কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে একই পরিবারের নারীসহ তিনজনকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে আহত করেছে প্রতিপক্ষ।
শনিবার (২৮ মার্চ) বিকালে উপজেলার চান্দপুর ইউনিয়নের কুড়েরপাড় গ্রামে এ হামলার ঘটনা ঘটে।
রোববার (২৯ মার্চ) ভুক্তভোগী মো. রফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে আটজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৪-৫ জনকে অভিযুক্ত করে কটিয়াদী মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
হামলায় আহতরা হলেন—একই এলাকার হোসনে আরা (৪৫), তার মেয়ে স্বর্ণা আক্তার (২০) ও ছেলে তরিকুল ইসলাম (২০)। আহতদের কিশোরগঞ্জ ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
স্থানীয় ও অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, চান্দপুর কুড়েরপাড় গ্রামের গেদু মিয়ার বসতবাড়িতে জমি সংক্রান্ত পূর্ব বিরোধের জেরে তাদের নিকটাত্মীয় নূর ইসলাম, তাজুল ইসলাম, দ্বীন ইসলাম ও আল আমীন গংয়ের নেতৃত্বে একদল লোক হঠাৎ বাড়িতে ঢুকে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে তর্কে লিপ্ত হয়। একপর্যায়ে অভিযুক্তরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে হোসনে আরার ওপর হামলা চালায়। এ সময় ভুক্তভোগীর ডাক-চিৎকারে তার মেয়ে স্বর্ণা আক্তার, সুবর্ণা আক্তার, তমা আক্তার ও ছেলে তরিকুল ইসলাম এগিয়ে গেলে তাদেরও দেশীয় অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে রক্তাক্ত জখম করা হয়। স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে কটিয়াদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্মরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য হোসনে আরা, স্বর্ণা আক্তার ও তরিকুল ইসলামকে কিশোরগঞ্জ ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে রেফার করেন। বাকিরা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।
বাদী রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘‘ঘটনার পর থেকে প্রতিপক্ষের লোকজন আমাদের ক্রমাগত হুমকি দিচ্ছে। আমাদের পরিবারের সদস্যরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। অভিযোগ তুলে নিতে ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে। আমরা এর সঠিক বিচার চাই।’’
এ বিষয়ে অভিযুক্ত নূর ইসলাম বলেন, ‘‘নিজেদের ন্যায্য অধিকার আদায়ের জন্য কথা বলতে গেলে তারাই তর্কে জড়ায়। উল্টো আমাদের ওপর হামলা চালিয়েছে। এখন আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করা হচ্ছে।’’
কটিয়াদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘‘জমি সংক্রান্ত বিরোধ নিয়ে একই পরিবারের সদস্যদের ওপর হামলার ঘটনায় অভিযোগ নেওয়া হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’’
কেকে/এসএ