ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলায় আহমেদ হসপিটাল লিমিটেডে সিজারিয়ান (অস্ত্রোপচার) করার পর রাকিবা আক্তার (২২) নামে প্রসূতির মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। রোগীর স্বজনদের দাবি, অদক্ষ ডাক্তার দিয়ে সিজার করতে গিয়ে তাদের মেয়েকে মেরে ফেলা হয়েছে।
শনিবার (৪ এপ্রিল) দিবাগত রাতে এ ঘটনা ঘটে।
মৃত প্রসূতির নাম রাকিবা আক্তার (২২)। তার স্বামী প্রবাসী শফিকুল ইসলামের বাড়ি নবীনগরের লাউর ফতেহপুর গ্রামে।
মৃত্যুর ঘটনায় রোগের ক্ষব্ধ রোগীল স্বজনরা হাসপাতালে ভাংচুর চালায়। এ ঘটনার পর হাসপাতালের চিকিৎসক ও কর্মচারীরা পালিয়ে গেছেন।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। রোববার (৫ এপ্রিল) সকালে লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে পুলিশ।
জানা যায়, শনিবার মধ্যরাতে প্রসব ব্যথা উঠলে রাকিবা আক্তারকে নবীনগর উপজেলা সদরের আহমেদ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে দায়িত্বরত চিকিৎসক ডা. সৈয়দ কামরুজ্জামানের তত্ত্বাবধানে তার সিজারিয়ান অপারেশন সম্পন্ন হয় এবং একটি পুত্র সন্তান জন্মগ্রহণ করে। অপারেশনের কিছুক্ষণ পরই আনুমানিক রাত আড়াইটার দিকে রাকিবার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে।
নবজাতক বর্তমানে স্বজনদের কাছে সুস্থ রয়েছে।
স্বজনদের অভিযোগ, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বিষয়টি স্পষ্টভাবে না জানিয়ে দ্রুত একটি অ্যাম্বুলেন্স ডেকে রাকিবাকে অন্যত্র পাঠানোর উদ্যোগ নেয়।
রাকিবার মা রেহেনা আক্তার বলেন, ‘মেয়েকে অ্যাম্বুলেন্সে তোলার সময় আমার সন্দেহ হয়। কাছে গিয়ে দেখি, তার কোনো শ্বাস-প্রশ্বাস নেই। তখনই বুঝতে পারি, অপারেশনের পরই তার মৃত্যু হয়েছে। আমার মেয়ের সম্পূর্ণ স্বাভাবিক ছিল। গর্ভবতী মায়ের যে ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও চেকআপ করা প্রয়োজন, সবগুলো করা হয়েছে। সেসব রিপোর্টে মেয়ে ও মেয়ের বাচ্চা সম্পূর্ণ স্বাভাবিক ও সুস্থ ছিল।’’
তিনি আরও বলেন, ‘হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ অদক্ষ ডাক্তার দ্বারা অপারেশন করিয়ে আমার মেয়েকে মেরে ফেলেছে। আমি আমার মেয়ের হত্যাকাণ্ডের বিচার চাই।’
স্বজনদের অভিযোগ, রোগীকে অ্যাম্বুলেন্সে তোলার পর হাসপাতালের দায়িত্বরত চিকিৎসক ও কর্মচারীরা দ্রুত সরে পড়েন।
এতে ক্ষুব্ধ হয়ে স্বজনরা শনিবার রাতে ও রোববার সকালে দুই দফা হাসপাতালে ভাঙচুর চালান। খবর পেয়ে নবীনগর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
এ ব্যাপারে বক্তব্য জানতে হাসপাতালের মালিক ফরিদ উদ্দিন আহমেদের সাথে মোবাইলে বার বার যোগাযোগ করার চেষ্টা করে তাকে পাওয়া যায়নি। খুদে বার্তা পাঠালেও কোন জবাব দেননি তিনি।
হাসপাতালের কর্মচারী শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘এই ঘটনার পর রাতেও রোগীর স্বজনরা হাসপাতালে হামলা চালায়। সকালে একজনের মধ্যস্থতায় দুই পক্ষের মধ্যে সমঝোতার আলোচনা চলছিল। এরই মধ্যে হঠাৎ মৃতের স্বজনরা হাসপাতালের ইসিজি রুম ও চিকিৎসকদের কক্ষে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়।’
নবীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাজিব কান্তি নাথ বলেন, ‘অভিযোগের ভিত্তিতে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তাদের অভিযোগ অদক্ষ ডাক্তার ও কর্তৃপক্ষের অবহেলায় এই মৃত্যু ঘটে।হাসপাতাল পরিদর্শন করেছি। কর্তব্যরত কাউকে পাওয়া যায়নি। এ ঘটনার পর তারা পলাতক রয়েছেন।’
কেকে/এমএ