বগুড়াসহ আশেপাশের তিন জেলায় হামের সংক্রমণ উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। রাজশাহী বিভাগের বগুড়া ও নওগাঁ জেলায় ইতোমধ্যে বেশকিছু রোগী শনাক্ত হয়েছে। অন্যদিকে জয়পুরহাটে এখনো নিশ্চিত রোগী পাওয়া না গেলেও সন্দেহভাজন শিশুদের নমুনা পরীক্ষা করা হচ্ছে।
স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, বগুড়ায় ১২ জন এবং নওগাঁয় ৮ জনের শরীরে হামের সংক্রমণ ল্যাব পরীক্ষায় নিশ্চিত হয়েছে। জয়পুরহাটে গত ৩১ মার্চ পর্যন্ত কোনো পজিটিভ কেস শনাক্ত হয়নি।
স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানান, সংক্রমণের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে পাবনা থেকে আশপাশের জেলাগুলোতে রোগটি ছড়িয়ে পড়ছে। আক্রান্তদের বেশিরভাগই শিশু, যাদের প্রায় ৯৫ শতাংশের বয়স দেড় মাস থেকে ৯ মাসের মধ্যে। তবে কিছু প্রাপ্তবয়স্ক রোগীও শনাক্ত হয়েছেন।
চিকিৎসকরা জানান, হাসপাতালে ভর্তি অধিকাংশ শিশুর বয়স ৯ মাসের নিচে, যা উদ্বেগজনক। রাজশাহী অঞ্চলে হামে মৃত্যুবরণকারীদের বেশিরভাগের বয়সও ৯ মাসের কম। এছাড়া হাসপাতালে ভর্তি হওয়া শিশুদের প্রায় ৯০ শতাংশই টিকা নেয়নি বলে জানা গেছে।
বগুড়ায় হাসপাতালে ভর্তি ৩৬
বগুড়া জেলায় ৩৬ জন রোগী হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। এদের মধ্যে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু বিভাগে ৫ জন এবং মোহাম্মদ আলী হাসপাতালে ৬ জন ভর্তি রয়েছে। টিএমএসএস মেডিকেল কলেজ হাসাপাতালে ভর্তি থাকা তিন শিশু চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরেছে।
জেলা সিভিল সার্জন ডা. খুরশিদ আলম জানান, জেলায় ৩৬ জন সন্দেহভাজন রোগী শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে ২৫ জনের নমুনা পরীক্ষার ফল পাওয়া গেছে, যেখানে ১২ জন পজিটিভ,১৩ জন নেগেটিভ এবং ১১ জনের রিপোর্ট এখনো অপেক্ষমাণ।
চিকিৎসকরা জানান, আক্রান্তদের ৯০ শতাংশই এক বছরের কম বয়সী এবং অধিকাংশই টিকাবঞ্চিত। একই সঙ্গে প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যেও সংক্রমণ দেখা যাচ্ছে। বগুড়ায় টিকা কার্যক্রমন চলমান রয়েছে।
নওগাঁয় বেড়েছে সংক্রমণ
নওগাঁ জেলায় হামের প্রাদুর্ভাবও বাড়ছে। জেলায় এখন পর্যন্ত ৮ জন রোগী শনাক্ত হয়েছে। উপসর্গ নিয়ে ৪১ জন রোগী পাওয়া গেছে।
সবচেয়ে বেশি সংক্রমণ দেখা দিয়েছে নওগাঁ পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ড এবং নিয়ামতপুর উপজেলার ভাবিচা ইউনিয়নের একটি ওয়ার্ডে।
নওগাঁ সদর হাসপাতাল সুত্রে জানা গেছে, রোগীর চাপ বেড়ে যাওয়ায় শয্যা সংকট দেখা দিয়েছে। অনেক রোগীকে মেঝেতে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে।
নওগাঁর সিভিল সার্জন ডা. আমিনুল ইসলাম জানান, পরিস্থিতি মোকাবিলায় আইসোলেশন ওয়ার্ড প্রস্তুত রাখা হয়েছে। আক্রান্ত এলাকাগুলোতে শিশুদের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল প্রদান করা হচ্ছে এবং সার্চিং কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।
জয়পুরহাটে সতর্কতা
জয়পুরহাটে এখনো কোনো নিশ্চিত রোগী পাওয়া যায়নি। তবে ৩১ মার্চ পর্যন্ত ৫ জন শিশুর নমুনা পরীক্ষার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। তাদের বয়স ৫ মাসের নিচে।
জয়পুরহাট জেলার সিভিল সার্জন কার্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগের কর্মকর্তা আতাউর রহমান এতথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেছেন ‘আমরা সতর্কতার সাথে পর্যবেক্ষন করছি এবং হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে যাওয়া রোগীদের গুরুত্বসহকারে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।’
তিনি জানান, জেলায় টিকার পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে যা আগামী মাসের মাঝামাঝি পর্যন্ত চলবে। পরিস্থিতি বিবেচনায় সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।
কেকে/ এমএস