ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর এবার পুরোদমে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। সংসদ নির্বাচনের মতো স্থানীয় নির্বাচনেও শক্ত অবস্থান তৈরি করতে চাইছে দলটি। সেই লক্ষ্যে সিটি করপোরেশন থেকে শুরু করে ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে প্রার্থী দেওয়ার পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে তারা, যেখানে নারী প্রার্থীদের অংশগ্রহণও থাকবে উল্লেখযোগ্য হারে।
তথ্যমতে, সংসদ নির্বাচনে আসনসংখ্যায় তুলনামূলকভাবে পিছিয়ে থাকলেও ভোটের পরিসংখ্যান দলটির নেতাকর্মীদের ব্যাপক আত্মবিশ্বাস তৈরি করেছে। নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন জোট দলীয়ভাবে ৬৮টি এবং জোটগতভাবে পেয়েছে মোট ৭৭টি আসন। অন্যদিকে ক্ষমতাসীন বিএনপি পেয়েছে ২১২টি আসন।
তবে ভোটের হিসাব বলছে, বিএনপি মোট ভোটের প্রায় অর্ধেক পেলেও জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোট পেয়েছে ৩৮ দশমিক ৫০ শতাংশ ভোট, যা সংখ্যায় প্রায় দুই কোটি ৮৮ লাখ ভোট। অতীতে যেখানে দলটির ভোটপ্রাপ্তি ছিল সর্বোচ্চ ১২ শতাংশ। ফলে এ সাফল্যের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে আগাম প্রস্তুতি শুরু করেছে দলটি।
ইতোমধ্যে দেশের ১২টি সিটি করপোরেশনে জোরদার করা হয়েছে দলটির সাংগঠনিক কার্যক্রম। এর মধ্যে রাজধানীর দুই সিটি করপোরেশনের তৎপরতা চোখে পড়ার মতো। কাউন্সিলর পদে সম্ভাব্য প্রার্থীদের বাছাইও শেষ, যাদের মধ্যে অনেকে জাতীয় নির্বাচনে মাঠে সক্রিয় থেকে নিজেদের সক্ষমতা জানান দিয়েছেন।
এ ছাড়া মেয়র পদে প্রার্থী নির্ধারণের ক্ষেত্রেও দলটি একাধিক সম্ভাব্য নাম সামনে রেখে অভ্যন্তরীণভাবে মতামত নিচ্ছে। একইভাবে জেলা, উপজেলা, ইউনিয়ন পরিষদ এবং পৌরসভা পর্যায়েও চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান, মেয়র ও কাউন্সিলর পদে প্রার্থী বাছাই প্রক্রিয়া চলছে। সংরক্ষিত নারী আসনগুলোতেও প্রার্থী দেওয়ার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। বিশেষ করে জাতীয় নির্বাচনে নারী কর্মীদের সক্রিয় ভূমিকা—বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোট চাওয়া থেকে শুরু করে ভোটারদের কেন্দ্রে আনা—দলটির কাছে নারী শক্তিকে আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে।
এদিকে নির্বাচন কমিশনের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঈদুল ফিতরের পর থেকেই ধাপে ধাপে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজন করা হতে পারে। আইন অনুযায়ী সিটি করপোরেশনের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগের ১৮০ দিনের মধ্যে নির্বাচন সম্পন্ন করার বাধ্যবাধকতা থাকলেও ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়াদ শেষ হয়েছে ২০২৫ সালের জুনের প্রথম সপ্তাহে। যার ফলে নির্বাচন নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে প্রস্তুতির চাপ আরও বেড়েছে।
এ বিষয়ে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের জানিয়েছেন, স্থানীয় নির্বাচন সামনে রেখে দলীয় প্রস্তুতি জোরদার করা হয়েছে এবং তৃণমূল থেকে প্রার্থী বাছাইয়ের কাজ চলমান রয়েছে। তবে এখনো চূড়ান্ত তালিকা নির্ধারণ হয়নি। প্রতিটি পর্যায়ে প্রার্থী নির্ধারণের প্রক্রিয়া এগিয়ে চলছে বলে তিনি জানান।
অন্যদিকে, স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট থাকবে কি না—এমন প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে রাজনৈতিক মহলে। বিষয়টি নিয়ে আগ্রহ রয়েছে জনসাধারণের মধ্যেও। আসন সমঝোতার ভিত্তিতে তৈরি হওয়া সেই ঐক্য কি নতুন রাজনৈতিক জোট হিসেবে সামনে এগোবে? নিশ্চিত করে না বললেও সম্ভাবনা উড়িয়ে দিচ্ছেন না জামায়াত নেতারা। দলটির পক্ষ থেকে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে যে, আনুষ্ঠানিক কাঠামো না থাকলেও একটি সমন্বিত অবস্থান বজায় রয়েছে। জাতীয় সংসদে এবং সংসদের বাইরে জোটভুক্ত দলগুলোর মধ্যে নিয়মিত বৈঠক, আলোচনা ও মতবিনিময় চলছে।
দলটির নায়েবে আমির এ টি এম আজহারুল ইসলাম বলেছেন, নির্বাচনি ঐক্য—যেটা বলেছি—আমরা এখনো তাতে ঐক্যবদ্ধ আছি। যদি প্রয়োজন হয়, তখন আমরা বসে নির্বাচনি ঐক্য বাদ দিয়ে ১১ দলীয় জোটও করতে পারি। সেটা সামনে সময়ই বলে দেবে।
কেকে/এলএ