ফরিদপুরে হামের উপসর্গ নিয়ে দুই হাসপাতালে ১৪টি শিশু ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আটটি ও ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালে ছয়টি শিশু ভর্তি রয়েছে। দুটি হাসপাতালই চিকিৎসাধীন শিশুদের জন্য আলাদা ওয়ার্ড খুলেছে ও তাদের নমুনা সংগ্রহ করে ঢাকায় পাঠিয়েছে।
সোমবার (৩০ মার্চ) ফরিদপুরে জ্বর ও ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হওয়া ১৪ জন শিশুর শরীরে হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে।
আক্রান্তদের শরীরের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে এবং শিশুদের আলাদা ওয়ার্ডে স্থানান্তর করা হয়েছে।
ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতাল ও সিভিল সার্জনের কার্যালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
এই শিশুরা দুই-তিন দিন আগে কেউ জ্বর, কেউ পাতলা পায়খানাসহ বিভিন্ন উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়। লক্ষণ অনুযায়ী এতদিন তাদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছিল। তবে সোমবার দুপুরে ওই দুই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন শিশুদের মধ্যে ১৪ জনের শরীরে হামের উপসর্গ দেখা দেওয়ায় তাদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখার জন্য আলাদা ওয়ার্ড করা হয়।
ফরিদপুর সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, দেশে শিশুদের মাঝে হামে আক্রান্ত হওয়ার প্রকোপ বৃদ্ধি পাচ্ছে। প্রতিদিনই দু-একজন করে শিশু হামের লক্ষণ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে। আক্রান্ত শিশুদের স্যাম্পল ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। পরীক্ষার ফলাফল এলেই বোঝা যাবে তারা হামে আক্রান্ত কি না। জেলার স্বাস্থ্য বিভাগ এ বিষয়ে সতর্ক রয়েছে।
ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতাল ঘুরে দেখা গেছে, হাসপাতালের তিন তলা ভবনের নিচতলায় মহিলা মেডিসিন ওয়ার্ডে হামের উপসর্গে আক্রান্ত শিশুদের জন্য ‘হাম কর্নার’ নামে বিশেষায়িত ইউনিট খোলা হয়েছে। সেখানে শনিবার (২৮ মার্চ) ও রোববার (২৯ মার্চ) ছয়জন শিশু ভর্তি হয়। এদের মধ্যে একজনের অবস্থা কিছুটা জটিল হওয়ায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
সালথার তুগুলদিয়া গ্রামের শিশু মারিয়াম আক্তার (২) গত দুই দিন ধরে ভর্তি।
তার মা জুথি বেগম বলেন, ‘‘গত চার দিন ধরে আমার মেয়ে জ্বর, পাতলা পায়খানা ও ঠান্ডা-কাশিতে ভুগছিল। গতকাল রবিবার হাসপাতালে ভর্তি করাই। আজ দুপুরে সারা শরীরে র্যাশ ও ফুসকুড়ি উঠেছে। ডাক্তাররা বলেছেন, এটা হামের উপসর্গ।’’
একই ওয়ার্ডে ভর্তি ফরিদপুর সদরের ঈশানগোপালপুর গ্রামের বাসিন্দা জেসমিন আক্তার (১৯ মাস)।
তার বাবা ইউনুস শেখ বলেন, ‘‘গতকাল আমার মেয়ে ডাল-ভাত খায়। খাওয়ার পরই হঠাৎ করে তীব্র ডায়রিয়া দেখা দেয়। এরপর হাসপাতালে এনে ভর্তি করার পর স্যালাইন দেওয়া হয়েছে।’’
এ বিষয়ে ফরিদপুরের সিভিল সার্জন ডা. মাহমুদুল হাসান জানান, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আট জন ও ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালে ছয় জন রোগী ভর্তি আছে, যাদের শরীরে হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে। বর্তমানে ১৪ জনের নমুনা সংগ্রহ করে ঢাকার মহাখালীর রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটে (আইইডিসিআর) পাঠানো হয়েছে। রিপোর্ট পাওয়ার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে এই শিশুরা হামে আক্রান্ত কি না।
তিনি আরও জানান, ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালে ‘হাম ডেডিকেটেড ইউনিট’ ছাড়াও মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডেও বিশেষায়িত ইউনিট খোলা হয়েছে।
কেকে/এসএ