মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার শমশেরনগরে অবস্থিত ক্যামেলিয়া ডানকান ফাউন্ডেশন হাসপাতালে ১০ দিন ধরে চিকিৎসাসেবা বন্ধ হয়েছে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন চা শ্রমিকরা। ডানকান ব্রাদার্স লিমিটেড কোম্পানির অধীনে পরিচালিত এই হাসপাতালটি দীর্ঘদিন ধরে চা শ্রমিকদের নির্ভরযোগ্য চিকিৎসাকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত।
ইংল্যান্ডভিত্তিক ক্যামেলিয়া ডানকান ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত ৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালটি ১৯৯৪ সালে ফাঁড়ি কানিহাটি চা বাগানে প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই ডানকান ব্রাদার্সের মালিকানাধীন ১৫টি চা বাগানের লক্ষাধিক শ্রমিক ও কর্মকর্তা-কর্মচারী এখানে জরুরি চিকিৎসা ও অস্ত্রোপচারসহ বিভিন্ন আধুনিক চিকিৎসাসেবা পেয়ে আসছিলেন। তবে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সংকটের কারণে কয়েক বছর ধরে এখানে অস্ত্রোপচার কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।
জানা যায়, শমশেরনগর চা বাগানের রবিদাস টিলার বাসিন্দা বাবুল রবিদাসের মেয়ে ঐশী রবিদাস মাথাব্যথাজনিত সমস্যায় গত ২৬ মার্চ রাতে হাসপাতালে ভর্তি হয়। পরদিন ২৭ মার্চ সকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু ঘটে। শিশুটির মৃত্যুর জন্য ভুল চিকিৎসাকে দায়ী করে ক্ষুব্ধ শ্রমিকরা হাসপাতালে গিয়ে স্টাফদের অবরুদ্ধ করেন ও একপর্যায়ে ভাঙচুর চালান। এরপর চিকিৎসক ও নার্সদের নিরাপত্তা ঝুঁকির কথা বিবেচনায় হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা বন্ধ রাখা হয়। বর্তমানে প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা কেবল তদারকির দায়িত্ব পালন করছেন।
নিহত শিশুর স্বজনদের দাবি, চিকিৎসায় অবহেলার কারণেই ঐশীর মৃত্যু হয়েছে।
অন্যদিকে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিষয়টি তদন্তের মাধ্যমে পরিষ্কার হওয়া উচিত ছিল। চিকিৎসাসেবা বন্ধ থাকায় শ্রমিকরা এখন উপজেলা ও জেলা হাসপাতালসহ বিভিন্ন স্থানে গিয়ে চিকিৎসা নিতে বাধ্য হচ্ছেন।
স্থানীয় চা শ্রমিক নেতা সীতারাম বীন দ্রুত চিকিৎসাসেবা চালু, অপারেশন কার্যক্রম পুনরায় শুরু এবং মৃত্যুর ঘটনা ও হামলার সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের নেতা রামভজন কৈরী বলেন, ‘‘সহিংসতা কাম্য নয় এবং আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত সমস্যার সমাধান হওয়া উচিত।’’
শমশেরনগর চা বাগান ব্যবস্থাপক ও ডানকান ব্রাদার্সের উপমহাব্যবস্থাপক মো. কামরুজ্জামান বলেন, ‘‘পুরো বিষয়টি ইংল্যান্ডে অবস্থিত ফাউন্ডেশন পর্যবেক্ষণ করছে। নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত চিকিৎসকদের ফিরে আসা কঠিন।’’
হাসপাতালের প্রশাসনিক কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘‘হাসপাতাল খোলা থাকলেও চিকিৎসক অনুপস্থিত থাকায় সেবা প্রদান সম্ভব হচ্ছে না। দ্রুত ইতিবাচক কোনো সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।’’
কেকে/এসএ