হঠাৎ বয়ে যাওয়া কালবৈশাখী ঝড় ও ভয়াবহ শিলাবৃষ্টিতে লালমনিরহাটের পাঁচ উপজেলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
শুক্রবার (২৭ মার্চ) মধ্যরাতের এই তাণ্ডবে শত শত ঘরবাড়ির টিন ছিদ্র হয়ে গেছে এবং কয়েক হাজার একর জমির উঠতি ফসল মাটির সাথে মিশে গেছে। বর্তমানে জেলার বিভিন্ন এলাকায় শত শত পরিবার খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করছে।
শুক্রবার দিবাগত রাত আনুমানিক ১২টার পর হঠাৎ লালমনিরহাটের আকাশ কালো মেঘে ঢেকে যায়। মুহূর্তেই শুরু হয় প্রচণ্ড ঝড়ো হাওয়া এবং বড় আকারের শিলাবৃষ্টি।
স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, শিলার আকার এতোটাই বড় ছিল যে ঘরবাড়ির টিন চালুনির মতো ছিদ্র হয়ে গেছে। ঘরের ভেতরে থাকা আসবাবপত্র ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ভিজে নষ্ট হয়ে গেছে অনেকের। ঝড়ে গাছপালা উপড়ে বৈদ্যুতিক তার ছিঁড়ে যাওয়ায় জেলার বড় একটি অংশ বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়ে।
শনিবার (২৮ মার্চ) সকালে বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে কৃষকদের হাহাকার। সবেমাত্র মোচা আসা ভুট্টা গাছগুলো ঝড়ে মাটির সাথে মিশে গেছে। এছাড়াও পেঁয়াজ, রসুন, তামাক, বাদাম ও বিভিন্ন জাতের সবজি খেত পাথরের মতো শিলার আঘাতে লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে।
ভোটমারীর চাষি তমিজ উদ্দিন আর্তনাদ করে বলেন, ‘চড়া দামে সার ও বীজ কিনে তিন বিঘা জমিতে ভুট্টা বুনেছিলাম। সব এখন মাটির সাথে মিশে গেছে। পেটের ভাত জোগাবো নাকি ঋণের টাকা শোধ করবো, সেই চিন্তায় কূল পাচ্ছি না।’
তামাক চাষি শাহ আলমের অভিযোগ, পাথরের আঘাতে তামাক পাতা ছিঁড়ে যাওয়ায় এবং বৃষ্টির পানিতে ভিজে যাওয়ায় গুণগত মান ও ওজন দুই-ই কমে যাবে, ফলে বড় ধরনের লোকসান নিশ্চিত।
সরেজমিন দেখা গেছে, লালমনিরহাট সদর উপজেলার হারাটি ও খুনিয়াগাছ ইউনিয়ন, কালীগঞ্জের ভোটমারী ও কাকিনা, আদিতমারীর মহিষখোচা ও তিস্তা চরাঞ্চল সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মহিষখোচা ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আব্দুল মজিদ জানান, তার ইউনিয়নেই প্রায় ১০০ পরিবার ঘরবাড়ি হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছে।
বিদ্যুৎ বিভাগ জনবল নিয়ে মাঠে নেমেছে বিদ্যুৎ সংযোগ সচল করার জন্য।
লালমনিরহাট জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মীর ফয়সাল আলী গণমাধ্যমকে বলেন, ‘ক্ষয়ক্ষতির তালিকা তৈরির কাজ মাঠ পর্যায়ে শুরু হয়েছে। আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানিয়েছি। সরকারি বরাদ্দ এলেই ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন ও সহায়তা দেওয়া হবে।’
কেকে/এমএ