মৌলভীবাজারে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে হামের প্রাদুর্ভাব। জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে হামের উপসর্গ নিয়ে জেলার ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট সদর হাসপাতালে এ পযন্ত ২৮ জন রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন। এর মধ্যে পরীক্ষায় ৬ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। ভর্তিকৃত রোগীর তুলনায় ২২জন ভালো থাকায় তারা হোম আইসোলেশনে রয়েছেন। এদিকে, জেলার ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট সদর হাসপাতালে নেই আইসিইউ। রয়েছে শয্যা সংকটও।
সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, জেলায় হামের উপসর্গ জ্বর ও শরীরে লালচে ফুসকুড়ি নিয়ে জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে মঙ্গলবার (৩০ মার্চ) পর্যন্ত ২৮ জন রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন। এর মধ্যে ৬ জনের অবস্থায় কিছুটা খারাপ থাকায় সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এছাড়া হাসপাতালে শয্যা সংখ্যা কম থাকায় ২২জনকে চিকিৎসা দিয়ে হোম আইসোলেশনে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
মৌলভীবাজার জেনারেল হাসপাতালের শিশু বিভাগে গিয়ে দেখা যায়, সর্দি-জ্বরসহ বিভিন্ন উপসর্গ নিয়ে প্রচুর রোগী ভর্তি রয়েছে। শয্যার তুলনায় দিগুণ রোগী থাকায় অনেক রোগীকে মেঝেতে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে।
রোগীর স্বজনদের অভিযোগ, একই বিছানায় দুই-তিনজনরোগী থাকায় সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ছে।
ভর্তিকৃত এক শিশুর মা জানান, স্থানীয়দের পরামর্শে হামের সন্দেহ নিয়ে তিনি ছেলেকে হাসপাতালে ভর্তি করিয়েছেন।
আরেক রোগীর পরিবার জানায়, শয্যা না পেয়ে তাদের রোগী মেঝেতে থেকে চিকিৎসা নিচ্ছে।
আক্রান্তের সংখ্যা বাড়লেও জেলা সদর হাসপাতালে দেখা দিয়েছে চরম শয্যা সংকট। ফলে বাধ্য হয়ে অনেক শিশুকে হাসপাতালের মেঝেতে রেখেই চিকিৎসা দিতে হচ্ছে।
পর্যাপ্ত আইসোলেশন ব্যবস্থা না থাকায় সাধারণ রোগীদের সঙ্গেই হাম আক্রান্তদের রাখা হচ্ছে, যা সংক্রমণের ঝুঁকিকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে বলে অভিযোগ করছেন উদ্বিগ্ন স্বজনরা।
সিরিয়াস কোনো রোগী হলে এখানে নেই আইসিইউ ব্যবস্থা। বাধ্য হয়েই রোগীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করতে হচ্ছে।
জানা গেছে, জেলার শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেসহ বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে হাম উপসর্গ নিয়ে অনেক রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন।
শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সিনথিয়া তাসমিন বলেন, ‘দুই সপ্তাহ আগে আমাদের এখানে পাঁচজন উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসা নিয়েছিল। আমরা তাদের স্যাম্পল পাঠিয়েছিলাম, রিপোর্টে কেউ শনাক্ত হয়নি। তবে প্রতিনিয়ত দুয়েকজন হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে আসছেন।’
মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালের আবাসিক কর্মকর্তা ডা. আহমেদ ফয়সল জামান বলেন, ‘হাসপাতালে ছয়জন হামের রাগী ভর্তি আছেন। পাশাপাশি আরও কয়েকজন হাম পরীক্ষা করিয়েছেন। তাদের রিপোর্ট পাওয়ার পর বোঝা যাবে পজিটিভ না নেগেটিভ।’
জেলা সিভিল সার্জন ডা. মো. মামুনুর রহমান দৈনিক খোলা কাগজকে বলেন, ‘হামের লক্ষণ নিয়ে প্রতিদিনই রোগীরা হাসপাতালে আসছেন। আজ মঙ্গলবার পর্যন্ত ২৮ জন চিকিৎসা নিয়েছেন। এরমধ্যে ৬জনের হাম শনাক্ত হওয়ায় হাসপাতালে ভতি রয়েছে। আমাদের হাসপাতালে শয্যা সংখ্যাও কম এবং শয্যার তুলনায় রোগীর সংখ্যা বেশি থাকায় ২২জনকে চিকিৎসা শেষে রিলিজ দেওয়া হয়েছে। বাড়িতে গিয়েও হোম আইসোলেশনে থাকার জন্য পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তবে ভর্তিকৃত রোগীরা সিরিয়াস না, সিরিয়াস হলে আমরা তাদের সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করবো। কারণ আমাদের এখানে আইসিইউ নেই।’
তিনি আরো বলেন, ‘আমরা ২৮ জন রোগীর স্যাম্পল ঢাকায় ল্যাবে পাঠিয়েছি। পরীক্ষার রিপোর্ট আসে ঢাকা থেকে। এ জন্য রিপোর্ট পেতে দেরি হচ্ছে। এছাড়া প্রতিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স আইসোলেশন ওয়ার্ড প্রস্তুত করা হয়েছে। চিকিৎসার ক্ষেত্রে পাঁচ বছরের কমবয়সী শিশুদের বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সর্দি-জ্বর, হাঁচি-কাশি ও শরীরে র্যাশ বের হওয়া হামের লক্ষণ।’
কোনো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
কেকে/এমএ