দেশের বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় রাজশাতী সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে জ্বালানি পাচার রোধ ও মজুতের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। রাজশাহী-১ বিজিবি ব্যাটালিয়ন সীমান্ত এলাকায় অবস্থিত ১২টি পেট্রোল পাম্পে নজরদারি বাড়িয়েছে। এছাড়া রাজশাহী রেলস্টেশন সংলগ্ন পদ্মা ও যমুনা অয়েল ডিপোতে এবং হরিয়ান রেলস্টেশন এলাকায় মেঘনা পেট্রোলিয়ামের ডিপোতে চেকপোস্ট পরিচালনা শুরু করেছে। সীমান্ত এলাকা পদ্মার চরেও নজরদারি বাড়িয়েছে বিজিবি।
রোববার (২৯ মার্চ) বেলা ১১টায় রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশন এলাকায় যমুনা অয়েল কোম্পানির রেলহেড ডিপোর সামনে প্রেস ব্রিফিংয়ে রাজশাহী-১ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল রিয়াজ শাহরিয়ার এসব তথ্য জানান।
জানা যায়, পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে বাংলাদেশের চেয়ে জ্বালানি তেলের মূল্য বেশি। ফলে বিদ্যমান বিশ্ব পরিস্থিতির কারণে একটি অসাধু চক্র জ্বালানি তেল মজুদের পাশাপাশি অধিক মূল্যে বিক্রির আশায় তা সীমান্ত দিয়ে পাচারের চেষ্টা করে আসছে।
প্রেস ব্রিফিংয়ে রিয়াজ শাহরিয়ার বলেন, ‘সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে কেউ যাতে জ্বালানি তেল অবৈধভাবে মজুদ করতে না পারে এবং সীমান্ত দিয়ে যাতে কেউ তা পাচার করতে না পারে, এ জন্য বিজিবির টহলের পাশাপাশি গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। অবৈধ মজুতদারি কঠোরভাবে দমন করা হবে।’
তিনি জানান, রাজশাহী জেলার ৬৪টি পেট্রোল পাম্পের ওপর তারা নজরদারি রাখছেন, যার মধ্যে ১২টি সীমান্ত এলাকায় অবস্থিত। পাচার ও অবৈধ কার্যক্রম রোধে বিজিবি এখন পর্যন্ত ১৯২টি স্পেশাল পেট্রোল এবং তল্লাশি অভিযান পরিচালনা করেছে। এছাড়া ২৮৮টি চেকপোস্ট স্থাপন করে আড়াই হাজারের বেশি যানবাহন তল্লাশি করা হয়েছে, যাতে কোনো ধরনের অবৈধ পাচার সংঘটিত হতে না পারে।
রিয়াজ শাহরিয়ার বলেন, ‘একইসাথে জ্বালানি তেলের পাচার রোধ ও মজুতদারি রোধে স্থানীয় প্রশাসনসহ অন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সব ধরনের সহযোগিতা করছে বিজিবি।’
কেকে/এমএ