গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলায় ডিবিএল গ্রুপের জিন্নাত নিটওয়্যার লিমিটেডের তিন কর্মকর্তাকে মুক্তিপণের দাবিতে তুলে নিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর আহত করেছে সন্ত্রাসীরা। এ সময় মোটা অংকের মুক্তিপণ দাবি করেছে চিহ্নিত সন্ত্রাসীরা। পুলিশ অভিযান চালিয়ে চক্রের পাঁচ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে। তবে ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছে মূলহোতা ইমন।
বুধবার (১ এপ্রিল) রাতে উপজেলার তেলিহাটি ইউনিয়ন ধনুয়া গ্রামের জিন্নাত নিটওয়্যার লিমিটেড কারখানায় এ ঘটনা ঘটে।
আহতরা সবাই ওই কারখানার কর্মকর্তা।
অপহরণের শিকার হলেন কাটিং সেকশনের অফিসার নিশাদ (৩৫), মিঠুন (৩২) ও অরুপ কুমার (৩৮)।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন শাহীন আলম(২৬), নয়ন মিয়(৩৪), রবিন (৩০) দুলাল মিয়া (৩৩) ও মাহাবুব হোসেন (৩০)। তাদের সবার বাড়ি শ্রীপুর উপজেলার ধনুয়া গ্রামে। তারা সবাই চিহ্নিত অপরাধ চক্রের সদস্য।
গাজীপুর ইউনিয়ন বিএনপি আহ্বায়ক মো. এনামুল হক মনি বলেন, ‘অভিযুক্ত চিহ্নিত সন্ত্রাসী ইমনের বাড়ির পাশ থেকে কারখানার তিন কর্মকর্তাকে উদ্ধার করা হয়েছে। তাদেরকে এলোপাতাড়ি ভাবে কুপানো হয়েছে।’
কারখানার সামনের দোকানি মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘আনুমানিক রাত ১০টার দিকে কারখানার তিন অফিসার চায়ের স্টলে আসে। এ সময় হঠাৎ কয়েকজন দেশিয় অস্ত্র নিয়ে তিনজনকে মারধর করে তুলে নিয়ে যায়। চিৎকার দিলে আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসলে সবাইকে ভয়ভীতি ও হুমকি দিয়ে তাদের নিয়ে যায়।
জিন্নাত নিটওয়্যারের এইচআর (এডমিন) মাহামুদুল হুদা বলেন, ‘রাতে কারখানার তিন কর্মকর্তা প্রধান ফটকের সামনে চা নাস্তা খেতে যায়। এ সময় বেশ কয়েকজন এসে তাদের তুলে নিয়ে যায়। আমরা খবর পেয়ে সাথে সাথে পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করি। তিন ঘণ্টা খোঁজা খোজি করে পায়নি। পরবর্তী চিহ্নিত সন্ত্রাসী ইমনের বাড়ির পাশে তাদের রক্তাত অবস্থায় পায়। এরপর তাদের উদ্ধার করে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। তাদের অবস্থা খুবই আশংকাজনক।’
শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ নাছির আহমদ বলেন, ‘অতিরিক্ত পুলিশ নিয়ে অভিযান চালিয়ে তিনজনকে উদ্ধার করা হয়েছে। তাদেরকে মারাত্মকভাবে কুপানো হয়েছে। ধারালো অস্ত্র দিয়ে হাত-পাসহ শরীরে প্রচুর আঘাত করে। তাদের মধ্যে দুইজনের অবস্থা আশংকাজনক।’
‘রাতভর অভিযান চালিয়ে ঘটনার সঙ্গে জড়িত পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পলাতক রয়েছে চক্রের তিন সদস্য। তাদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। এ বিষয়ে মামলা রুজু হয়েছে।’
কেকে/এমএ