বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলার পশ্চিম সুজনকাঠীতে শ্রীশ্রী হরি গুরুচাঁদ ঠাকুর মন্দিরটি ভাঙচুর ও জমি দখলের আশঙ্কায় আদালতে মামলা দায়ের করা হলেও শেষ রক্ষা হয়নি। আদালতের নির্দেশ অমান্য করে শ্রীশ্রী হরি গুরুচাঁদ ঠাকুর মন্দিরটি ভবন ভাঙচুর করা হয়েছে। মামলার বাদী অমল চন্দ্র হালদার (৫০) বাধা উপেক্ষা করে প্রতিপক্ষরা মন্দিরটি ভাঙচুর করে। প্রভাবশালীদের হুমকির মুখে মামলার বাদি অমল চন্দ্র হালদার পালিয়ে বেড়াচ্ছেন।
শনিবার (২৮ মার্চ) দুপুরে মামলার বাদী আগৈলঝাড়া উপজেলার আস্কর নিবাসী ও ইন্টারন্যাশনাল মতুয়া মিশন বাংলাদেশের যুগ্ম আপ্যায়ন বিষয়ক সম্পাদক অমল চন্দ্র হালদার গৌরনদীর সাংবাদিকদের বলেন, ‘আগৈরঝাড়া উপজেলা সদরের কেন্দ্রীয় কালী মন্দিরের আঙ্গিনায় শ্রীশ্রী হরি গুরুচাঁদ ঠাকুর মন্দির প্রতিষ্ঠিত। জেএল ৪১, বিআরএস খতিয়ান নম্বর ৬২১, বিআরএস দাগ নম্বর ১৪৮, মোট জমির পরিমাণ ৩৪ দশমিক ৩৭ শতাংশ। যার মধ্যে শ্রী শ্রী হরি গুরুচাঁদ ঠাকুর মন্দিরের ৫ শতাংশ জমি ভোগ দখলীয়।’
তিনি জানান, এ মন্দিরে প্রতিদিন ভক্তবৃন্দদের উপস্থিতিতে পূজা অর্চনা ও মহোৎসব হয়ে আসছে। মন্দিরটি দীর্ঘদিন ধরে ওই স্থানে রয়েছে। গত ৭ মার্চ সকাল ১০টার দিকে বিবাদী সঞ্জিত কুমার বাড়ৈ (৫৫), অমূল্য রতন বাড়ৈ (৫৪), মিন্টু মন্ডল (৪৫) ও কার্তিক বেপারীসহ আরো অনেকে মন্দির ভাঙার জন্য আসে।
এ সময় অমল চন্দ্র হালদারসহ স্বাক্ষীরা বাধা দিলে বিবাদীরা বাধার মুখে শ্রীশ্রী হরি গুরুচাঁদ ঠাকুর মন্দির ভাঙতে পারেনি। এ সময় বিবাদীরা অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে এবং খুন জখমের হুমকি দেন। এ ঘটনায় গত ৯ মার্চ বরিশাল অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে অমল চন্দ্র হালদার বাদি হয়ে সঞ্জিত কুমার বাড়ৈ, অমূল্য রতন বাড়ৈ, মিন্টু মন্ডল ও কার্তিক বেপারীসহ অজ্ঞাতনামা কয়েকজনকে বিবাদী করে মামলা দায়ের করেন।
আদালতের বিচারক বিরোধীয় সম্পত্তির দখল ও মালিকানা বিষয়ে সরেজমিনে তদন্ত করে আগৈলঝাড়া উপজেলা সহকারী কমিশনারকে (ভূমি) প্রতিবেদন দাখিল ও আগৈলঝাড়া থানাকে বিরোধীয় সম্পত্তিতে শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রাখতে নির্দেশ দেন।
আগৈলঝাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাসুদ হাসান খান বলেন, ‘আদালতের নিদের্শ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার জন্য থানার ওসি (তদন্ত) সুশংকর মল্লিককে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।’
ইন্টারন্যাশনাল শ্রীশ্রী হরি-গুরুচাঁদ মিশনের সভাপতি বিমল চন্দ্র কর বলেন, ‘আগৈলঝাড়া থানার ওসি (তদন্ত) সুশংকর মল্লিক গত ১০ মার্চ মামলার বাদি ও বিবাদীকে শান্তি শৃঙলা বজায় রাখার জন্য নোটিশ দেন। নোটিশ প্রদানের একদিন পর সুশংকর মল্লিক মামলার বাদি অমল চন্দ্র হালদারকে থানায় এনে তিনটি সাদা কাগজে জোরপূর্বক স্বাক্ষর নেন। পরবর্তী অমল চন্দ্র হালদারকে বিরোধপূর্ণ মন্দিরের নিয়ে তার উস্থিতিতে মন্দির ভাঙচুর করে।’
অমূল্য রতন বাড়ৈ বলেন, ‘আগৈলঝাড়া উপজেলার পশ্চিম সুজনকাঠী মৌজার বিএস ৬২১ নম্বর খতিয়ানে ১৪৮ নম্বর দাগের মালিক শ্রীশ্রী কেন্দ্রীয় কালি মন্দির। মন্দির সংস্কার করার জন্য পুরাতন ভবনসহ অন্যান্য ভবন ভাঙা হয়েছে। নতুন ভবন নির্মাণ করার পর শ্রী শ্রী হরি গুরুচাঁদ ঠাকুর মন্দির স্থাপন করা হবে।’
কেকে/এমএ