সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন দিনাজপুর-৬ আসনের সাবেক সাংসদ ও জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য শিবলী সাদিকের স্ত্রী খাদিজা মল্লিক সীমু।
সোমবার (৩০ মার্চ) রাত আটটার দিকে তাকে দিনাজপুর জিয়া হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
বর্তমানে সীমু দিনাজপুর জিয়া হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতালে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন আছেন ।
খাদিজার পরিবার ও হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে শিবলী সাদিক আত্মগোপনে রয়েছেন। সেই থেকেই তার স্ত্রী খাদিজা হাকিমপুর উপজেলা শহরের সিপি রোড এলাকায় বাবা বাবু মল্লিকের বাড়িতে অবস্থান করছেন। ২০১৯ সালের ৮ জুন শিবলী সাদিকের সাথে তার বিয়ে হয়েছিল।
হাসপাতালে ভর্তির আগে খাদিজা তার নিজের ফেসবুক পেজে এক দীর্ঘ পোস্টে তার ওপর হওয়া অন্যায়ের অভিযোগ করেন।
সীমু ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, ‘আমি যথেষ্ট শক্ত ছিলাম। কিন্তু এই মুহূর্তে বিশ্রামের প্রয়োজন। দীর্ঘ ৭ বছর ধরে আমার সঙ্গে হওয়া অন্যায় ও জুলুম আমি আর নিতে পারছি না। বিয়ের ২ থেকে ৩ মাস পর থেকেই এসব সহ্য করতে করতে আমি আজ ক্লান্ত, আমি শান্তিতে ঘুমাতে চাই।’
পোস্টে তিনি স্বামী শিবলী সাদিকসহ আরও কয়েকজনের নাম উল্লেখ করে অভিযোগ করেন তার এই পরিণতির জন্য তারা দায়ী।
নিজের মেয়ের উদ্দেশ্যে তিনি লিখেছেন, ‘স্নেহা, তোমার জন্য আমার দোয়া রইল। তুমি আমার জন্য যথেষ্ট লড়েছো।’
মা-বাবার কাছে ক্ষমা চেয়ে সীমু লিখেছেন, তার এই সিদ্ধান্ত ভুল হলেও পরিস্থিতি তাকে বাধ্য করেছে।
জিয়া হার্ট ফাউন্ডেশনের দায়িত্বরত চিকিৎসক মুসা আল আশারী গণমাধ্যমকে বলেন, ‘রাত সোয়া ৮টার দিকে খাদিজাকে হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। বর্তমানে তার অবস্থা স্থিতিশীল হলেও তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।’
বলে রাখা ভাল, শিবলী সাদিক এর আগে কণ্ঠশিল্পী সালমার সাথে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ ছিলেন। ২০১৬ সালে তাদের বিচ্ছেদ হওয়ার পর ২০১৯ সালে তিনি পারিবারিকভাবে সীমুকে বিয়ে করেন।
কেকে/এমএ