মৌলভীবাজারে ৬২ কোটি ৮৫ লক্ষ টাকা ব্যয়ে ৯টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নতুন ভবন তৈরির কাজ সম্পন্ন করেছে জেলা শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর। নতুন ভবন নির্মাণের ফলে একদিকে যেমন শ্রেণিকক্ষ সংকট দূর হয়েছে, তেমনিভাবে আধুনিক মানের ভবনে ক্লাস করার সুযোগ পেয়ে বেশ উচ্ছসিত শিক্ষার্থীরা।
জানা যায়, মৌলভীবাজার সদর উপজেলায় মৌলভীবাজার সরকারি মহিলা কলেজে ছয়তলা বিশিষ্ট ভবন, জেলার শ্রীমঙ্গলে বর্মাছড়া টি গার্ডেন স্কুল অ্যান্ড কলেজে ছয়তলা বিশিষ্ট ভবন, শ্রীমঙ্গল সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে ছয়তলা বিশিষ্ট ভবন, মৌলভীবাজার সদর উপজেলায় মৌলভীবাজার টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজে পাঁচতলা বিশিষ্ট ভবন, রাজনগর উপজেলায় রাজনগর টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজে পাঁচতলা বিশিষ্ট ভবন, বড়লেখা উপজেলায় বড়লেখা জামেয়া ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসায় চারতলা বিশিষ্ট ভবন, কুলাউড়ায় বরমচাল হজরত খন্দকার (র.) দাখিল মাদ্রাসায় চারতলা বিশিষ্ট ভবন, কমলগঞ্জে ওসমান আলী ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসায় চারতলা বিশিষ্ট ভবন ও জুড়ী জাঙ্গিরাই দাখিল মাদ্রাসায় চারতলা বিশিষ্ট ভবন নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হয়েছে।
জানা গেছে, মৌলভীবাজার জেলা সদর, শ্রীমঙ্গল, রাজনগর, বড়লেখা, কুলাউড়াসহ বিভিন্ন উপজেলায় সরকারি এবং বেসরকারিভাবে প্রতিষ্ঠিত হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ, দাখিল, আলিম, ফাজিল মাদ্রাসা ও সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজে মানসম্পন্ন ভবন বা অবকাঠামো না থাকায় দীর্ঘদিন ধরে শ্রেণিকক্ষ সংকটসহ আনন্দমুখর পরিবেশে শিখন শেখানো কাজে শিক্ষার্থীরা বঞ্চিত হচ্ছিল। ঠিক এ সময় সরকারের নেওয়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ভবন নির্মাণ প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নের মাধ্যমে মৌলভীবাজার জেলা শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর শ্রেণিকক্ষ সংকট নিরসনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিক পালন করেছে। সরকারের নেওয়া এসব প্রকল্প বাস্তবায়ন করায় গ্রামীণ পর্যায়ে এর ইতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। এক সময়ে বাঁশ, কাঠ ও টিনের তৈরি প্রতিষ্ঠানগুলো এখন বহুতল ভবনে রূপান্তরিত হয়ে উচ্চশিক্ষার প্রসারে সহায়ক ভূমিকা পালন করছে।
মৌলভীবাজার জেলা শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর সূত্র জানায়, মৌলভীবাজারে উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থাকে এগিয়ে নিতে মাঠ পর্যায়ে ব্যাপক কাজ করছে জেলা শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর। সম্প্রতি জেলায় ৯টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নতুন ভবন তৈরির কাজ শেষ করা হয়েছে। এ নয়টি প্রতিষ্ঠানে মোট ব্যয় হয়েছে ৬২ কোটি ৮৫ লক্ষ টাকা। সমাপ্তকৃত ভবনগুলো এখন আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের অপেক্ষায় রয়েছে। এছাড়া ২৩ কোটি ৬০ লক্ষ টাকা ব্যয়ে চারতলা বিশিষ্ট আরো ৮টি নতুন ভবণ নির্মাণ কাজ প্রায় শেষের পথে। আগামী ৩০ জুন এ নয়টি ভবন নির্মাণ কাজ শেষ হবে।
জানা গেছে, দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা জেলার শ্রীমঙ্গল, কমলগঞ্জ, জুড়ী, রাজনগর, বড়লেখা, কুলাউড়া ও সদর উপজেলায় আরো ৩২টি একতলা বিশিষ্ট একাডেমিক ভবন নির্মাণ কাজ বাতিল করে পুনরায় দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। যার ব্যয় ধরা হয়েছে ২৯ কোটি ২৭ হাজার টাকা। দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নির্মাণ কাজ পুনরায় শুরু হওয়ায় প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ, শিক্ষার্থী ও অভিভাবক মহলে স্বস্তি ফিরেছে। জেলাজুড়ে এর ইতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে।
একাধিক প্রতিষ্ঠানের প্রধান জানান, দীর্ঘদিন ধরে কাজ ঝুলে থাকায় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শ্রেণি পাঠদান কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছিল। তবে নির্বাহী প্রকৌশলী রতিশ চন্দ্র সেন যোগদানের পর পুনরায় দরপত্র আহ্বানের মাধ্যমে কাজ শুরু ও শেষের ফলে প্রতিষ্ঠানে শ্রেণি সংকট নিরসন হয়েছে এবং উপস্থিতিও বেড়েছে। শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরাও খুশি।
কাজের অগ্রগতি জানতে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রধানের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে ভবন নির্মাণ কাজের মান নিয়ে তারা সন্তোষ প্রকাশ করেন। তবে কিছু কাজ বাকি থাকলেও তা দ্রুত সম্পন্ন হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তারা।
মৌলভীবাজার জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. ফজলুর রহমান বলেন, ‘এ জেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভবন না থাকায় শ্রেণিকক্ষ নিয়ে প্রকট সংকট সৃষ্টি হয়েছিল। জেলা শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের মাধ্যমে সদ্য সম্পন্ন হওয়া ৯টি প্রতিষ্ঠানে শ্রেণিকক্ষ সংকট দূর হয়েছে। তবে পুরোপুরি সংকট দূর হবে, তখনই যখন চলমান সব ভবন নির্মাণ সম্পন্ন হবে। নতুন ভবনগুলোর ফলে উন্নত শিক্ষা পরিবেশ নিশ্চিত হবে এবং শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিও বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।’
মৌলভীবাজার শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী রতীশ চন্দ্র সেন বলেন, ‘আমি মৌলভীবাজারে যোগদানের পর খোঁজ নিয়ে যেসব প্রতিষ্ঠানে শ্রেণিকক্ষ সংকট প্রকট ছিল সেসব প্রতিষ্ঠানে অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে কাজ শুরু করে নির্ধারিত মেয়াদে কাজ শেষ করার চেষ্টা করেছি। কাজের মান যাতে ভালো হয়, সরজমিনে তদারকি করেছি। তবে জুলাই পরবর্তী ঠিকাদার জটিলতায় কাজে কিছু ব্যাঘাত ঘটছিল। কিন্তু এসব বন্ধ কাজেরও পুনরায় দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে।’
কেকে/এমএ