চট্টগ্রামে প্রস্তাবিত ‘ফটিকছড়ি উত্তর’ উপজেলার সদর দপ্তর স্থাপনে জনমত উপেক্ষা করে একটি স্বার্থান্বেষী মহলের ষড়যন্ত্র ও মিথ্যা তথ্য উপস্থাপনের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন হয়েছে।
শনিবার (২৮ মার্চ) দুপুরে একটি রেস্টুরেন্টে ‘উত্তর ফটিকছড়ি সচেতন নাগরিক সমাজ’-এর উদ্যোগে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন মাস্টার শফিউল আলম।
লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘বর্তমান উপজেলা সদর থেকে মাত্র ৭ কিলোমিটার দূরে পশ্চিম ভুজপুর মৌজায় সদর দপ্তর স্থাপনের অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে, যা জনস্বার্থের পরিপন্থী। ফটিকছড়ির দুর্গম ইউনিয়ন বাগানবাজার, দাঁতমারা ও নারায়নহাটের দুই লক্ষাধিক মানুষের দীর্ঘদিনের দাবির প্রেক্ষিতে সরকার ‘ফটিকছড়ি উত্তর’ উপজেলা গঠনের উদ্যোগ নেয়। ২০২৩ সালের মে মাসে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ৪টি গণশুনানি শেষে জনমতের ভিত্তিতে একটি প্রতিবেদন সরকারের উচ্চপর্যায়ে পাঠানো হয়। সেখানে বর্তমান উপজেলা সদর থেকে ২৫-৩০ কিলোমিটার দূরে দাঁতমারা বা জুজখোলা মৌজার মধ্যবর্তী স্থানে সদর দপ্তর স্থাপনের সুপারিশ করা হয়েছিল।’
শফিউল আলম অভিযোগ করে বলেন, ‘বিগত সরকারের মদদপুষ্ট একটি সিন্ডিকেট এবং তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোজাম্মেল হক চৌধুরী প্রকৃত তথ্য গোপন করে বিভ্রান্তিকর প্রতিবেদন দাখিল করেন। ওই প্রতিবেদনে দূরত্ব ১৪ কিলোমিটার উল্লেখ করা হলেও বাস্তবে তা মাত্র ৭ কিলোমিটার এবং সংশ্লিষ্ট এলাকা নিয়মিত বন্যাকবলিত।’
লিখিত বক্তব্যে উল্লেখ করা হয়, বাগানবাজার বা দাঁতমারা থেকে বর্তমান উপজেলা সদরের দূরত্ব প্রায় ৫০-৬০ কিলোমিটার। মানুষের দুর্ভোগ লাঘবের লক্ষ্যেই নতুন উপজেলা গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হলেও, সদর দপ্তর যদি বর্তমান সদরের কাছাকাছি স্থাপন করা হয়, তাহলে উত্তরের জনগণের প্রত্যাশা পূরণ হবে না।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন গণঅধিকার পরিষদের নেতা রবিউল হাসান, বিএনপি নেতা শেখ মো. মনির হায়দার, নারায়নহাট ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কামাল উদ্দিন সিকদার, মো. এনামুল হক, নাছির উদ্দীন চৌধুরী, আবু জাফর, নুর আবছার, মুন্সি মোহাম্মদ ইউনুস, সাহেদুল আলম চৌধুরী প্রমুখ।
কেকে/এমএ