোয়া সালিশ বা সমঝোতা বৈঠকের আয়োজন করা হয়।
কিন্তু অভিযোগ উঠেছে, আলোচনার আড়ালে আগে থেকেই তাকে হত্যার নীল নকশা তৈরি করা হয়েছিল।
নিহতের স্বজনরা অভিযোগ করে বলেন, তাকে সমঝোতার কথা বলে ঘরে ডেকে নিয়ে যাওয়া হয় এবং একপর্যায়ে পরিকল্পিতভাবে ঘিরে ধরে হামলা চালানো হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, বৈঠক চলাকালীন শুকুর মিয়ার ওপর অতর্কিতভাবে ঝাঁপিয়ে পড়েন তার স্ত্রী বকুল বেগম এবং শ্বশুর সামু মিয়া। দেশীয় অস্ত্র ও লাঠিসোটা দিয়ে তাকে বেধড়ক মারধর করা হয়।
গতকাল বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) হামলার সময় স্থানীয়রা তাকে উদ্ধারের চেষ্টা করলে হামলাকারীরা তাতেও বাধা দেয় বলে অভিযোগ উঠেছে।
পরবর্তীতে আজ শুক্রবার (২৭ মার্চ) হাস্পাতালে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
একজন রাজপথের সক্রিয় রাজনৈতিক কর্মী এবং স্থানীয় নেতার এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে পুরো লাকসাম পৌর এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত স্ত্রী বকুল বেগম ও শ্বশুর সামু মিয়াসহ অন্যান্যরা এলাকা ছেড়ে পালিয়েছে।
স্থানীয় সচেতন মহল এবং রাজনৈতিক কর্মীরা এই উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়ে দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
ঘটনার খবর পেয়ে লাকসাম থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি শেষে ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে।
পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, পারিবারিক ও জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। পুলিশ জানিয়েছে, আসামিদের ধরতে অভিযান শুরু হয়েছে এবং মামলার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
কেকে/এলএ