শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
২৮ ভাদ্র ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
শিরোনাম: শনিবার থেকে দেশব্যাপী তিন মাসের ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান      স্থানীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগের অংশগ্রহণের সুযোগ নেই : প্রতিমন্ত্রী শাহে আলম      হামের উপসর্গ নিয়ে আরও তিন শিশুর মৃত্যু      আরও বেড়েছে সবজির দাম      লালবাগে পাঁচতলা ভবনের নিচে মাটি খুঁড়ে মিলল ব্যবসায়ীর লাশ      কাপ্তাই বাঁধের ১৬ জলকপাট আবার খুলে দেওয়া হলো      চার ক্যাচের খেসারত, ভারতের কাছে হেরে ফাইনালের স্বপ্নভঙ্গ বাংলাদেশের      
দেশজুড়ে
এগারসিন্ধুর ইউপির প্রশাসক ইদ্রিস আলীর বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ
সাব্বির হোসেন, কিশোরগঞ্জ
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ, ২০২৬, ৫:৫৪ পিএম
মো. ইদ্রিস আলী সরকার

মো. ইদ্রিস আলী সরকার

কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় উন্নয়ন প্রকল্প কাজ বাস্তবায়ন না করে ভুয়া প্রকল্প দেখিয়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে এগারসিন্ধুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) প্রশাসক ও উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. ইদ্রিস আলী সরকারের বিরুদ্ধে। ইউনিয়ন পরিষদের ৩ জন ওয়ার্ড মেম্বারকে প্রকল্পের সভাপতি বানিয়ে কাজ না করেই তাদের কাছ থেকে সাদা চেকের পাতার স্বাক্ষর নিয়ে ১০ লাখ টাকা ব্যাংক থেকে তোলে নেন।

জানা গেছে, সরকারের রাজস্ব তহবিল থেকে ইউনিয়ন পরিষদের জন্য এক ভাগ বরাদ্দ হিসেবে ১০ লাখ টাকা পায় এগারসিন্ধুর ইউপি। গত ঈদের আগে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের কক্ষ সংস্কারসহ অন্য ৪টি গ্রামীণ সড়ক মেরামতের জন্য ২ লাখ টাকা করে ৫টি প্রকল্প তৈরি করেন প্রশাসক। 

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রকল্পের কাজ বাস্তবায়ন না করেই ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক প্রকল্পের ৩ সভাপতির কাছ থেকে চেকে স্বাক্ষর নিয়ে টাকা উত্তোলন করে নেন ইদ্রিস আলী। ২ জন সদস্যের নামে বাহাদিয়া ও চরদেওকান্দি এলাকায় ৪টি রাস্তা সংস্কারের কথা বলা হলেও প্রকৃত পক্ষে একটিতে আংশিক কাজ হয়েছে। অপরদিকে, চেয়ারম্যানের কক্ষে রঙ্গের কাজ করতে খরচ দেখানো হয় ২ লাখ টাকা।

সরেজমিনে বাহাদিয়া এরশাদের বাড়ি থেকে মহিবুরের বাড়ি পর্যন্ত ইটের সলিয়াং নির্মাণ প্রকল্প এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, মূলত এখানে ইটের রাস্তা হয়েছে দুই মাস আগে। এখানে ভুয়া রাস্তা নির্মাণ দেখিয়ে টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। 

ওই প্রকল্পের সভাপতি ইউনিয়ন পরিষদের ১ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার গোলাম মোস্তফা বলেন, ‘এই রাস্তাটি দুই মাস আগে করা হয়েছে। এখানে নতুন করে রাস্তা নির্মাণের কিছু নেই।’

তাকে এই প্রকল্পের সভাপতি করা হয়েছে, সেটি জানেননা বলেও উল্লেখ করেন তিনি। বাহাদিয়া ফকির বাড়ি থেকে আতাহারে বাড়ি পর্যন্ত রাস্তায় মাটি ভরাটের কাজ করছেন গোলাম মোস্তফা। তবে প্রকল্পের ২ লাখ টাকার মধ্যে এখনও কোন টাকা পাননি বলেও জানান তিনি।

বাহাদিয়া ফজর আলীর বাড়ি থেকে রফিকের বাড়ি পর্যন্ত রাস্তা সংস্কার এবং চর দেওকান্দি জামে মসজিদ থেকে নসিবাড়ি পর্যন্ত রাস্তা সরকার প্রকল্পের সভাপতি ৬ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার মো. আবুল কাশেম জানান, একটি প্রকল্পের কাজ করা হবে বলে আমার কাছ থেকে ব্যাংকের সাদা চেকে স্বাক্ষর নেন ইদ্রিস আলী। কত টাকার কাজ সেটিও আমাকে জানানো হয়নি। পরে জানতে পারি আমার নামে চার লাখ টাকার দুইটি প্রকল্প দাখিল করে প্রশাসক নিজেই টাকা উত্তোলন করে নেন।

৭ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার মো. খোরশেদ উদ্দিন জানান, ঈদের আগে প্রশাসক মহোদয় আমাকে বলেন, কিছু টাকা পেয়েছেন। চেয়ারম্যানের কক্ষটি রং করা হবে। এ জন্য আমার কাছ থেকে ব্যাংকের সাদা চেকে স্বাক্ষর নেন। কত টাকার কাজ করা হবে, সেটিও আমাকে বলা হয়নি। পরে জানতে পারি চেয়ারম্যানের কক্ষ রং করার জন্য দুই লাখ টাকা বরাদ্দ এসেছে। 

এদিকে, টাকা আত্মসাতের বিষয়টি জানাজানি হয়ে গেলে ইদ্রিস আলী বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন। 

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ইদ্রিস আলী বলেন, ‘ঈদের মাত্র কয়েক দিন আগে টাকা বরাদ্দ পাই। এ জন্য তড়িঘড়ি করে টাকা ব্যাংক থেকে উঠিয়ে একজনের কাছে জমা রাখা হয়েছে। দুইটি প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছে। বাকিগুলোর কাজ শেষ করা হবে।’

এ ব্যাপারে পাকুন্দিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রূপম দাস বলেন, ‘প্রকল্পের সরকারি টাকা আত্মসাতের কোন সুযোগ নেই। বিষয়টি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

কেকে/এমএ


আরও সংবাদ   বিষয়:  এগারসিন্ধু   প্রশাসক ইদ্রিস আলী   অর্থ আত্মসাৎ  
মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

দেশজুড়ে- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: [email protected], [email protected]

© 2025 Kholakagoj
🔝
close