নোয়াখালীর সোনাইমুড়ীতে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যের কঠোর নিষেধাজ্ঞা ও ‘জিরো টলারেন্স’ ঘোষণার পরও রাতের আঁধারে ফসলি জমি থেকে অবাধে মাটি কাটার অভিযোগ উঠেছে।
সরেজমিনে বুধবার (১ এপ্রিল) রাত ৯টার দিকে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে গিয়ে দেখা যায় ভিন্ন চিত্র। গ্রামাঞ্চলের পাকা সড়কে হ্যান্ড ট্রাক্টর ও পিকআপ ভ্যানের অবাধ চলাচল, আর রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সক্রিয় হয়ে ওঠে মাটি কাটার চক্র। ড্রেজার ও এক্সকাভেটর ব্যবহার করে কৃষিজমি, খাল-বিল থেকে মাটি কেটে নেওয়া হচ্ছে, যার ফলে শত শত একর ফসলি জমি নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি ভাঙন ও জলাবদ্ধতার ঝুঁকি বাড়ছে।
স্থানীয় সমাজকর্মী রোমান জানান, জয়াগ, চাষীরহাট, বজরা, নাটেশ্বর, কালিকাপুর, পশ্চিম দৌলতপুর, বারুল, আমিশাপাড়া, নান্দিয়াপাড়া, শিবপুর, ভুরপিট, জুনুতপুর ও আনন্দীপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় ফসলি জমির মাটি কেটে ইটভাটায় বিক্রি করা হচ্ছে। কেউ কেউ বাড়ির ভিটা তৈরির জন্যও এসব মাটি কিনছেন। এতে দিন দিন কমে যাচ্ছে আবাদি জমি এবং ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে পরিবেশ।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রভাবশালী চক্র রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় অবৈধভাবে মাটি উত্তোলন করে আসছে। রাতভর ভেকু দিয়ে মাটি কাটার কারণে এলাকার সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, ধুলাবালিতে বাড়িঘর ক্ষতির মুখে পড়ছে এবং যানবাহনের শব্দে জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে।
আমিশাপাড়া ইউনিয়নের কৃষক কাইয়ুম বলেন, ‘দিন-রাত মাটি কাটার কারণে ফসলি জমি পুকুরে পরিণত হচ্ছে। জমির মাটি বিক্রি না করলে ভয়ভীতি দেখানো হয়।’
জয়াগ ইউনিয়নের কৃষক সিদ্দিক জানান, প্রশাসনকে একাধিকবার জানানো হলেও তারা কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক রাজনৈতিক নেতার অভিযোগ, এমপির কঠোর নির্দেশনা থাকলেও তা মানা হচ্ছে না। প্রশাসনও অনেক ক্ষেত্রে নীরব ভূমিকা পালন করছে।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাসরিন আক্তারের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
কেকে/ এমএস