মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলায় জ্বালানি তেলের অবৈধ মজুত প্রতিরোধ, বিপণনে শৃঙ্খলা রক্ষা ও নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করতে তেল ডিপোগুলোতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) মোতায়েন করা হয়েছে।
রোববার (২৯ মার্চ) সকালে উপজেলার ডিপোগুলো পরিদর্শন করেন বিজিবির শ্রীমঙ্গল ৪৬ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সরকার আসিফ মাহমুদ।
এর আগে শনিবার (২৮ মার্চ) থেকে শ্রীমঙ্গলের পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা—এই তিনটি তেল ডিপোতে বিজিবি সদস্যরা দায়িত্ব পালন করেছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, জ্বালানি তেলের অবৈধ মজুত প্রতিরোধ, সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখা ও ডিপোগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে প্রতিটি ডিপোতে এক প্লাটুন বিজিবি সদস্য সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন শুরু করেছেন।
বিজিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়, বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের অস্থিরতার প্রভাবে দেশে কিছু অসাধু চক্র তেল মজুতের চেষ্টা করছে। এসব অপচেষ্টা ঠেকাতে ও তেল বিপণনে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতেই এই মোতায়েন করা হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, ডিপোগুলোর প্রবেশপথে বিজিবি সদস্যরা কড়া নজরদারি করছেন। তেলবাহী যানবাহনের কাগজপত্র যাচাই, প্রবেশ ও বহির্গমন নিয়ন্ত্রণ ও সন্দেহজনক গতিবিধির ওপর নজর রাখা হচ্ছে। পাশাপাশি প্রতিটি ট্যাংকারে তেল লোডিংয়ের সময়ও পর্যবেক্ষণ জোরদার করা হয়েছে।
পদ্মা ডিপোর ব্যবস্থাপক মো. আব্দুল হান্নান বলেন, ‘‘বিজিবি মোতায়েন করায় আমরা নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করছি। তেলের তেমন কোনো ঘাটতি নেই। নিয়মিত সরবরাহ আসছে, তবে বিতরণে কিছুটা সময় লাগছে।’’
ডিপো কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বর্তমানে তেলের কিছুটা সংকট থাকলেও নিয়মিত সরবরাহ চলছে। বিজিবি মোতায়েনের ফলে ডিপোগুলোতে নিরাপত্তা বৃদ্ধি পাওয়ায় সংশ্লিষ্টদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে।
শ্রীমঙ্গল বিজিবি অধিনায়ক লে. কর্নেল সরকার আসিফ মাহমুদ বলেন, “তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা ও অবৈধ মজুত প্রতিরোধের লক্ষ্যে এই ডিপোগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তিন প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। রেলপথে চট্টগ্রাম থেকে তেল আগমন কিংবা বিভিন্ন ডিপো থেকে তেলবাহী গাড়ি চলাচলের সময় অতিরিক্ত ফোর্স মোতায়েন করা হচ্ছে।”
অন্যদিকে শনিবার দুপুরে জ্বালানি তেলের পাচাররোধে শ্রীমঙ্গল উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে উপজেলা পর্যায়ে গঠিত কমিটির একটি জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইসলাম উদ্দিন। ওই সভায় সব ডিপো ও ফিলিং স্টেশনের মালিক-প্রতিনিধি এবং ভিজিল্যান্স কমিটির সব সদস্যসহ বিজিবি, পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
মো. ইসলাম উদ্দিন বলেন, ‘‘সরকারের নির্দেশনায় জরুরি সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তেলের স্বাভাবিক সাপ্লাই চেইন চালু রাখতে উপজেলা প্রশাসন থেকে প্রয়োজনীয় আইনানুগ কার্যক্রম নেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে অভিযানও পরিচালনা করা হচ্ছে।’’
তিনি বৈশ্বিক জ্বালানি পরিস্থিতি বিবেচনায় উপজেলাবাসীকে জ্বালানি তেল ব্যবহারে যথাসম্ভব সাশ্রয়ী হওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন।
কেকে/এসএ