জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলায় কিস্তি আদায় করতে গেলে ঋণগ্রহীতা কর্তৃক শাখা ব্যবস্থাপকসহ ছয় এনজিও কর্মীকে রাত ৮টা থেকে রাত তিনটা পর্যন্ত বাড়িতে আটকে রেভে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
সোমবার (৩০ মার্চ) জয়পুরহাট সদর উপজেলার শালপাড়া বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী এনজিও কর্মী বাদী হয়ে চারজনের নামসহ অজ্ঞাত নামা ৮-১০ জনকে আসামি করে জয়পুরহাট সদর থানায় এজাহার দায়ের করেছেন।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, জয়পুরহাটের স্থানীয় সংস্থা জয়পুরহাট রুরাল ডেভেলপমেন্ট মুভমেন্টের (জেআরডিএম) পাঁচবিবি শাখা হতে ২০২৫ সালের ১৩ মে মৎস্য চাষের জন্য সদর উপজেলার শেখপাড়া গ্রামের মো. মিনহাজুল ইসলামের স্ত্রী মোছা. রহিমা বেগম ৫ লক্ষ টাকা ঋণ নেন। ঋণের চুক্তিনামা ভঙ্গ করে বিভিন্ন সময় রহিমা বেগম এনজিওটিতে ৩ লক্ষ ৩০ হাজার টাকা কিস্তি পরিশোধ করেন। পরে অবশিষ্ট ১ লক্ষ ৭০ হাজার টাকা পরিশোধে তালবাহনা করতে থাকে।
ঘটনার দিন মোবাইল ফোনে টাকা পরিশোধের কথা বলে রহিমা বেগমের স্বামী মো. মিনাজুল ইসলাম জেআরডিএম পাঁচবিবি শাখার ব্যবস্থাপক মো. জাহিদুল ইসলামকে (৩০) বাড়ি আসতে বলেন। তিনি ঐ শাখার ক্রেডিট অফিসার সাইফুল ইসলাম ও মো. আবু নাছের মুছাকে সঙ্গে নিয়ে ঋণ গ্রহীতার বাড়িতে গেলে পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী মো. মিনহাজুল ও অন্য আসামীরা তাদের বাড়িতে আটকে রাখেন ও দেশীয় অস্ত্র দ্বারা তাদের উপর অমানুসিক নির্যাতন চালাতে থাকে।
এ সময় কৌশলে ক্রেডিড অফিসার সাইফুল ইসলাম আটকের বিষয়টি মোবাইলে অফিসে জানালে আবু মুছা মন্ডলসহ রাতেই আরো কয়েক জন স্টাফ সেখানে গেলে তাদেরও একই কায়দায় আটকে রেখে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতে থাকে এবং তাদের নিকট থাকা ওই দিনের কিস্তি আদায়ের ৭৫ হাজার টাকা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেন।
পরবর্তী জয়পুরহাট প্রধান কার্যালয় বিষয়টি জানতে পেরে পাঁচবিবি থানাকে জানালে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওই রাতেই ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জয়পুরহাট সদর থানাকে জানান। তবে এর মধ্যে স্থানীয় এক বিএনপি নেতা থানা সূত্র থেকে বিষয়টি জানতে পেরে রাত ৩টার দিকে ঘটনাস্থল থেকে তাদের উদ্ধার করেন। পরে তাদেরকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে (মহীপুর) চিকিৎসা দেওয়া হয়।
এ বিষয়ে কথা বলতেদ মিনহাজুল ইসলামের মোবাইলে একাধিকবার ফোন দিলেও তিনি বিভিন্ন অজুহাত ও তালবাহনা দেখিয়ে সংযোগ বিছিন্ন করে দেন।
জয়পুরহাট সদর থানার ওসি আনিছুর রহমান বলেন, ‘এ বিষয়ে বাদির লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।’
কেকে/এমএ