দেড় যুগেরও বেশি সময় রাষ্ট্রক্ষমতার বাইরে থাকার পর গত ফেব্রুয়ারি মাসে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে জয় পেয়ে সরকার গঠন করে, অনেকটাই ফুরফুরে মেজাজে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। এখন সরকার ও বিএনপিকে ঢেলে সাজানোর পাশাপাশি ছাত্রদলের নতুন নেতৃত্বকে প্রাধান্য দিচ্ছেন বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একইসঙ্গে, সিলেকশনের পরিবর্তে সরাসরি কাউন্সিলের মাধ্যমে ছাত্রদলের নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে।
বর্তমান কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়ায় এবং পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে সংগঠনকে গতিশীল করতে কেন্দ্রীয় কমিটি পুনর্গঠনের তোড়জোড় চলছে।
বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন ছাত্রদলের শীর্ষনেতারা। এ সময় দলীয় প্রধান কাউন্সিলের মাধ্যমে ছাত্রদলের নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনের তাগিদ দেন। একইসঙ্গে, দেশের সব মহানগর-জেলাসহ ইউনিট কমিটিগুলো সাজানোর কথা বলেন। সব কিছু ঠিক থাকলে, আগামী জুন-জুলাইয়ে ছাত্রদলের কাউন্সিল হতে পারে।
তৃণমূলের দাবি, গতানুগতিক নেতৃত্ব বাছাই না করে, মেধাবী, স্মার্ট ও সিন্ডিকেটমুক্ত ছাত্রদলের নতুন নেতৃত্ব নির্বাচিত হোক। যারা বর্তমান দেশের প্রধান বিরোধী রাজনৈতিক দল জামায়াতের ইসলামীর ছাত্রসংগঠন ইসলামী ছাত্রশিবির ও পতিত আওয়ামী লীগের ছাত্রসংগঠন নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগকে ঠেকাতে কার্যকর উদ্যোগ নিতে পারবে। যেখানে থাকবে না কোনো কমিটি বাণিজ্য কিংবা স্বজনপ্রীতি। যোগ্যতার ভিত্তিতে মূল্যায়িত করা হবে নেতৃত্ব।
এসব আলোচনার মধ্যেই, রাজধানীর নয়া পল্টনে আজ শনিবার বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে যাবেন দলটির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। গতকাল, শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর রমনার ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে বিএনপির আলোচনা সভায় তিনি এ কথা জানান। সভা শেষে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তারেক রহমান বলেন, “কালকে পল্টন অফিসে যাবো আমি। ওখানে দেখতে চাই।”
তথ্যমতে, বিএনপির আন্দোলনের অন্যতম চালিকাশক্তি জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল। ২০২৪ সালের ১ মার্চ রাকিবুল ইসলাম রাকিবকে সভাপতি ও নাছির উদ্দীন নাছিরকে সাধারণ সম্পাদক করে ৭ সদস্যের নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি গঠন করা হয়। এরপর ১৫ জুন, ২৬০ সদস্য বিশিষ্ট কমিটির আংশিক প্রকাশ করা হয়। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পরবর্তী ছাত্র রাজনীতির প্রতি দেশবাসীর যে আকাক্সক্ষা তৈরি হয়েছিল, সেটি পুরোপুরি অর্জন করতে পারেনি সংগঠনটি।
অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে ছাত্রদল বেশকিছু ইতিবাচক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করলেও, অতিসম্প্রতি ছাত্রদলের কার্যক্রমে স্থবিরতা তৈরি হয়েছে। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র সংসদ নির্বাচনের পর, ছাত্রদলের কার্যক্রম আরও মন্থর হয়েছে। এ অবস্থায়, গত বছরের ১৯ অক্টোবর থেকে কমিটি আরও বর্ধিত করার দাবিতে কর্মসূচি পালন করেছেন পদবঞ্চিতরা।
তারা ভাষ্য, প্রথমদিকে বলা হয়েছিল যে ছাত্রদলের পূর্ণাঙ্গ কমিটি খুবই ছোট আকারের হবে, কিন্তু এখন দুই বছর তাদের অসংখ্যবার আশ্বস্ত করেও পূর্ণাঙ্গ কমিটি করা হয়নি। পদ না পেয়ে পারিবারিক ও সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন হয়েছেন তারা, এবং স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন-সংগ্রামে জেল-জুলুম এবং মামলার শিকার হলেও এখন দলীয় পরিচয়হীনতায় ভুগছেন।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে, ছাত্রদল সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব বলেন, “আমরা ছাত্রদল অতীতের মতোই বিএনপির ভ্যানগার্ড হিসেবে মাঠে রয়েছি এবং সংগঠনের প্রয়োজনে ছাত্রদলে নতুনভাবে পদ দেওয়ার বিষয়টি সাংগঠনিক অভিভাবক তারেক রহমান দেখবেন, পাশাপাশি ক্যাম্পাসভিত্তিক স্বাভাবিক কার্যক্রম চলমান রয়েছে।”
এদিকে, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়ায় নতুন নেতৃত্ব গঠনের বিষয়ে বিএনপির ভেতরে তৎপরতা শুরু হয়েছে, এবং নতুন নেতৃত্বে আসতে ছাত্রদলের সম্ভাব্য নেতারা এখন বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ ও লবিং-তদবিরে ব্যস্ত সময় পার করছেন।
একইসঙ্গে, কাউন্সিলে নেতা নির্বাচন করার সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদপ্রত্যাশীরা সারা দেশের বিভিন্ন ইউনিটের নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়িয়েছেন এবং ইতোমধ্যে সংগঠনের শীর্ষ দুই পদে ডজনখানেক নেতার নাম আলোচনায় এসেছে।
যদিও বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী জানান, ছাত্রদলের নতুন কমিটি গঠনের ব্যাপারে এখনো কোনো আলাপ-আলোচনা হয়নি, এবং বিষয়টি সম্পূর্ণ হাইকমান্ডের এখতিয়ার।
ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির বলেন, “সংগঠনের নতুন কমিটি হতে সময় লাগবে এবং ভবিষ্যতে সংগঠনের অভিভাবক বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান যে দায়িত্ব দেবেন, তা পালন করবেন ইনশাল্লাহ।”
কেকে/এলএ