প্রকৃত রোগীর পিতা ও উপজেলার নাম পরিবর্তন করে অন্য একজনকে জাল মেডিকেল সনদ দেওয়ার অভিযোগে সিরাজগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ফয়সাল আহম্মেদকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।
সোমবার (৩০ মার্চ) দুপুরে সিরাজগঞ্জের অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সুমন কুমার কর্মকার তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের এপিপি হদিউজ্জামান শেখ ও নাসির উদ্দিন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
মামলার অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, ডা. ফয়সাল আহম্মেদ একটি মামলার প্রকৃত রোগী শাহজালালের পিতা মহব্বত আলীর স্থলে আলতাব ও থানা শাহজাদপুরের স্থলে বেলকুচি নিজ হাতে সংশোধন করেছেন। একই সিরিয়ালে দুইজন ব্যক্তিকে ভর্তি টিকিট দিয়েছেন তিনি। বিষয়টি আসামিপক্ষের আইনজীবী ইন্দ্রজিৎ সাহা আদালতকে লিখিতভাবে জানান।
পরবর্তীতে আদালত অভিযোগটি আমলে নিয়ে ডা. ফয়সাল আহম্মেদের বিরুদ্ধে সমন জারি করেন। ডা. ফয়সাল গত ২০২৫ সালের ১১ সেপ্টেম্বর অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি প্রদান করেন। পরে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট-৩ আদালতের বিচারক ওবায়দুল হক রুমি আমলি আদালতে নিয়মিত মামলা দায়ের ও ক্ষমতা প্রদানের জন্য আদালতের বেঞ্চ সহকারী রোজিনা খাতুনকে নির্দেশ দেন। এরপর তিনি ডা. ফয়সাল আহম্মেদ ও বেলকুচি উপজেলার কদমতলী গ্রামের আলতাব হোসেনের ছেলে মোতালেব হোসেনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। এই মামলায় সোমবার ফয়সাল আদালতে হাজির হলে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
অভিযোগপত্রে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ভিকটিম শাহজালালের পিতা আলতাব হোসেনকে একটি ইচ্ছাকৃত সৃজিত মেডিকেল সনদপত্র প্রদান করা হয়েছে যা জাল মর্মে প্রতীয়মান হয়। অর্থাৎ তিনি তার এই কাজের মাধ্যমে পেনাল কোড ১৮৬০’-এর ৪৬৩ ধারায় অপরাধ করেছেন, যা প্রাথমিক অনুসন্ধানে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে।
আদালতের এপিপি হদিউজ্জামান শেখ বলেন, ‘‘ডা. ফয়সালের বিরুদ্ধে জাল সনদ দেওয়ার একাধিক অভিযোগ ও মামলা রয়েছে। রোগীর পিতা ও উপজেলার নাম পরিবর্তন করে তিনি জাল মেডিকেল সনদপত্র দিয়েছেন। বিষয়টি তিনি আদালতে স্বীকার করেছেন। আজ আদালত তাকে কারাগারে পাঠিয়েছেন।’’
কেকে/এসএ