বান্দরবান জেলার লামা উপজেলার বাজারগুলোতে গরুর মাংস বিক্রি বন্ধ রয়েছে। এতে বিপাকে পড়েছেন গ্রাহকরা
শুক্রবার (২৭ মার্চ) দুপুরে মাংস ব্যবসায়ীরা বৈঠক করে এ সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর শনিবার (২৮ মার্চ) থেকে মাংস বিক্রি বন্ধ করে দেন তারা।
উপজেলা প্রশাসন ও কৃষি বিপণন কর্তৃপক্ষের বেঁধে দেওয়া নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে কেজি প্রতি ৫০ টাকা না বাড়ালে অনির্দিষ্টকালের জন্য মাংস বিক্রি বন্ধ থাকবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।
এর আগে লামা উপজেলা প্রশাসন ও কৃষি বিপণন কর্তৃপক্ষ কর্তৃক গরুর মাংস বিক্রয় মূল্য যথাক্রমে ২০ হাড্ডিসহ ৭৫০ টাকা এবং হাড্ডি ব্যতিত ৮৫০ টাকা নির্ধারিত করে দেন।
ব্যবসায়ীদের দাবি হচ্ছে নির্ধারিত দামে গোস্ত বিক্রি করলে লোকসান গুনতে হয় তাদেরকে।
এর আগে, গরুর মাংসের মূল্য ইচ্ছেমতো বৃদ্ধি করা হয়- ক্রেতাদের এমন অভিযোগের ভিত্তিতে ভোক্তাধিকার আইনে প্রশাসন কয়েক দফা ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে জরিমানা আদায় করেন।
এরপরই বাজার নিয়ন্ত্রণে এই মূল্য নির্ধারণ করে দেয়া হয়।
মাংস ব্যবসায়ীরা বলেন, ‘আমাদেরকে যে মূল্যে গরু ক্রয় করতে হয় তাতে নির্ধারিত মূল্যে মাংস বিক্রি করলে প্রতিটি গরুতে ৫-৭ হাজার টাকা লোকসান গুনতে হয়। অনেক দিন ধরে বিষয়টি নিয়ে উপজেলা পরিষদ ও পৌরসভার সাথে বৈঠক করেছি। কিন্তু এরপরেও কোনো সুরাহা না হওয়ায় বিক্রি বন্ধ রেখে প্রতিবাদ জানাচ্ছি।’
ব্যবসায়ীরা জানান, লামা উপজেলায় গরুর কোনো খামার নেই। তার উপর সাপ্তাহে ২ ট্রাক ভর্তি গরু বাহিরে চলে যায়। তাছাড়া গো খাদ্য ও এলাকায় বিচরণ ক্ষেত্র সংকট হেতু সাধারণ কৃষকরাও আগের ন্যায় গরু পালন করেন না। এর মধ্যে শুধু মানুষের চাহিদা পূরণের জন্য, নানা প্রতিবন্ধকতার মাঝে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে অনেক দূরের দূর্গম থানচি মদক মায়ানমার সীমান্ত এলাকা থেকে গরু কিনে আনতে হয়।
এসব এলাকা থেকে গরু ও ছাগল কিনে পরিবহন করে এনে মাংস বিক্রি করতে গেলে খরচ বেশি হয়। এই অবস্থায় কেজিতে ৫০ টাকা বদ্ধি করে দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে মূল্য পুন নির্ধারণ না করা পর্যন্ত মাংস বিক্রি বন্ধ রাখা হবে।
লামা পৌর শহরে সরকার অননুমোদিত গোস্ত বিক্রেতার সংখ্যা ৪ জন, এর বাহিরে বিক্ষিপ্তভাবে আরো ২০ জন এই ব্যবসায় করেন।
ব্যবসায়ীরা জানান, গত কয়েক বছর ধরে লোকসান দিতে দিতে তাদের একেকজনের ২০-৫০ লাখ টাকা কর্জ হয়ে গেছে।
এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি বিপণন কর্মকর্তা বোরহান উদ্দিন বলেন, ‘মাংসের যৌক্তিক মুল্য পূন নির্ধারণের ব্যাপারটি নিয়ে সবাই মিলে আলোচনা করে যদি প্রয়োজন হয় হবে। তবে এখন পর্যন্ত নির্ধারিত মূল্যের বেশি বিক্রি করা যাবে না।’
লামা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মঈন উদ্দিন বলেন, ‘সারা দেশের যে মুল্যে বিক্রি হচ্ছে, তার সাথে সংহতি রেখে নিয়ম বেঁধে দেয়া হয়েছে। ব্যবসায়ীদের সাথে বসে পরিবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’
কেকে/এমএ