বাংলাদেশকে সুখী ও সমৃদ্ধশালী রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি সব সংস্থাকে এগিয়ে আসতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন বান্দরবান সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মারুফা সুলতানা খান হীরামনি।
তিনি বলেন, “শিশু ও নারীদের উন্নয়ন এবং অতিদরিদ্রদের প্রতি বিশেষ নজর রেখে উন্নয়ন প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন করতে হবে।”
রোববার (২৯ মার্চ) সকালে বান্দরবানের বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা গ্রাউসের (গ্রাম উন্নয়ন সংগঠন) বাস্তবায়নে এবং ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশের সহযোগিতায় সদর উপজেলা পরিষদের সভাকক্ষে অতিদরিদ্র পরিবারের উন্নয়নের লক্ষ্যে মোবাইল ব্যাংকিং বিকাশের মাধ্যমে অর্থ বিতরণ কর্মসূচির এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
এসময় তিনি বলেন, “সমাজে কেউ দরিদ্র ও অসহায় অবস্থায় থাকুক, তা আমরা চাই না। প্রত্যেকে যেন স্বাবলম্বী হতে পারে এবং প্রতিবেশীরাও স্বচ্ছলভাবে জীবনযাপন করতে পারে—এটাই আমাদের প্রত্যাশা।”
হীরামনি বলেন, “সরকারের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠান সাধারণ মানুষের উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে। পাশাপাশি সমাজের বিত্তবানদের দরিদ্র ও অতিদরিদ্রদের পাশে আরও এগিয়ে আসা উচিত।”
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বান্দরবান সদর উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা সত্যজিৎ মজুমদার ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশের সহযোগিতার অর্থ সঠিকভাবে ব্যবহারের আহ্বান জানান এবং প্রতারণা থেকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন।
তিনি বলেন, “প্রাপ্ত অর্থ সঠিকভাবে ব্যয় করে নিজেদের উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হবে এবং ভবিষ্যতে আর্থিক অবস্থার উন্নয়নে কাজ করে যেতে হবে।’’
একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেন, “বিকাশের নামে বিভিন্ন প্রতারক চক্র সক্রিয় রয়েছে, তাই কারও সঙ্গে গোপন পিন শেয়ার করা যাবে না এবং না জেনে কাউকে অর্থ পাঠানো থেকে বিরত থাকতে হবে।”
ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশের বান্দরবানের সিনিয়র ম্যানেজার আশীষ কুমার হালদার বলেন, “তাদের পক্ষ থেকে দেওয়া সহায়তা সামান্য হলেও এই অর্থ সঠিকভাবে কাজে লাগাতে পারলে অনেকের ভবিষ্যৎ পরিবর্তন সম্ভব।”
গ্রাউসের চেয়ারপার্সন মংথুই চিং মারমার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ওয়ার্ল্ড ভিশনের টেকনিক্যাল স্পেশালিস্ট এম এ আজিজ, গ্রাউসের প্রোগ্রাম ম্যানেজার টুলু মারমা, সংস্থার উপকারভোগী এবং বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা।
অনুষ্ঠানে বান্দরবান সদর উপজেলার কুহালং, রাজবিলা, জামছড়ি ও টংকাবতী ইউনিয়ন এবং বান্দরবান পৌরসভাসহ মোট ছয়টি এলাকার ৬৬৫ জন অতিদরিদ্র পরিবারের মাঝে জনপ্রতি ১০ হাজার টাকা করে বিকাশের মাধ্যমে অর্থ প্রদান কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন করা হয়।
আয়োজকেরা জানান, গ্রাউস বাস্তবায়নে এবং ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশের সহযোগিতায় এই কর্মসূচি চালু হয়েছে। সঠিকভাবে বাস্তবায়ন হলে এলাকার অতিদরিদ্র পরিবারগুলোর আর্থিক স্বচ্ছলতা ফিরে আসবে এবং সামগ্রিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে।
কেকে/এলএ