গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় নাস্তার প্রলোভন দেখিয়ে দ্বিতীয় শ্রেণীতে পড়ুয়া ১০ বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে উঠেছে প্রতিবেশী সৈয়দ আলী ওরফে কারেন্ট সৈয়দ (৫২) নামের এক ইলেকট্রনিকস ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী শিশুটির বাবা।
বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ৯টার ঘটনার দিকে এই ঘটনা ঘটে।
শুক্রবার (৩ এপ্রিল) বিকালে সুন্দরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তাজুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
অভিযুক্ত সৈয়দ আলী ওফরে কারেন্ট সৈয়দ উপজেলার বেলকা ইউনিয়নের পূর্ব বেলকা গ্রামের মৃত ইয়াছিন আলীর ছেলে। তিনি বেলকা বাজারের ইলেকট্রনিকস ব্যবসায়ী ও বেলকা বাজার বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক।
মামলা সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে এই ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত সৈয়দ আলী প্রতিবেশী ওই শিশুকে আঙিনা পরিষ্কারের কথা বলে নিজ বাড়িতে ডেকে নেন। শিশুটির পরিবার সরল বিশ্বাসে ওই শিশুকে সেখানে পাঠায়। বাড়িতে কেউ না থাকায় নাস্তা খাওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ওই শিশুকে ঘরে নিয়ে যায় সৈয়দ আলী। ঘরে নিয়ে শিশুটিকে ধর্ষণ করে। এ সময় শিশুটি কান্না করতে করতে বাড়িতে ফিরে এসে পরিবারের সদস্যদের কাছে ঘটনার বিস্তারিত জানায়। পরে রাতে শিশুটির বাবা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন। ঘটনার পর থেকেই পলাতক আছেন অভিযুক্ত ওই ব্যক্তি।
পালানোর আগে ধর্ষণের অভিযোগকে ভিত্তিহীন দাবি করে অভিযুক্ত সৈয়দ আলী বলেন, ‘‘আমার বিরুদ্ধে দায়ের করা ধর্ষণের অভিযোগ মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন। এটি একটি পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র, যা আমার ব্যক্তিগত জীবন এবং পারিবারিক ও সামাজিক অবস্থানকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। আমি একজন ব্যবসায়ী, জামায়াত বা অন্যকোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত নই। সত্যকে আড়াল করে মিথ্যা আশ্রয় নেওয়া হয়েছে, যা নিন্দনীয় এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ। সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অনুরোধ করছি, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত তথ্য উদঘাটন করা হোক।’’
সুন্দরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তাজুল ইসলাম বলেন, ‘‘দ্বিতীয় শ্রেণীর পড়ুয়া এক শিশুকে ধর্ষণের ঘটনায় মামলা হয়েছে। আসামিকে গ্রেপ্তার করতে পুলিশ ব্যাপক তৎপর আছে।’’
ঘটনাকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জামায়াতকে জড়িয়ে অপপ্রচারের অভিযোগে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী বেলকা ইউনিয়ন শাখার আমির একেএম নাজমুল হুদা ও সেক্রেটারি মাওলানা ওয়াহেদুজ্জামান এক যৌথ বিবৃতিতে বলেন, অভিযুক্ত সৈয়দ আলী জামায়াতের কোনো পর্যায়ের নেতা বা কর্মী নন; তাকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত করা হচ্ছে।
তারা এ ধরনের অপপ্রচারকে দুঃখজনক ও বিভ্রান্তিকর উল্লেখ করে প্রকৃত অপরাধীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান।
একইসঙ্গে যাচাই-বাছাই ছাড়া তথ্য প্রচার না করার আহ্বান জানিয়ে ভবিষ্যতে মিথ্যা প্রচারণা চালালে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন।
কেকে/এসএ