নীলফামারী জেলা সদরের টুপামারী ইউনিয়নে পরকিয়া প্রেমের জেরে মতিউল ইসলাম (৪৫) নামে এক ব্যক্তিকে গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করেছে।
বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) রাত সাড়ে ১০টার দিকে ইউনিয়নের কিসামত দোগাছি গ্রামে এই ঘটনা ঘটে।
নিহত মতিউল ইসলাম গ্রামের আব্দুল হামিদের ছেলে।
স্থানীয়রা জানান, নিহত মতিউল ইসলাম প্রায় ৩ মাস আগে একই গ্রামের একরামুল হকের স্ত্রী সাহের বানুর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে পালিয়ে বিয়ে করেন। প্রায় ১৫-২০ দিন আগে স্বামী একরামুল হক স্ত্রী সাহের বানুকে ফিরিয়ে এনে পুনরায় সংসার করছিলেন।
ঘটনার রাতে মতিউল ইসলাম গ্রামের একটি দোকানের সামনে বসে ছিলেন। এ সময় সাহের বানুর ছেলে আলামিন ইসলাম (২৩) সেখানে এসে একটি ধারালো ছুরি দিয়ে মতিউলের গলা কেটে পালিয়ে যায়। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে ঘটনাস্থলে নিহত হন মতিউল ইসলাম।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক গ্রমের একাধিক ব্যক্তি বলেন, সাহের বানুর সঙ্গে মতিউলের প্রেমের সম্পর্ককে কেন্দ্র করে ওই দুই পরিবারের মধ্যে কয়েক বছর ধরে বিবাদ চলে আসছিলো। প্রায় ৩ মাস আগে মতিউল সাহের বানুকে পালিয়ে বিয়ে করেন। তারই ধারাবাহিকতায় মায়ের সঙ্গে অবৈধ সম্পর্কের প্রতিশোধ নিতেই আলামিন ইসলাম ঘটনাটি ঘটাতে পারে।
আলামিন ইসলাম টাইলস মিস্ত্রির কাজ করেন।
আলামিন ইসলাম পলাতক থাকলেও পুলিশ আলামিনের বাবা একামুল হক (৫০), মা সাহের বানু (৪৫) ও ছোট ভাই আপন ইসলামকে (১৬) আটক করেছে।
নীলফামারী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জিল্লুর রহমান বলেন, ‘পরকীয়া প্রেমের জেরে ঘটনাটি ঘটতে পারে। রাতেই নিহতের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। ময়না তদন্তের জন্য শুক্রবার (৩ এপ্রিল) সকালে লাশ নীলফামারী জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার মুল হোতা আলামিন ইসলাম পলাতক রয়েছে। তাকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলমান আছে। তার বাবা, মা ও ভাইকে পুলিশ হেফাজতে রাখা হয়েছে। মামলা প্রক্রিয়াধিন রয়েছে।’
কেকে/এমএ