চট্টগ্রাম জেলার সীতাকুণ্ড উপজেলায় দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রীকে পাহাড়ে নিয়ে ধর্ষণ চেষ্টার ঘটনায় মামলা করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় নাজিম (২৪) নামের ওই যুবককে পুলিশকে সোপর্দ করেছেন এলাকাবাসী।
বুধবার (১ এপ্রিল) উপজেলার ৯ নম্বর ভাটিয়ারী ৪ নম্বর ওয়ার্ড পূর্ব হাসনাবাদ গোয়ালিনী ফেক্টরি সংলগ্ন পাহাড়ে এ ঘটনা ঘটে।
গ্রেপ্তার নাজিম একই এলাকার নাছিরের ছেলে।
স্কুল ছাত্রীর পিতা আল আমীন শেখ জানান, আমি আর আমার স্ত্রী দৈনিক মজুরিতে কাজ করি। কাজের সন্ধানে বাহিরে যাই। বাড়িতে আমার মেয়ের কাছে পানির জন্য আসে এক যুবক। ঘরের বাহিরে গেলে নাজিম নামে একটি ছেলে মুখ চেপে ধরে কোলে তুলে পাহাড়ের উপরে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। প্রতিবেশিরা এটি দেখে ফেলে এবং হাতে নাতে ওই ছেলেকে ধরে ফেলে। পরে প্রতিবেশির মাধ্যমে জানার পর আমি বাসায় পৌঁছে জরুরি ৯৯৯ নম্বরে ফোন করলে পুলিশ এসে নাজিমকে গ্রেপ্তার করে।
প্রতিবেশি আলতাফ বলেন, ‘মেয়েটির মা-বাবা অত্যন্ত গরীব। দৈনিক মজুরিতে কাজ করতে বাহিরে চলে যায়। কেউ বাড়িতে ছিলো না। তার একটি ছোট ভাই ছিলো। ধর্ষণের চেষ্টাকারী নাজিম তাদের বলেছে, আমাকে একটু পানি দাও। পানি খাওয়ার পরে ছোট ভাইকে বলে তোমার আব্বু তোমাকে ডাকছে। মেয়ের ভাই ছোট থাকায় বাবার খোঁজে চলে যায়। এ সময় খালি বাসায় মেয়েটিকে জরিয়ে ধরে। পরে মুখ চেপে কাধে তুলে নিয়ে নেয় নাজিম। জোরপূর্বক মেয়েটিকে পাহাড়ের দিকে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে।’
তিনি আরও বলেন, ‘এ সময় প্রতিবেশি এক বৃদ্ধ নারী চিৎকার দিয়ে সবাইকে ডাকে। দৌড়ে গিয়ে দেখি মেয়েটিকে ফেলে পাহাড়ের দিকে চলে যায়। এ সময় তার হাতে একটি লোহার রড দেখতে পাই। ছেলেটিকে ধরার জন্য আশেপাশের সবাইকে জানাই। পরে ছেলেটিকে ধরে আমরা পুলিশের কাছে সোপর্দ করি। এই ছেলেসহ কয়েকজন মিলে এখানে বিভিন্ন অপরাধ করে। কয়েক দিন পরপরই বিভিন্ন অপরাধ করে বসে। ছেলেটির পরিবার আগে ৩ নম্বর বাজারে থাকত।’
সীতাকুণ্ড থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মাহমুদুল হাসান বলেন, ‘গ্রেপ্তারের পর আসামিকে হাজতে পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি অত্যন্ত স্পর্শকাতর। এটি গুরুত্বের সাথে আমরা দেখছি। এ ব্যাপারে মামলা দায়ের করা হয়েছে।’
কেকে/এমএ