ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের আগানগর ইউনিয়নের আমবাগিচা এলাকায় অবস্থিত অবৈধ ও লাইসেন্সবিহীন এসআর লাইটার কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অন্তত পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। তালাবদ্ধ অবস্থায় শ্রমিকদের দিয়ে কাজ করানো এবং আগুন লাগার সময় বের হতে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে মালিক পক্ষের বিরুদ্ধে। মরদেহের সংখ্যা নিয়েও তৈরি হয়েছে বিভ্রান্তি।
স্থানীয় ও স্বজনদের দাবি, ছয়টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং দুই নারী এখনো নিখোঁজ রয়েছে।
শনিবার (৪ এপ্রিল) দুপুর ১টা ১০ মিনিটের দিকে লাইটার তৈরির পর তা পরীক্ষা করার সময় আগুনের সূত্রপাত ঘটে বলে জানায় বেঁচে যাওয়া শিশু শ্রমিক মিম (১১)।
মুহূর্তেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে টিনশেড কারখানাজুড়ে। স্থানীয়রা প্রথমে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালায়, পরে খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সাতটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রায় আড়াই ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে বিকাল সাড়ে তিনটার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
ফায়ার সার্ভিস ঢাকা বিভাগের উপপরিচালক সালেহ উদ্দিন বলেন, ‘এখন পর্যন্ত পাঁচজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। মরদেহগুলো এতটাই পুড়ে গেছে যে, তাদের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। হতাহতের প্রকৃত সংখ্যা নিশ্চিত করতে কাজ চলছে।’
তাদের কাছে কোনো নিখোঁজের তথ্য নেই বলেও জানান তিনি।
তবে, প্রত্যক্ষদর্শী ও উদ্ধারকারী স্থানীয় যুবক শাহীন দাবি করেন, ঘটনাস্থল থেকে ছয়টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে দুইজন নারীকে বাথরুম থেকে এবং এক শিশুসহ কয়েকজনকে ফ্লোর থেকে উদ্ধার করা হয়। এ নিয়ে এলাকায় বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছে।
কারখানা থেকে প্রাণে বেঁচে যাওয়া মিম জানায়, আগুন লাগার সময় মালিকের ছেলে ও দারোয়ান শ্রমিকদের বের হতে বাধা দেন এবং আগুনকে সাধারণ ঘটনা বলে ভেতরে থাকতে বলেন। পরে সে দারোয়ানকে ধাক্কা দিয়ে বাইরে বেরিয়ে আসে।
তার দাবি, কারখানায় প্রায় ৭০ জন শ্রমিক কাজ করতেন, যার মধ্যে ৭-৮ জন বের হতে পারেননি, তাদের মধ্যে তার দাদী হাজেরা রয়েছেন।
ঘটনার পর থেকে সালমা ও হাজেরা নামের দুই নারী নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানিয়েছেন স্বজনরা। নিহতদের পরিচয় এখনো নিশ্চিত করা যায়নি।
ফায়ার সার্ভিস জানায়, এসআর লাইটার কারখানাটি লাইসেন্সবিহীন ছিল এবং আগেও এ বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছিল। তবুও আবাসিক এলাকায় ঝুঁকিপূর্ণ এ ধরনের কারখানা চালু থাকায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, কারখানাটিতে নিয়মিত তালা দিয়ে শ্রমিকদের কাজ করানো হতো এবং অগ্নিকাণ্ডের সময় ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে দেরি করে।
অগ্নিকাণ্ডের পর থেকেই কারখানার মালিক আকরাম হোসেন ও তার ছেলে পলাতক রয়েছে।
দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এম সাইফুল আলম জানান, অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় তদন্ত চলছে এবং কারখানার মালিকপক্ষের অবহেলা বা কোনো গাফিলতি রয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আফতাব আহমেদ বলেন, ‘নিহতদের দাফনের জন্য উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রত্যেক পরিবারকে ২৫ হাজার টাকা করে দেওয়া হয়েছে এবং ঘটনার তদন্ত চলছে।’
আবাসিক এলাকায় এ ধরনের কারখানা আর থাকতে দেওয়া হবে না বলেও জানান তিনি।
কেকে/এমএ