মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলার দীর্ঘদিনের বঞ্চনা ও অবহেলার অবসান হতে যাচ্ছে। এক সময়ের পরিত্যক্ত জমিতে আজ উন্নয়নের নতুন সূর্যোদয় হয়েছে। মাগুরা জেলা পরিষদের বাস্তবায়নে সংস্কৃতিমন্ত্রী মহম্মদপুর আধুনিক ডুপ্লেক্স ডাকবাংলোর নির্মাণকাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছেন।
শনিবার (৪ এপ্রিল) সকাল ১১টায় ফলক উন্মোচন ও কোদাল দিয়ে মাটি কেটে এই ডাকবাংলোর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়।
মাগুরা জেলা পরিষদের প্রশাসক আলী আহম্মেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন মাগুরা-২ আসনের সাংসদ ও গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী। বিশেষ অতিথি ছিলেন মাগুরা-১ আসনের সাংসদ মনোয়ার হোসেন খান।
উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব খান রোকনুজ্জামানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক ও জেলা পরিষদের নির্বাহী কর্মকর্তা হাসিনা মমতাজ, মাগুরা জেলা পুলিশ সুপার মোল্লা আজাদ হোসেন, উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহ. শাহনুর জামান প্রমুখ।
উল্লেখ্য যে, গত ২০২৫ সালের ২৫ আগস্টে দৈনিক খোলা কাগজ পত্রিকায় সাংবাদিক এসএম ফারহানের ‘‘ডাকবাংলো এখন পরিত্যক্ত জমি’’ শীর্ষক একটি বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।
ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছিল যে, ঐতিহ্যবাহী এই ডাকবাংলোটি দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে জরাজীর্ণ হয়ে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে ছিল। ভবনটি নিলামে ভেঙে ফেলার পর কোনো বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় সরকারি কর্মকর্তা ও অতিথিদের স্কুল বা ভাড়া বাসায় থাকতে হতো; যা উপজেলার প্রশাসনিক ভাবমূর্তির জন্য ছিল অত্যন্ত দুঃখজনক। এমনকি খালি জায়গা থেকে দুষ্কৃতকারীরা মাটি ও গাছপালা কেটে নিয়ে যাচ্ছিল।
সেই সংবাদ প্রকাশের পর স্থানীয় সচেতন মহলের দাবির প্রেক্ষিতে মন্ত্রী ও জেলা পরিষদের বিশেষ উদ্যোগে আজ এই আধুনিক অতিথিশালা নির্মাণের কাজ শুরু হলো।
উদ্বোধনকালে মন্ত্রী বলেন, ‘‘এই আধুনিক ডাকবাংলোটি নির্মিত হলে মহম্মদপুরের আবাসন সমস্যা দূর হবে এবং সরকারি সেবার মান আরও বৃদ্ধি পাবে। এটি শুধু একটি ভবন নয়, বরং মহম্মদপুরের আতিথেয়তা ও ঐতিহ্যের পুনরুদ্ধার।’’
নতুন ডাকবাংলো ভবনের নির্মাণব্যয় ধরা হয়েছে ২ কোটি ২২ লাখ টাকা। আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সংবলিত ডুপ্লেক্স এই ভবনটি নির্মিত হলে এলাকার প্রশাসনিক কার্যক্রমে গতি আসবে।
এলাকার সর্বস্তরের মানুষ এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন এবং একে মহম্মদপুরের উন্নয়নের একটি বড় মাইলফলক হিসেবে দেখছেন।
কেকে/এসএ