মাদককারবারিদের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে মোংলাবাসীর প্রতি কঠোর ও স্পষ্ট আহ্বান জানিয়েছেন মোংলা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শাহীনুর রহমান শাহীন।
তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন, “মাদক ব্যবসায় করে কেউ পার পাবে না—আইনের কঠোর হাত তাদের গলায় পৌঁছাতে আর দেরি নেই।”
শনিবার (২৮ মার্চ) সকালে একান্ত সাক্ষাৎকারে শাহীনুর রহমান এসব কথা বলেন।
তিনি আরও বলেন, ‘মাদক শুধু ব্যক্তি নয়, একটি সমাজ, একটি প্রজন্ম ও রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ ধ্বংস করে। তাই মাদকের বিরুদ্ধে লড়াই কোনো একক বাহিনীর দায়িত্ব নয়; এটি হতে হবে সর্বস্তরের মানুষের সম্মিলিত যুদ্ধ।’’
শাহীনুর রহমান জোর দিয়ে বলেন, “মোংলাকে মাদকমুক্ত করতে হলে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, শিক্ষক সমাজ, সাংস্কৃতিক কর্মী, অভিভাবক এবং সচেতন নাগরিকদের একই প্ল্যাটফর্মে দাঁড়াতে হবে।”
আরও জানান, গত ২৮ ডিসেম্বর মোংলা থানায় যোগদানের পর থেকে এ পর্যন্ত মাদকবিরোধী অভিযানে নজিরবিহীন সাফল্য অর্জিত হয়েছে। তার নেতৃত্বে পরিচালিত ধারাবাহিক অভিযানে বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য জব্দ করা হয়েছে এবং একাধিক শীর্ষ মাদক সম্রাটসহ অসংখ্য মাদক বিক্রেতাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যা অতীতের সব রেকর্ডকে ছাড়িয়ে গেছে।
এই সাফল্যকে তিনি পুলিশ ও জনগণের যৌথ প্রচেষ্টার ফল বলে উল্লেখ করেন।
ওসি শাহীন আরও বলেন, ‘মাদক ব্যবসায়ীরা যতই প্রভাবশালী হোক না কেন, তাদের কোনো রকম ছাড় দেওয়া হবে না। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ইতোমধ্যে কঠোর নজরদারি শুরু করেছে এবং গোপন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান আরও জোরদার করা হবে।’
তিনি বলেন, “যে-ই মাদকের সঙ্গে জড়িত থাকবে, তাকে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।”
শাহীনুর রহমান স্পষ্ট ভাষায় সতর্ক করে দেন, “মাদক বিক্রেতারা এখনই সাবধান হোন। এই অবৈধ ব্যবসায় বন্ধ না করলে তাদের জন্য সামনে অপেক্ষা করছে কঠিন পরিণতি—গ্রেপ্তার, জেল এবং সামাজিকভাবে সম্পূর্ণ বর্জন।”
তিনি দাবি করেন, জনগণের আন্তরিক সহযোগিতা পেলে খুব অল্প সময়ের মধ্যেই মোংলাকে মাদকমুক্ত করা সম্ভব। সব শ্রেণি-পেশার মানুষের সদিচ্ছা ও তথ্য সহায়তা থাকলে, তিন দিনের মধ্যেও বড় ধরনের পরিবর্তন আনা সম্ভব।
কেকে/এমএ