মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী আমিনুর রহমান কলেজে ফরম পূরণে অতিরিক্ত টাকা আদায়ের অভিযোগ তুলে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণের প্রতিবাদে আয়োজিত মানববন্ধনে অংশ নেওয়ায় এক শিক্ষার্থী হামলার শিকার হয়েছেন।
মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) সকালে মানববন্ধন শেষে ফেরার পথে আকিব নামের এক ছাত্রের নেতৃত্বে রমজান নামের ওই শিক্ষার্থীর ওপর রড দিয়ে অতর্কিত হামলা চালানো হয়। সিসিটিভি ফুটেজে হামলার দৃশ্য ধরা পড়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত সোমবার (৩০ মার্চ)। সেদিন আকিব, আলিমুল ও মারজানের নেতৃত্বে কিছু শিক্ষার্থী নির্বাচনী পরীক্ষায় অনুত্তীর্ণ হওয়া সত্ত্বেও ফরম পূরণের সুযোগ এবং অনৈতিক সুবিধার দাবিতে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. মিজানুর রহমানের সঙ্গে চরম বাকবিতণ্ডায় লিপ্ত হয়। তারা সাংবাদিকদের ডেকে অভিযোগ করে যে, ফরম পূরণে অতিরিক্ত টাকা ও মসজিদের উন্নয়নের নামে বাড়তি অর্থ নেওয়া হচ্ছে।
তবে কলেজ কর্তৃপক্ষ এই অভিযোগ ভিত্তিহীন দাবি করে জানায়, অনুত্তীর্ণদের বিশেষ কোচিং ক্লাসের ব্যয় মেটাতে নির্ধারিত ফি নেওয়া হচ্ছে।
এই ঘটনার প্রতিবাদে মঙ্গলবার সকালে কলেজ গেটে সাধারণ শিক্ষার্থীরা মানববন্ধনের আয়োজন করে। মানববন্ধনে শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, আকিব, আলিমুল, মারজান ও তাদের সহযোগীরা শিক্ষকদের ওপর চড়াও হয়ে কলেজের পরিবেশ নষ্ট করছে। তারা দোষীদের কলেজ থেকে বহিষ্কার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
মানববন্ধনে কলেজের প্রতিষ্ঠাতা পরিবারের পক্ষ থেকে মো. তানজির রহমান সোহাগ সংহতি প্রকাশ করে বলেন, “যারা আমাদের কলেজে পরিবেশ নষ্ট করার পায়তারা করছে এবং শিক্ষকদের সম্মানহানি ঘটিয়েছে, তারা ভুল স্বীকার করে ক্ষমা চাইলে তাদের কলেজে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে।”
প্রত্যক্ষদর্শী ও সিসিটিভি ফুটেজ সূত্রে জানা যায়, মানববন্ধন শেষে ফেরার পথে অভিযুক্ত ছাত্র আকিব, দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র, রড দিয়ে রমজান নামের এক শিক্ষার্থীর ওপর এলোপাতাড়ি হামলা চালায়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে মহম্মদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. মিজানুর রহমান বলেন, “অনৈতিক সুবিধা না পেয়ে কিছু ছাত্র শিক্ষকদের সঙ্গে যে আচরণ করেছে তা অত্যন্ত নিন্দনীয়। প্রতিবাদ করায় আমার ছাত্রের ওপর হামলার ঘটনায় আমরা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।”
কলেজ পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি তানভির রহমান সোহেল জানান, সিসিটিভি ফুটেজ দেখে হামলাকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মহম্মদপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আশরাফুজ্জামান জানান, হামলার বিষয়টি তারা অবগত হয়েছেন এবং অভিযোগ প্রাপ্তি সাপেক্ষে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।
কেকে/এলএ