মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলায় অটোরিকশা উদ্ধার করে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে এক গৃহবধূকে শ্লীলতাহানি চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় ভুক্তভোগী গৃহবধূ গজারিয়া থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
শনিবার (৪ এপ্রিল) সকালে উপজেলার ভবেরচর ইউনিয়নে এই ঘটনা ঘটে।
অভিযুক্ত মো. ইলিয়াস প্রধান (৫৫) উপজেলার ভবেরচর ইউনিয়নের দুই নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী ফাতেমা বেগম (৩০) ভবেরচর ইউনিয়নের ভিটিকান্দি এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করেন। জীবিকার তাগিদে তিনি একটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা কিনে সেটি ভাড়া দিতেন। তবে তার অটোরিকশাটি সম্প্রতি স্থানীয় কিছু লোক জোরপূর্বক আটকে রাখে। সেটি উদ্ধারের জন্য তিনি ইউপি সদস্য ইলিয়াস প্রধানের শরণাপন্ন হন।
অভিযোগ রয়েছে, রিকশাটি উদ্ধার করে দেওয়ার বিনিময়ে ওই মেম্বার তাকে অনৈতিক প্রস্তাব দেন। এতে রাজি না হওয়ায় ওই নারীকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখানো হয়।
ভুক্তভোগীর দাবি, শনিবার সকালে তিনি জানতে পারেন তার রিকশাটি ইলিয়াস মেম্বারের বাড়িতে রয়েছে। সেখানে রিকশাটি আনতে গেলে মেম্বার পুনরায় তাকে কুপ্রস্তাব দেন। এতে অস্বীকৃতি জানালে অভিযুক্ত তাকে মারধর করেন এবং পরিহিত বস্ত্র ছিঁড়ে শ্লীলতাহানির চেষ্টা চালান। এ সময় তার ব্যবহৃত অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোনটিও ছিনিয়ে নেওয়া হয়।
পরবর্তীতে স্থানীয় এক নারীর সহায়তায় তিনি উদ্ধার পেয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা নেন।
গজারিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক তানজীন নাহার বলেন, ‘‘ফাতেমা বেগম নামের ওই নারী হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। তার শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।’’
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ইলিয়াস প্রধান তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘‘ওই নারী কোথায় থাকেন আমি জানি না। তিনি স্থানীয়দের সামনে আমার মাকে ধাক্কা দিয়েছেন, এর বাইরে কিছু হয়নি। মোবাইল ছিনতাই বা শ্লীলতাহানির অভিযোগ ভিত্তিহীন। থানায় অভিযোগের বিষয়েও আমি অবগত নই।’’
বিষয়টি সম্পর্কে গজারিয়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. সাব্বির হোসেন বলেন, ‘‘এক নারী লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। বিষয়টি গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’’
কেকে/এসএ