কক্সবাজার জেলায় শিশুদের মধ্যে সংক্রামক রোগ হামের প্রকোপ বৃদ্ধি পাওয়ায় জনমনে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। গত কয়েক দিনে আক্রান্তের সংখ্যা কয়েক গুণ বেড়ে যাওয়ায় জেলা সদর হাসপাতালের বিশেষায়িত ওয়ার্ডে তিল ধারণের জায়গা নেই।
মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) কক্সবাজার সদর হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, শিশুটি হামের পাশাপাশি নিউমোনিয়া ও তীব্র অপুষ্টিতে ভুগছিল।
আক্রান্তের চাপ সামলাতে হাসপাতালে আলাদা হাম ওয়ার্ড খোলা হয়েছে।
কক্সবাজার সদর হাসপাতালের শিশু স্বাস্থ্য বিভাগের সহকারী রেজিস্ট্রার ডা. শহিদুল আলম বলেন, ‘‘কক্সবাজার সদর হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তবে শিশুটির হামের সাথে আরও জটিলতা ছিল। শিশুটির হামের সাথে নিউমোনিয়াসহ নানা সমস্যা ছিল। সে আগে থেকেই অপুষ্টিতে ভুগছিল। আমরা বহু চেষ্টা করেও তাকে বাঁচাতে পারিনি।’’
শহিদুল আলম আরও বলেন, ‘‘হামের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালে আলাদা ওয়ার্ড করা হয়েছে। নার্স আলাদা করা হয়েছে। যা যা সরঞ্জাম দরকার সবকিছু সরবরাহ করা হয়েছে। তবে রোগীর চাপে তাদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। প্রতিদিন কয়েক গুণ রোগী ভর্তি হচ্ছে। সকলে সহযোগিতা করলে আশা করি আমরা সফলভাবে মোকাবিলা করতে পারব।’’
কক্সবাজারের ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডা. মহিউদ্দীন মোহাম্মদ আলমগীর জানান, শিশুটি হামের পাশাপাশি অন্যান্য রোগে আক্রান্ত ছিল। চিকিৎসকরা বহু চেষ্টার পরেও তাকে বাঁচাতে পারেননি।
তবে শিশুটির পরিচয় এবং কবে মারা গেছে সেই তথ্য বিস্তারিত জানা যায়নি।
কক্সবাজারে উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে হামে আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা। কক্সবাজার সদর হাসপাতালে জরুরি ভিত্তিতে খোলা হয়েছে ছোঁয়াচে হাম রোগে আক্রান্ত শিশুদের জন্য আলাদা ওয়ার্ড। এছাড়া কক্সবাজারের বেসরকারি হাসপাতালেও চলছে হামে আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসা।
কক্সবাজার সদর হাসপাতালের পরিসংখ্যান কর্মকর্তা সেলিম উল্লাহ বলেন, ‘‘সদর হাসপাতালে নতুন করে ১১টি শিশু হামে আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়েছে। এই মুহূর্তে মোট ভর্তি রয়েছে ৩৭টি শিশু। কেবলমাত্র কক্সবাজার সদর হাসপাতালে হামে আক্রান্ত মোট শিশুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১১৯ জন। তার মধ্যে ৮২টি শিশু সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে।’’
কক্সবাজার সদর হাসপাতাল ছাড়াও কক্সবাজার জেনারেল হাসপাতালেও চলছে শিশুদের হামের চিকিৎসা।
হাসপাতালের সুপারভাইজার ইরফানুল হক সবুজ বলেন, ‘‘আমাদের হাসপাতালে ১৫ রমজান থেকে হামে আক্রান্ত শিশু ভর্তি হতে শুরু করে। সেটি দিন দিন বাড়ছে। সোমবার পর্যন্ত পাঁচজন শিশু ভর্তি রয়েছে।’’
ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডা. মহিউদ্দীন মোহাম্মদ আলমগীর বলেন, ‘‘কক্সবাজারে সাম্প্রতিক সময়ে হামের প্রাদুর্ভাব বেশি দেখা দিচ্ছে। জেলার মহেশখালী, হোয়াইক্যং, রামুর মিঠাছড়ি এবং শহরের কালুরদোকান, পাহাড়তলি ও রুমালিয়ারছড়া এলাকায় প্রাদুর্ভাব সবচেয়ে বেশি।’’
মোহাম্মদ আলমগীর আরও বলেন, ‘‘হামের টিকা ৯ মাস ও ১৫ মাস বয়সে দুইবার দেওয়া হয়। কক্সবাজারের ৯৫ শতাংশ শিশুকে এই টিকার আওতায় আনা হয়েছে। টিকার পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে।’’
চিকিৎসকরা বলছেন, ভিটামিন-এ এর অভাবে হাম হয়ে থাকে। অভিভাবকরা সচেতন হলে হাম প্রতিরোধ করা সম্ভব।
হাম হলে শিশুদের বাড়ির পাশের ফার্মেসিতে না নিয়ে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।
কেকে/এসএ